ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

প্রেমিক-প্রেমিকাদের আশ্রয়স্থল ‘লাভ কমান্ডোজ’

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভিন্ন ধর্মের ছেলেমেয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ককে চূড়ান্ত অপমান হিসেবে দেখে ভারতীয়রা। আর এরকম ঘটনায় তাদেরকে হত্যা পর্যন্ত করে থাকে নিজের পরিবারের লোকজন। অনেক সময় তাদের কিছুই করার থাকে না। হয় পরিবারের মত মেনে নিতে হয় নয়তো জীবন দিতে হয়। আর এই সমস্যা থেকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের রক্ষা করে ‘লাভ কমান্ডোজ’ নামে ভারতীয় একটি সংগঠন।

প্রেমিক-প্রেমিকাদের যেকোনো সমস্যার হাত থেকে বাঁচানো, উদ্ধার করা, প্রয়োজনে পালাতে সাহায্য করা এবং লুকিয়ে রাখাসহ তাদের রক্ষা করার যাবতীয় কাজ সম্পূর্ণ ফ্রি-তে করে থাকে এই সংগঠন।

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ সংগঠন গত ছয় বছরে ৩০ হাজারেরও বেশি প্রেমিক-প্রেমিকাকে সাহায্য করেছে ‘লাভ কমান্ডোজ।

দিল্লিতে অবস্থিত এই সংগঠনে সদর দপ্তর। গোটা ভারতজুড়ে এদের প্রায় পাঁচ লাখখ স্বেচ্ছাসেবক ও দিল্লি, ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদে আটটি গোপন আস্তানা রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী আস্তানা আছে। সেখানে পালিয়ে আসা বা উদ্ধার করে আনা যুগলকে প্রয়োজনে মাসের পর মাস লুকিয়ে রাখা হয়, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

সংগঠনের ওয়েবসাইট বা হটলাইনে সাহায্যের জন্য আবেদন আসার পর তাদের সম্পর্কে সব খোঁজখবর নেয় স্বেচ্ছাসেবীরা। এছাড়া বয়স ও স্থায়ী ঠিকানার কাগজপত্র যাচাই করার পর সব ঠিকঠাক থাকলে তাদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করেন তারা।প্রয়োজনে বাড়ি থেকে পালানোর ফর্মুলা বাতলে দেওয়া, পাঁচিল টপকাতে, দড়ি বেয়ে নামতে, তালা ভাঙতে সাহায্য করেন তারা। বিশেষ প্রয়োজনে ধাক্কা, হাতাহাতি, মারামারি করে প্রেমের শত্রুদের ঢিট করার লোকও পাওয়া যায়। ট্রেন-বাসের টিকিট, ভাড়া গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়, পুলিশ-আদালতের মোকাবিলাও তারা করেন। বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রী কিছু দিন আত্মগোপন করতে চাইলে তার জন্যও দেশজুড়ে এদের ৫০০ অস্থায়ী আস্তানা আছে। পুরোটাই ‘ফ্রি সার্ভিস।’ খরচ উঠে আসে গোটা বিশ্ব থেকে আসা ডোনেশনের টাকায়।

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান তার টিভি অনুষ্ঠানের একটি পর্বে হাজির করেছিলেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের। এছাড়া তাদের নিয়ে চারটিরও বেশি তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। নিজস্ব ‘থিম সং’ রয়েছে সংস্থার। প্রতিদিন সকালে প্রেমযোদ্ধারা কাজ শুরু করার আগে তাতে গলা মেলান। আছে নিজস্ব ‘লোগো’, খাকি উর্দি পরা এক গোঁফওয়ালা লোক দু’হাতে দুটি রিভলভার নিয়ে ত্রিভঙ্গমুরারীর মতো দাঁড়িয়ে, তার বুক, কপাল, ঘাড়ে লাল হৃদয়চিহ্ন জ্বলজ্বল করছে। ওয়েবসাইটে ২৪ ঘণ্টা ‘ব্রেকিং নিউজ’ দিয়ে জানানো হয় কোন প্রেমিক-প্রেমিকাকে উদ্ধার করা হল, কোথায় কার রেজিস্ট্রি হল ইত্যাদি।

সংগঠনের চেয়ারম্যান আটান্ন বছর বয়সি সঞ্জয় সচদেব সম্পর্কে তার স্ত্রীর কথায়, ‘আমি কিছু বলি না। পুণ্যের কাজই তো করছে।’

সঞ্জয় বলেন, ‘বউ-ই আমার প্রেরণা। ও আমাকে এত ভালো না-বাসলে কি ভালোবাসার জন্য জীবন বিকিয়ে দিতে পারতাম? ভারতে ভিন ধর্মে বিয়ের পথ সুগম হলে আপনা থেকে সর্বধর্মসমন্বয় হয়ে যাবে। আকবর ব্যাপারটা বুঝেছিলেন।’

