ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি জানাল শিক্ষা বোর্ড

ইতিহাসের এই দিনে, ৮ মার্চ

অাকাশ ইতিহাস ডেস্ক:

আজ বৃহস্পতিবার ৮ মার্চ ২০১৮ সাল

ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে দৈনিক আকাশের পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’।

৮ মার্চ, ২০১৮, বৃহস্পতিবার। ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। একনজরে দেখে নিন ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ক্যালেন্ডারে জায়গা করে নিয়েছে ৮ মার্চ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়। বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন সংগ্রামী অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঐতিহাসিকভাবে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা বিপজ্জনক ও অমানবিক কর্মপরিবেশ, স্বল্প গুলি চালায়। এর তিন বছর পর ১৮৬০ সালের ৮ মার্চ নারী শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নিজস্ব ইউনিয়ন গঠনে ব্যর্থ হয়। এরপর নারীদের বিভিন্নমুখী প্রতিবাদী ভূমিকার প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশ, সমর্থনদান ও সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির প্রতীক হিসেবে একটি দিনকে চিহ্নিত করার চিন্তা-ভাবনা করা হয়। ১৯১০ সালে কোপেন হেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাব অনুসারে ঐতিহাসিকভাবে ৮ মার্চকে বিশ^ নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ৮ মার্চের সূচনা নিউইয়র্কে হলেও এ দিবসটি ইউরোপে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে। দিনটির গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বছরের একটি দিনে নিজ নিজ দেশের ঐতিহাসিক, জাতীয় ঐতিহ্য ও প্রথার আলোকে মহিলাদের অধিকার ও বিশ^ শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালনের জন্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতি আহবান জানায়। রাষ্ট্রসমূহকে মহিলাদের প্রতি বৈষম্যমূলক অবস্থা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টির আহবান জানানো হয় (সিদ্ধান্ত ৩২/১৪২)। জাতিসংঘের কর্মচারীরা ৮ মার্চ তারিখে এ দিবসটি পালন করতো। পৃথিবীর অনেক দেশে ওই তারিখে আন্তর্জাতিক মহিলা শ্রমিক দিবস পালিত হতো। যেহেতু নারী সমাজ শতাধিক বছর ধরে ৮ মার্চ উদযাপন করে আসছিলো তাই তাদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতিসংঘ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করে। এ ঘোষণার ফলে বিশে^র হাজার বছর ধরে অধিকার বঞ্চিত নারী সমাজের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, ও সামাজিক মুক্তির পথ সুগম হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের তাৎপর্য হচ্ছে, পৃথিবীর নারীদের অধিকার কতটুকু অর্জিত হয়েছে এবং তারা কি কি বৈষম্য ও বাধার সম্মুখীন তা মূল্যায়ন ও তুলে ধরা। নারী অধিকার অর্জনে জাতিসংঘের ভূমিকার দীর্ঘ ইতিহাসও আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় । – বিশে^র নারী সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সত্ত্বেও উন্নয়নশীল বিশে^র পল্লী অঞ্চলে তেমন অগ্রগতি হয়নি। অপর দিকে বৈষম্য, শোষণ, নারী ধর্ষণ, নারী অপহরণ, এসিড নিক্ষেপ, যৌন নির্যাতন, নারী পাচার, নারী হত্যাসহ নানাবিধ নির্যাতনের কবল থেকে আজও নারীদের মুক্তি সম্ভব হয়নি। এরকম প্রতিকূল একটি পরিবেশের মধ্যেই প্রতিবছর পালিত হয় নারী দিবস । উদ্বুদ্ধ করা হয় নারীদের অধিকারের প্রতি বিশ^ সমাজকে । নারীর ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বিশ^ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশও সক্রিয়। এ জন্যে সরকারের রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি। নারীদের কল্যাণে কাজ করছে স্বতন্ত্রভাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় । এর কার্যাবলী হচ্ছে মহিলা ও শিশু সম্পর্কিত জাতীয় নীতি, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ, মহিলাদের আইন ও সমাজ অধিকারের বিষয়াদি, মহিলাদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদি।

