ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, একজনের মৃত্যু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: জোনায়েদ সাকি অনিয়মের প্রমাণ থাকলে যেকোনো বিচার মেনে নিতে প্রস্তুত: আসিফ এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, প্রাণে রক্ষা পেলেন রোগীসহ চারজন ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের ‘ক্ষমতায় গেলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি’:রিজভী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ইসি আনোয়ারুল বিসমিল্লাহ সারা জীবন থাকবে, সব সময়ই থাকবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ইসি যোগ্যতার সঙ্গেই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে: মির্জা ফখরুল

নারীরাই চালাচ্ছেন ঢাকার সরকারি প্রাইমারি স্কুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোতে নারী শিক্ষকদের প্রাধান্য। স্কুলগুলোতে নারী শিক্ষকের সংখ্যা শুধু বেশিই নয়। এমন শতাধিক স্কুল রয়েছে যেখানে কোনো পুরুষ শিক্ষকই নেই।

গত বছরের ঢাকা মহনগরীর স্কুলগুলোরে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে ৩ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ শিক্ষক মাত্র ৪৮৪ জন। বাকি ২ হাজার ৬৬৪ জনই নারী শিক্ষক। সে হিসাবে ৯৪ শতাংশ শিক্ষকই নারী। শুধু তাই নয়, ৩৪২ স্কুলের মধ্যে ১০২টি স্কুলে কোনো পুরুষ শিক্ষকই নেই।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিকে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক নিয়োগ পান। বাকি ৪০ শতাংশ পুরুষ কোটা রয়েছে। সারা দেশের চিত্রই এভাবে হওয়ার কথা থাকলেও ঢাকায় নারী শিক্ষকের সংখ্যা বেশি।

মিরপুর ২ নং সেকশনের ন্যাশনাল সকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষক ১২ জন। এরা সকলেই নারী শিক্ষক। মিরপুর ১ নং সেকশনের পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬ জন শিক্ষকের মধ্যে সকলেই নারী। একই ভাবে ন্যাশনাল বিকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন, মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯ জন, নবাবেরবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন, কল্যাণপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯ জন, ১৩ নং সেক্টরের বাইলজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩ জনের সকলেই নারী শিক্ষক।

৬ নং বিজিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। এই স্কুলে ১৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৫ জন নারী। ৩৮ নং লালবাগ স্কুলে ৩৪০ জন শিক্ষার্থী ছিল গত বছর। আর শিক্ষক ছিলেন ৯ জন। যারা সকলেই নারী।

ঢাকায় শিক্ষক সংকট রয়েছে। সূত্রাপুরের ফরিদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গত বছর ৫৬০ জন শিক্ষার্থী ছিল। তবে শিক্ষক সংখ্যা ৮ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষক ৭ জন। প্রতি ৪০ জনের জন্য একজন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও এখানে নিয়ম অনুযায়ী কম শিক্ষক রয়েছেন।

আবার কোথাও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। গত বছরের হিসাব অনুযায়ী জিন্দাবাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকই নারী। এ স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ১৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৯ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৭ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৮ জন মিলে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৪৫ জন।

কোতোয়ালীর হামিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষকের মধ্যে নারী শিক্ষক ৩ জন। ২০১৭ সালে শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল মোট ৪০ জন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ১০, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮, তৃতীয় শ্রেণিতে ৪, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩ জন ও ৫ম শ্রেণিতে ২ জন শিক্ষার্থী ছিল। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহিন আরা বেগম বলেন, ঢাকার জন্য পৃথক কোনো হিসাব নেই। ঢাকার প্রতিটি থানা অনুযায়ী হিসাব করলে পুরুষ ৪০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষক ৬০ শতাংশ রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই কর্মকর্তার বক্তব্যের সাথে তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

নারীরাই চালাচ্ছেন ঢাকার সরকারি প্রাইমারি স্কুল

আপডেট সময় ১০:৩৭:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোতে নারী শিক্ষকদের প্রাধান্য। স্কুলগুলোতে নারী শিক্ষকের সংখ্যা শুধু বেশিই নয়। এমন শতাধিক স্কুল রয়েছে যেখানে কোনো পুরুষ শিক্ষকই নেই।

গত বছরের ঢাকা মহনগরীর স্কুলগুলোরে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে ৩ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ শিক্ষক মাত্র ৪৮৪ জন। বাকি ২ হাজার ৬৬৪ জনই নারী শিক্ষক। সে হিসাবে ৯৪ শতাংশ শিক্ষকই নারী। শুধু তাই নয়, ৩৪২ স্কুলের মধ্যে ১০২টি স্কুলে কোনো পুরুষ শিক্ষকই নেই।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিকে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক নিয়োগ পান। বাকি ৪০ শতাংশ পুরুষ কোটা রয়েছে। সারা দেশের চিত্রই এভাবে হওয়ার কথা থাকলেও ঢাকায় নারী শিক্ষকের সংখ্যা বেশি।

মিরপুর ২ নং সেকশনের ন্যাশনাল সকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষক ১২ জন। এরা সকলেই নারী শিক্ষক। মিরপুর ১ নং সেকশনের পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬ জন শিক্ষকের মধ্যে সকলেই নারী। একই ভাবে ন্যাশনাল বিকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন, মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯ জন, নবাবেরবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন, কল্যাণপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯ জন, ১৩ নং সেক্টরের বাইলজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩ জনের সকলেই নারী শিক্ষক।

৬ নং বিজিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। এই স্কুলে ১৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৫ জন নারী। ৩৮ নং লালবাগ স্কুলে ৩৪০ জন শিক্ষার্থী ছিল গত বছর। আর শিক্ষক ছিলেন ৯ জন। যারা সকলেই নারী।

ঢাকায় শিক্ষক সংকট রয়েছে। সূত্রাপুরের ফরিদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গত বছর ৫৬০ জন শিক্ষার্থী ছিল। তবে শিক্ষক সংখ্যা ৮ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষক ৭ জন। প্রতি ৪০ জনের জন্য একজন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও এখানে নিয়ম অনুযায়ী কম শিক্ষক রয়েছেন।

আবার কোথাও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। গত বছরের হিসাব অনুযায়ী জিন্দাবাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকই নারী। এ স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ১৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৯ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৭ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৮ জন মিলে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৪৫ জন।

কোতোয়ালীর হামিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষকের মধ্যে নারী শিক্ষক ৩ জন। ২০১৭ সালে শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল মোট ৪০ জন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ১০, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮, তৃতীয় শ্রেণিতে ৪, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩ জন ও ৫ম শ্রেণিতে ২ জন শিক্ষার্থী ছিল। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহিন আরা বেগম বলেন, ঢাকার জন্য পৃথক কোনো হিসাব নেই। ঢাকার প্রতিটি থানা অনুযায়ী হিসাব করলে পুরুষ ৪০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষক ৬০ শতাংশ রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই কর্মকর্তার বক্তব্যের সাথে তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।