এই সংগঠনের একজন সদস্য ৪৮ বছররে হর্ষ মলহোত্রা এমনই প্রেমিক, যে নিজের বউকে এখনও পর্যন্ত সাত বার বিয়ে করেছেন! প্রেম-বিরোধীদের শায়েস্তা করার মাস্টারপ্ল্যানে ওস্তাদ তিনি।

আরেকজন সোনু রাংগি। পরিচিতি সোনু হিজরা নামে। দিল্লির শিবসেনা দলে ছিলেন। ভ্যালেন্টাইন’স ডে-র দিন রাস্তায় প্রেমিক-প্রেমিকার উপর চড়াও হতেন। সেই তিনিই এখন প্রেমের পাহারাদার! প্রেমিক-প্রেমিকা উদ্ধারের ‘অ্যাকশন’ এর দিকটা তিনিই সামলান। সঙ্গী রেসকিউ অপারেশন স্পেশ্যালিস্ট সুনীল সামর ও রাজেশ। আর দলের কনিষ্ঠ সদস্য গোবিন্দ। চারতলা থেকে লাফানো, পাঁচিল টপকানো, দড়ি বেয়ে ওঠা তার কাছে তেমন কোন ব্যাপারই না।

একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে সঞ্জয় বলেন, ‘কলকাতার আলিপুরের হিন্দু ব্যবসায়ীর ছেলের সঙ্গে প্রেম ছিল বিহারের এক মুসলিম মেয়ের। ছেলেপক্ষ রাজি, মেয়ের বাড়ি মারমুখী। মেয়েকে তুলে আনার ভার পড়েছিল লাভ কম্যান্ডোদের উপর। বাগডোগরা পর্যন্ত পিছু ধাওয়া করেছিল গ্রামের লোক। দুটিতে এখন সুখে সংসার করছে।’

আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হরিয়ানার এক পুলিশ কর্তার মেয়ে বাড়িতে বন্দি, যাতে পালাতে না পারে। মেয়ের তখন পরীক্ষা, পাহারা দিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গেটে লাঠিধারীরা দাঁড়িয়ে। গোবিন্দ পাঁচিল টপকে জানলার কাচ ভেঙে সেই মেয়েকে নিয়ে এসে গাড়িতে উঠিয়েছিলেন। লাঠিধারীদের সঙ্গে একা লড়েছিলেন সোনু হিজরা।’

গোটা ভারতজুড়ে ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করা এই সংগঠন চলে দেশি-বিদেশি অনুদানে। আর এখানকার স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিদিন সকালে প্রার্থনা করেন- দুনিয়ার সব প্রেমশত্রু যেন দ্রুত ঘোরতর প্রেমে পড়েন!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

প্রেমিক-প্রেমিকাদের আশ্রয়স্থল ‘লাভ কমান্ডোজ’

আপডেট সময় ১১:৫২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভিন্ন ধর্মের ছেলেমেয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ককে চূড়ান্ত অপমান হিসেবে দেখে ভারতীয়রা। আর এরকম ঘটনায় তাদেরকে হত্যা পর্যন্ত করে থাকে নিজের পরিবারের লোকজন। অনেক সময় তাদের কিছুই করার থাকে না। হয় পরিবারের মত মেনে নিতে হয় নয়তো জীবন দিতে হয়। আর এই সমস্যা থেকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের রক্ষা করে ‘লাভ কমান্ডোজ’ নামে ভারতীয় একটি সংগঠন।

প্রেমিক-প্রেমিকাদের যেকোনো সমস্যার হাত থেকে বাঁচানো, উদ্ধার করা, প্রয়োজনে পালাতে সাহায্য করা এবং লুকিয়ে রাখাসহ তাদের রক্ষা করার যাবতীয় কাজ সম্পূর্ণ ফ্রি-তে করে থাকে এই সংগঠন।

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ সংগঠন গত ছয় বছরে ৩০ হাজারেরও বেশি প্রেমিক-প্রেমিকাকে সাহায্য করেছে ‘লাভ কমান্ডোজ।

দিল্লিতে অবস্থিত এই সংগঠনে সদর দপ্তর। গোটা ভারতজুড়ে এদের প্রায় পাঁচ লাখখ স্বেচ্ছাসেবক ও দিল্লি, ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদে আটটি গোপন আস্তানা রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী আস্তানা আছে। সেখানে পালিয়ে আসা বা উদ্ধার করে আনা যুগলকে প্রয়োজনে মাসের পর মাস লুকিয়ে রাখা হয়, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

সংগঠনের ওয়েবসাইট বা হটলাইনে সাহায্যের জন্য আবেদন আসার পর তাদের সম্পর্কে সব খোঁজখবর নেয় স্বেচ্ছাসেবীরা। এছাড়া বয়স ও স্থায়ী ঠিকানার কাগজপত্র যাচাই করার পর সব ঠিকঠাক থাকলে তাদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করেন তারা।প্রয়োজনে বাড়ি থেকে পালানোর ফর্মুলা বাতলে দেওয়া, পাঁচিল টপকাতে, দড়ি বেয়ে নামতে, তালা ভাঙতে সাহায্য করেন তারা। বিশেষ প্রয়োজনে ধাক্কা, হাতাহাতি, মারামারি করে প্রেমের শত্রুদের ঢিট করার লোকও পাওয়া যায়। ট্রেন-বাসের টিকিট, ভাড়া গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়, পুলিশ-আদালতের মোকাবিলাও তারা করেন। বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রী কিছু দিন আত্মগোপন করতে চাইলে তার জন্যও দেশজুড়ে এদের ৫০০ অস্থায়ী আস্তানা আছে। পুরোটাই ‘ফ্রি সার্ভিস।’ খরচ উঠে আসে গোটা বিশ্ব থেকে আসা ডোনেশনের টাকায়।