ফার্সী ১২৬৫ সালের ১৮ই ইস্ফান্দ প্যান ইসলামী আন্দোলনের নেতা এবং মুসলিম বিশ্বের সংগ্রামী আলেম সাইয়েদ জামাল উদ্দিন আসাদাবাদী শহীদ হন। তিনি ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান প্রদেশের আসাদাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রথমে ইরানের কাজভীন পরে ইরাক গমন করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি আরবী, ফার্সী ও তুর্কী ভাষায় ব্যাপক পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন এবং ইংরেজী, ফরাসী, রুশ ভাষাতেও দক্ষ ছিলেন। বিশিষ্ট এই চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক মুসলিম জাতির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিভিন্ন সফর সফর শুরু করেন। সাইয়েদ জামাল উদ্দিন মুসলমানদের জাগিয়ে তোলার জন্য প্যারিস এবং লন্ডন থেকে দুটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এসব পত্রিকার মাধ্যমে তিনি মুসলমানদেরকে ইসলামের মূল চেতনার দিকে ফিরে এসে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান, পাশাপাশি এশিয়ায় ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এসব কারণে ব্রিটিশ সরকার ইস্তাম্বুলে নির্বাসন দেয় এবং ওসমানীয় সা¤্রাজ্যের বাদশাহ তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে।

১৯৬৮ সালের ৮ই মার্চ ফিলিপাইনের মুসলিম স্বাধীনতাকামী সংগঠন ব্জ€˜মোরো ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট’ বা এমএনএলএফ তৎকালীন স্বৈরশাসক মারকোসের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। মার্কিন সমর্থিত স্বৈরশাসক কার্ডিনাল মারকোসের সময় হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা ও বন্দী করার প্রতিবাদে এই সংগঠনটি স্বশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। ১৯৭৭ সালে হাশিম সালামাতের নেতৃত্বে দলটি বিভক্ত হয়ে মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট বা এমআইএলএফ গঠন করে। ১৯৮৬ সালের শেষের দিকে ম্যানিলা সরকার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় আধা-স্বায়ত্বশাসনের শর্তে এমএনএলএফ এর সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১৯৯৭ সরকার এমএনএলএফ -এর সাথে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে কিন্তু ২০০০ সালে ফিলিপাইনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোসেফ এস্ট্রাডা চুক্তিটি বাতিল করে। এরপর মোরো মুসলিম স্বাধীনতাকামী দলগুলো জিহাদ ঘোষণা করে। ২০০৮ সালে ফিলিপাইনের সুপ্রীম কোর্ট এক রায়ে মুসলিম অধ্যুষিত মিন্দানাও অঞ্চলের স্বায়ত্বশাসনের পক্ষে রায় দেয় এবং এ ব্যাপারে মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ফিলিপাইন সরকার এমআইএলএফের সাথে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না বলে ঘোষণা দেয়ায় মুসলিম সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে ।

হিজরতের ২৮ বছর আগে ১০ই রবিউল আউয়াল রাসূলে খোদা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও হযরত খাদিজা (সাঃ আঃ) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় হযরত খাদিজার বয়স ছিল ৪০ বছর এবং রাসূলেখোদার বয়স ছিল ২৫ বছর। মক্কার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী খোয়াইলীদের কন্যা হযরত খাদিজা জাহিলিয়াতের যুগেও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, পুত পবিত্র ও সৎ ছিলেন। আর এজন্য মক্কার লোকেরা তাঁকে ‘তাহিরা’ বা পবিত্রা উপাধিতে ভূষিত করে। বিয়ের পর হযরত খাদিজা তার সকল ধনসম্পদ ও ব্যবসা বাণিজ্যের দায়িত্ব রাসূলের হাতে তুলে দেন। রাসূলের সাথে তাঁর দাম্পত্য জীবন ছিল অত্যন্ত মধুর। তিনি বিপদে-আপদে সব সময় রাসূলকে সহযোগিতা করতেন। রাসূলের সবগুলো সন্তান হযরত খাদিজার গর্ভেই জন্মলাভ করেন ।

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯১১ সালের ৮ মার্চ থেকে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্থান পায়। ১৮৫৭ সালের এইদিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক ১২ ঘন্টা থেকে শ্রম কমিয়ে ৮ ঘন্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করেন। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা ৮ ঘন্টার কাজের অধিকার আদায় করে নেন। নারী আন্দোলনের ওই দিনটিকে প্রাধান্য দিয়ে ১৯১০ সালে সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং পরের বছর ১৯১১ সাল থেকে দিনটি নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়।

হিযরতের ৪৫ বছর আগের এই দিনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দাদা হযরত আব্দুল মোতালেব মক্কা শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইসলাম পূর্ব আরবের বিখ্যাত কুরাইশ গোত্রের প্রধান ছিলেন। তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং নামকরা বক্তা ছিলেন। আব্দুল মোতালেবের পুত্র আব্দুল্লাহর ঔরসে জন্মগ্রহণ করে রাসূলে খোদা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং হযরত আবু তালিবের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন হযরত আলী (আঃ)।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান

ইতিহাসের এই দিনে, ৮ মার্চ

আপডেট সময় ০৩:৫৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮

অাকাশ ইতিহাস ডেস্ক:

আজ বৃহস্পতিবার ৮ মার্চ ২০১৮ সাল

ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে দৈনিক আকাশের পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’।

৮ মার্চ, ২০১৮, বৃহস্পতিবার। ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। একনজরে দেখে নিন ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ক্যালেন্ডারে জায়গা করে নিয়েছে ৮ মার্চ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়। বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন সংগ্রামী অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঐতিহাসিকভাবে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা বিপজ্জনক ও অমানবিক কর্মপরিবেশ, স্বল্প গুলি চালায়। এর তিন বছর পর ১৮৬০ সালের ৮ মার্চ নারী শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নিজস্ব ইউনিয়ন গঠনে ব্যর্থ হয়। এরপর নারীদের বিভিন্নমুখী প্রতিবাদী ভূমিকার প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশ, সমর্থনদান ও সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির প্রতীক হিসেবে একটি দিনকে চিহ্নিত করার চিন্তা-ভাবনা করা হয়। ১৯১০ সালে কোপেন হেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাব অনুসারে ঐতিহাসিকভাবে ৮ মার্চকে বিশ^ নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ৮ মার্চের সূচনা নিউইয়র্কে হলেও এ দিবসটি ইউরোপে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে। দিনটির গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বছরের একটি দিনে নিজ নিজ দেশের ঐতিহাসিক, জাতীয় ঐতিহ্য ও প্রথার আলোকে মহিলাদের অধিকার ও বিশ^ শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালনের জন্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতি আহবান জানায়। রাষ্ট্রসমূহকে মহিলাদের প্রতি বৈষম্যমূলক অবস্থা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টির আহবান জানানো হয় (সিদ্ধান্ত ৩২/১৪২)। জাতিসংঘের কর্মচারীরা ৮ মার্চ তারিখে এ দিবসটি পালন করতো। পৃথিবীর অনেক দেশে ওই তারিখে আন্তর্জাতিক মহিলা শ্রমিক দিবস পালিত হতো। যেহেতু নারী সমাজ শতাধিক বছর ধরে ৮ মার্চ উদযাপন করে আসছিলো তাই তাদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতিসংঘ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করে। এ ঘোষণার ফলে বিশে^র হাজার বছর ধরে অধিকার বঞ্চিত নারী সমাজের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, ও সামাজিক মুক্তির পথ সুগম হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের তাৎপর্য হচ্ছে, পৃথিবীর নারীদের অধিকার কতটুকু অর্জিত হয়েছে এবং তারা কি কি বৈষম্য ও বাধার সম্মুখীন তা মূল্যায়ন ও তুলে ধরা। নারী অধিকার অর্জনে জাতিসংঘের ভূমিকার দীর্ঘ ইতিহাসও আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় । – বিশে^র নারী সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সত্ত্বেও উন্নয়নশীল বিশে^র পল্লী অঞ্চলে তেমন অগ্রগতি হয়নি। অপর দিকে বৈষম্য, শোষণ, নারী ধর্ষণ, নারী অপহরণ, এসিড নিক্ষেপ, যৌন নির্যাতন, নারী পাচার, নারী হত্যাসহ নানাবিধ নির্যাতনের কবল থেকে আজও নারীদের মুক্তি সম্ভব হয়নি। এরকম প্রতিকূল একটি পরিবেশের মধ্যেই প্রতিবছর পালিত হয় নারী দিবস । উদ্বুদ্ধ করা হয় নারীদের অধিকারের প্রতি বিশ^ সমাজকে । নারীর ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বিশ^ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশও সক্রিয়। এ জন্যে সরকারের রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি। নারীদের কল্যাণে কাজ করছে স্বতন্ত্রভাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় । এর কার্যাবলী হচ্ছে মহিলা ও শিশু সম্পর্কিত জাতীয় নীতি, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ, মহিলাদের আইন ও সমাজ অধিকারের বিষয়াদি, মহিলাদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদি।

