ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

উন্নয়নশীল দেশের তিনটি শর্ত পূরণ হবে না: মোশাররফ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উন্নয়নশীল দেশ হতে যেসব শর্ত লাগে সেগুলো সরকার কখনও পূরণ করতে পারবে না বলে দাবি করেছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ৪৮ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীতে বিএনপির একটি আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ কথা বলেন।

অন্যান্য বছর এই আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতেন বেগম খালেদা জিয়া। তবে এবার তিনি কারাগারে থাকায় প্রধান অতিথি করা হয় মোশাররফকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মোশাররফ দাবি করেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে এই উত্তরণ কখনও হবে না।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ হতে জাতিসংঘ যে তিনটি শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে, এই সরকার তা কোনোদিন পূরণ করতে পারবে না।’

জাতিসংঘ বিশ্বের দেশগুলোতে উন্নয়নের দিক থেকে তিন ভাগে ভাগ করে। সবার নিচে থাকে স্বল্পোন্নত দেশ, এরপর উন্নয়নশীল এবং সব শেষে উন্নত দেশ।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। ৪৩ বছর পর গত ১৫ মার্চ জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতিপত্র দেয়। এই উত্তরণের জন্য তিনটি শর্তের দুটি পূরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাংলাদেশ পূরণ করেছে তিনটিই।

নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করলেও ২০২১ সালে উত্তরণের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করবে আর শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে ২০২৪ সালে পুরোপুরি উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের।

অর্থাৎ বাংলাদেশ যেটা অর্জন করেছে সেটা ধরে রাখতে হবে আরও ছয় বছর। এই শর্তগুলো হলো: ১. মাথাপিছু আয় থাকতে হয় এক হাজার ২৩০ ডলার। বাংলাদেশের এটা বর্তমানে এক হাজার ৬১০ ডলার। ২. মানবউন্নয়ন সূচক থাকতে হয় কমপক্ষে ৬৪। বাংলাদেশের এটি ৭২। ৩. অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার সূচক থাকতে হয় ৩২ এর কম। বাংলাদেশে এটা ২৫।

অর্থাৎ, বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থা থেকে না আগালেও ২০২৪ সালে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যাত্রা পুরোপুরি শেষ হবে।আলোচনায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবেও দাবি করেন মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘এটা কারো ডিনাই করা বা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, এটা ঐতিহাসিক সত্য।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘যে চেতনা ধারণ করে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়েছিলেন, সেই চেতনা বাস্তবায়ন হয়নি।’ ‘আমাদের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। কিন্তু দেশে গণতন্ত্রের কী অবস্থা আজকে তার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।’

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নূন্যতম শর্তও নেই-জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে বিএনপি বলেন, ‘যে সরকার বিনাভোটে ক্ষমতায় আসে তারা গণতান্ত্রিক নয়, স্বৈরাচারী সরকার হবে। এখানে কোনো মিথ্যা নয়, সঠিক তথ্য।’

‘শেখ হাসিনা জোর করিয়ে হাত তুলিয়ে ভোটের ওয়াদা করাচ্ছেন। আর বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে। এটা স্বৈরাচারী সরকারের কাজ। এটা গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না।’

প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির পাঁচ সদস্য মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইমলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

উন্নয়নশীল দেশের তিনটি শর্ত পূরণ হবে না: মোশাররফ

আপডেট সময় ০৮:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উন্নয়নশীল দেশ হতে যেসব শর্ত লাগে সেগুলো সরকার কখনও পূরণ করতে পারবে না বলে দাবি করেছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ৪৮ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীতে বিএনপির একটি আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ কথা বলেন।

অন্যান্য বছর এই আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতেন বেগম খালেদা জিয়া। তবে এবার তিনি কারাগারে থাকায় প্রধান অতিথি করা হয় মোশাররফকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মোশাররফ দাবি করেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে এই উত্তরণ কখনও হবে না।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ হতে জাতিসংঘ যে তিনটি শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে, এই সরকার তা কোনোদিন পূরণ করতে পারবে না।’

জাতিসংঘ বিশ্বের দেশগুলোতে উন্নয়নের দিক থেকে তিন ভাগে ভাগ করে। সবার নিচে থাকে স্বল্পোন্নত দেশ, এরপর উন্নয়নশীল এবং সব শেষে উন্নত দেশ।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। ৪৩ বছর পর গত ১৫ মার্চ জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতিপত্র দেয়। এই উত্তরণের জন্য তিনটি শর্তের দুটি পূরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাংলাদেশ পূরণ করেছে তিনটিই।

নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করলেও ২০২১ সালে উত্তরণের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করবে আর শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে ২০২৪ সালে পুরোপুরি উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের।

অর্থাৎ বাংলাদেশ যেটা অর্জন করেছে সেটা ধরে রাখতে হবে আরও ছয় বছর। এই শর্তগুলো হলো: ১. মাথাপিছু আয় থাকতে হয় এক হাজার ২৩০ ডলার। বাংলাদেশের এটা বর্তমানে এক হাজার ৬১০ ডলার। ২. মানবউন্নয়ন সূচক থাকতে হয় কমপক্ষে ৬৪। বাংলাদেশের এটি ৭২। ৩. অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার সূচক থাকতে হয় ৩২ এর কম। বাংলাদেশে এটা ২৫।

অর্থাৎ, বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থা থেকে না আগালেও ২০২৪ সালে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যাত্রা পুরোপুরি শেষ হবে।আলোচনায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবেও দাবি করেন মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘এটা কারো ডিনাই করা বা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, এটা ঐতিহাসিক সত্য।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘যে চেতনা ধারণ করে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়েছিলেন, সেই চেতনা বাস্তবায়ন হয়নি।’ ‘আমাদের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। কিন্তু দেশে গণতন্ত্রের কী অবস্থা আজকে তার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।’

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নূন্যতম শর্তও নেই-জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে বিএনপি বলেন, ‘যে সরকার বিনাভোটে ক্ষমতায় আসে তারা গণতান্ত্রিক নয়, স্বৈরাচারী সরকার হবে। এখানে কোনো মিথ্যা নয়, সঠিক তথ্য।’

‘শেখ হাসিনা জোর করিয়ে হাত তুলিয়ে ভোটের ওয়াদা করাচ্ছেন। আর বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে। এটা স্বৈরাচারী সরকারের কাজ। এটা গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না।’

প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির পাঁচ সদস্য মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইমলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।