ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

বোনকে খেলা দেখাতে গিয়ে মৃত্যু

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ছয় বছরের শিশুটি মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। জড়ানো গলায় কী যেন বলছিল সে। কিছু বুঝতে না পেরে মেয়েকে আদর করে ফের কাজ করতে থাকেন মা। কিন্তু কাজ সেরে বাড়ি ফিরে প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। দেখেন মশারির দড়ি জড়িয়ে তাঁর বড় মেয়ে প্রায় নিথর অবস্থায় শুয়ে আছে।

নিয়তির এমন পরিহাস হয়েছে ডায়মন্ডহারবার থানার লেনিননগরে। বোনের সঙ্গে খেলতে খেলতে এই দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছে আট বছরের দিদি। দুর্ঘটনায় মৃত বালিকার নাম অঙ্কিতা দলুই। শনিবার দুপুরে বোনের সঙ্গে ঘরের ভিতরে বিছানায় খেলা করছিল সে। দিদিই ছিল বোনের খেলার সাথী। দিনভর তারা ঘরময় দৌড়ে বেড়াত। কখনও উঠোনে। কখনও বারান্দায়। আবার কখনও তাদের গাঁয়ের রাস্তায় দেখা যেত। কাদামাটি মেখে ঘরে ফিরে বকুনিও জুটতো।

ঘটনার দিন ঘরে বাড়ির বড়রা কেউ ছিলেন না। মহা আনন্দে দুই বোন দুষ্টুমি করছিল। বিছানা থেকে লাফ দিয়ে মেঝেতে পড়ছিল দিদি। একরত্তি ছোট বোন তা দেখে খুশিতে ডগোমগো। কিন্তু খেলার মাঝে গলায় মশারির দড়ি জড়িয়ে যায় দিদির। ছটফট করতে থাকে সে। বোন প্রথমে ভাবে এটাও খেলার অংশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে গোঙাতে থাকে দিদি। তখন মায়ের কাছে ছুটে যায় সে। জড়ানো গলায় কেঁদে মাকে জানায়। কিন্তু কিছু বুঝে উঠতে পারেননি মা।

যখন মা ঘরে আসেন তখন যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। মা মাঠে কাজ করছিলেন। ঠাকুমা পুকুরে স্নানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। খেলতে খেলতে আচমকা মশারির দড়ির সঙ্গে গলায় ফাঁস লেগে যায় অঙ্কিতার। সামলাতে না পেরে খাট থেকে পড়ে যায় সে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে ছোট্ট মেয়েটি। দড়ির ফাঁস আরও শক্ত হয়ে চেপে বসে গলায়। দিদির ছটফটানির এমন দৃশ্য দেখে অঙ্কিতার বোন ছুটে যায় মায়ের কাছে। কিন্তু ছয় বছরের মেয়ে স্পষ্ট করে সব কথা বলতে পারেনি।

মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। মা খুব বেশি গুরুত্ব দেননি ছোট্ট মেয়ের কান্নায়। কিন্তু পরে কাজ সেরে ঘরে এসে হতচকিত হয়ে পড়েন তিনি। চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর কান্না শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে অঙ্কিতাকে খাট থেকে নামানো হয়। তবে ততক্ষণে ছটফটানি থেমে গিয়েছে তার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আট বছরের ওই বালিকাকে। ওই রাতেই মৃত্যু হয় তার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

বোনকে খেলা দেখাতে গিয়ে মৃত্যু

আপডেট সময় ০৩:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ছয় বছরের শিশুটি মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। জড়ানো গলায় কী যেন বলছিল সে। কিছু বুঝতে না পেরে মেয়েকে আদর করে ফের কাজ করতে থাকেন মা। কিন্তু কাজ সেরে বাড়ি ফিরে প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। দেখেন মশারির দড়ি জড়িয়ে তাঁর বড় মেয়ে প্রায় নিথর অবস্থায় শুয়ে আছে।

নিয়তির এমন পরিহাস হয়েছে ডায়মন্ডহারবার থানার লেনিননগরে। বোনের সঙ্গে খেলতে খেলতে এই দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছে আট বছরের দিদি। দুর্ঘটনায় মৃত বালিকার নাম অঙ্কিতা দলুই। শনিবার দুপুরে বোনের সঙ্গে ঘরের ভিতরে বিছানায় খেলা করছিল সে। দিদিই ছিল বোনের খেলার সাথী। দিনভর তারা ঘরময় দৌড়ে বেড়াত। কখনও উঠোনে। কখনও বারান্দায়। আবার কখনও তাদের গাঁয়ের রাস্তায় দেখা যেত। কাদামাটি মেখে ঘরে ফিরে বকুনিও জুটতো।

ঘটনার দিন ঘরে বাড়ির বড়রা কেউ ছিলেন না। মহা আনন্দে দুই বোন দুষ্টুমি করছিল। বিছানা থেকে লাফ দিয়ে মেঝেতে পড়ছিল দিদি। একরত্তি ছোট বোন তা দেখে খুশিতে ডগোমগো। কিন্তু খেলার মাঝে গলায় মশারির দড়ি জড়িয়ে যায় দিদির। ছটফট করতে থাকে সে। বোন প্রথমে ভাবে এটাও খেলার অংশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে গোঙাতে থাকে দিদি। তখন মায়ের কাছে ছুটে যায় সে। জড়ানো গলায় কেঁদে মাকে জানায়। কিন্তু কিছু বুঝে উঠতে পারেননি মা।

যখন মা ঘরে আসেন তখন যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। মা মাঠে কাজ করছিলেন। ঠাকুমা পুকুরে স্নানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। খেলতে খেলতে আচমকা মশারির দড়ির সঙ্গে গলায় ফাঁস লেগে যায় অঙ্কিতার। সামলাতে না পেরে খাট থেকে পড়ে যায় সে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে ছোট্ট মেয়েটি। দড়ির ফাঁস আরও শক্ত হয়ে চেপে বসে গলায়। দিদির ছটফটানির এমন দৃশ্য দেখে অঙ্কিতার বোন ছুটে যায় মায়ের কাছে। কিন্তু ছয় বছরের মেয়ে স্পষ্ট করে সব কথা বলতে পারেনি।

মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। মা খুব বেশি গুরুত্ব দেননি ছোট্ট মেয়ের কান্নায়। কিন্তু পরে কাজ সেরে ঘরে এসে হতচকিত হয়ে পড়েন তিনি। চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর কান্না শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে অঙ্কিতাকে খাট থেকে নামানো হয়। তবে ততক্ষণে ছটফটানি থেমে গিয়েছে তার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আট বছরের ওই বালিকাকে। ওই রাতেই মৃত্যু হয় তার।