ফার্সী ১২৬৫ সালের ১৮ই ইস্ফান্দ প্যান ইসলামী আন্দোলনের নেতা এবং মুসলিম বিশ্বের সংগ্রামী আলেম সাইয়েদ জামাল উদ্দিন আসাদাবাদী শহীদ হন। তিনি ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান প্রদেশের আসাদাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রথমে ইরানের কাজভীন পরে ইরাক গমন করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি আরবী, ফার্সী ও তুর্কী ভাষায় ব্যাপক পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন এবং ইংরেজী, ফরাসী, রুশ ভাষাতেও দক্ষ ছিলেন। বিশিষ্ট এই চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক মুসলিম জাতির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিভিন্ন সফর সফর শুরু করেন। সাইয়েদ জামাল উদ্দিন মুসলমানদের জাগিয়ে তোলার জন্য প্যারিস এবং লন্ডন থেকে দুটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এসব পত্রিকার মাধ্যমে তিনি মুসলমানদেরকে ইসলামের মূল চেতনার দিকে ফিরে এসে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান, পাশাপাশি এশিয়ায় ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এসব কারণে ব্রিটিশ সরকার ইস্তাম্বুলে নির্বাসন দেয় এবং ওসমানীয় সা¤্রাজ্যের বাদশাহ তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে।

১৯৬৮ সালের ৮ই মার্চ ফিলিপাইনের মুসলিম স্বাধীনতাকামী সংগঠন ব্জ€˜মোরো ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট’ বা এমএনএলএফ তৎকালীন স্বৈরশাসক মারকোসের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। মার্কিন সমর্থিত স্বৈরশাসক কার্ডিনাল মারকোসের সময় হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা ও বন্দী করার প্রতিবাদে এই সংগঠনটি স্বশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। ১৯৭৭ সালে হাশিম সালামাতের নেতৃত্বে দলটি বিভক্ত হয়ে মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট বা এমআইএলএফ গঠন করে। ১৯৮৬ সালের শেষের দিকে ম্যানিলা সরকার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় আধা-স্বায়ত্বশাসনের শর্তে এমএনএলএফ এর সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১৯৯৭ সরকার এমএনএলএফ -এর সাথে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে কিন্তু ২০০০ সালে ফিলিপাইনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোসেফ এস্ট্রাডা চুক্তিটি বাতিল করে। এরপর মোরো মুসলিম স্বাধীনতাকামী দলগুলো জিহাদ ঘোষণা করে। ২০০৮ সালে ফিলিপাইনের সুপ্রীম কোর্ট এক রায়ে মুসলিম অধ্যুষিত মিন্দানাও অঞ্চলের স্বায়ত্বশাসনের পক্ষে রায় দেয় এবং এ ব্যাপারে মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ফিলিপাইন সরকার এমআইএলএফের সাথে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না বলে ঘোষণা দেয়ায় মুসলিম সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে ।

হিজরতের ২৮ বছর আগে ১০ই রবিউল আউয়াল রাসূলে খোদা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও হযরত খাদিজা (সাঃ আঃ) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় হযরত খাদিজার বয়স ছিল ৪০ বছর এবং রাসূলেখোদার বয়স ছিল ২৫ বছর। মক্কার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী খোয়াইলীদের কন্যা হযরত খাদিজা জাহিলিয়াতের যুগেও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, পুত পবিত্র ও সৎ ছিলেন। আর এজন্য মক্কার লোকেরা তাঁকে ‘তাহিরা’ বা পবিত্রা উপাধিতে ভূষিত করে। বিয়ের পর হযরত খাদিজা তার সকল ধনসম্পদ ও ব্যবসা বাণিজ্যের দায়িত্ব রাসূলের হাতে তুলে দেন। রাসূলের সাথে তাঁর দাম্পত্য জীবন ছিল অত্যন্ত মধুর। তিনি বিপদে-আপদে সব সময় রাসূলকে সহযোগিতা করতেন। রাসূলের সবগুলো সন্তান হযরত খাদিজার গর্ভেই জন্মলাভ করেন ।

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯১১ সালের ৮ মার্চ থেকে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্থান পায়। ১৮৫৭ সালের এইদিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক ১২ ঘন্টা থেকে শ্রম কমিয়ে ৮ ঘন্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করেন। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা ৮ ঘন্টার কাজের অধিকার আদায় করে নেন। নারী আন্দোলনের ওই দিনটিকে প্রাধান্য দিয়ে ১৯১০ সালে সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং পরের বছর ১৯১১ সাল থেকে দিনটি নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়।

হিযরতের ৪৫ বছর আগের এই দিনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দাদা হযরত আব্দুল মোতালেব মক্কা শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইসলাম পূর্ব আরবের বিখ্যাত কুরাইশ গোত্রের প্রধান ছিলেন। তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং নামকরা বক্তা ছিলেন। আব্দুল মোতালেবের পুত্র আব্দুল্লাহর ঔরসে জন্মগ্রহণ করে রাসূলে খোদা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং হযরত আবু তালিবের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন হযরত আলী (আঃ)।