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান তার টিভি অনুষ্ঠানের একটি পর্বে হাজির করেছিলেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের। এছাড়া তাদের নিয়ে চারটিরও বেশি তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। নিজস্ব ‘থিম সং’ রয়েছে সংস্থার। প্রতিদিন সকালে প্রেমযোদ্ধারা কাজ শুরু করার আগে তাতে গলা মেলান। আছে নিজস্ব ‘লোগো’, খাকি উর্দি পরা এক গোঁফওয়ালা লোক দু’হাতে দুটি রিভলভার নিয়ে ত্রিভঙ্গমুরারীর মতো দাঁড়িয়ে, তার বুক, কপাল, ঘাড়ে লাল হৃদয়চিহ্ন জ্বলজ্বল করছে। ওয়েবসাইটে ২৪ ঘণ্টা ‘ব্রেকিং নিউজ’ দিয়ে জানানো হয় কোন প্রেমিক-প্রেমিকাকে উদ্ধার করা হল, কোথায় কার রেজিস্ট্রি হল ইত্যাদি।

সংগঠনের চেয়ারম্যান আটান্ন বছর বয়সি সঞ্জয় সচদেব সম্পর্কে তার স্ত্রীর কথায়, ‘আমি কিছু বলি না। পুণ্যের কাজই তো করছে।’

সঞ্জয় বলেন, ‘বউ-ই আমার প্রেরণা। ও আমাকে এত ভালো না-বাসলে কি ভালোবাসার জন্য জীবন বিকিয়ে দিতে পারতাম? ভারতে ভিন ধর্মে বিয়ের পথ সুগম হলে আপনা থেকে সর্বধর্মসমন্বয় হয়ে যাবে। আকবর ব্যাপারটা বুঝেছিলেন।’

এই সংগঠনের একজন সদস্য ৪৮ বছররে হর্ষ মলহোত্রা এমনই প্রেমিক, যে নিজের বউকে এখনও পর্যন্ত সাত বার বিয়ে করেছেন! প্রেম-বিরোধীদের শায়েস্তা করার মাস্টারপ্ল্যানে ওস্তাদ তিনি।

আরেকজন সোনু রাংগি। পরিচিতি সোনু হিজরা নামে। দিল্লির শিবসেনা দলে ছিলেন। ভ্যালেন্টাইন’স ডে-র দিন রাস্তায় প্রেমিক-প্রেমিকার উপর চড়াও হতেন। সেই তিনিই এখন প্রেমের পাহারাদার! প্রেমিক-প্রেমিকা উদ্ধারের ‘অ্যাকশন’ এর দিকটা তিনিই সামলান। সঙ্গী রেসকিউ অপারেশন স্পেশ্যালিস্ট সুনীল সামর ও রাজেশ। আর দলের কনিষ্ঠ সদস্য গোবিন্দ। চারতলা থেকে লাফানো, পাঁচিল টপকানো, দড়ি বেয়ে ওঠা তার কাছে তেমন কোন ব্যাপারই না।

একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে সঞ্জয় বলেন, ‘কলকাতার আলিপুরের হিন্দু ব্যবসায়ীর ছেলের সঙ্গে প্রেম ছিল বিহারের এক মুসলিম মেয়ের। ছেলেপক্ষ রাজি, মেয়ের বাড়ি মারমুখী। মেয়েকে তুলে আনার ভার পড়েছিল লাভ কম্যান্ডোদের উপর। বাগডোগরা পর্যন্ত পিছু ধাওয়া করেছিল গ্রামের লোক। দুটিতে এখন সুখে সংসার করছে।’

আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হরিয়ানার এক পুলিশ কর্তার মেয়ে বাড়িতে বন্দি, যাতে পালাতে না পারে। মেয়ের তখন পরীক্ষা, পাহারা দিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গেটে লাঠিধারীরা দাঁড়িয়ে। গোবিন্দ পাঁচিল টপকে জানলার কাচ ভেঙে সেই মেয়েকে নিয়ে এসে গাড়িতে উঠিয়েছিলেন। লাঠিধারীদের সঙ্গে একা লড়েছিলেন সোনু হিজরা।’

গোটা ভারতজুড়ে ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করা এই সংগঠন চলে দেশি-বিদেশি অনুদানে। আর এখানকার স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিদিন সকালে প্রার্থনা করেন- দুনিয়ার সব প্রেমশত্রু যেন দ্রুত ঘোরতর প্রেমে পড়েন!