ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে হামলা: ইমরান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে হামলা হলো তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। এই হামলায় সরকার দায় এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার বিকালে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করার প্রতিক্রিয়ায় রাতে শাহবাগে এক মশাল মিছিলের আগে এ মন্তব্য করেন ইমরান।

প্রায় দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। তারও প্রায় এক বছর আগে একটি জঙ্গি সংগঠনের নামে পাঠানো চিঠিতে যে ১০ জনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয় তাতেও জাফর ইকবালের নাম ছিল। এর বাইরেও সামাজিক মাধ্যমে উগ্রপন্থীদের বিভিন্ন গ্রুপেও বরেণ্য এই মানুষটিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং হুমকি দেয়া হতো নিয়মিত।

এসব হুমকির ঘটনায় দুই বছর আগে থেকেই সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপককে। আর পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। আর এতে পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

ইমরান বলেন, ‘যারাই হুমকির মধ্যে আছে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পর্ণভাবে সরকার গ্রহণ করেছে। তাহলে সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কীভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সুতরাং এ হামলার দায় সরকার এড়াতে পারে না।’

হামলাকারী যুবক আটক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ইমরান মনে করেন এটি মৌলবাদী চক্রের কাজ।

‘আজকের এ হামলা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখবার কোন সুযোগ নেই। জাফর ইকবাল স্যারের ওপর হামলা করে মৌলবাদী বা প্রতিক্রিয়াশীল চক্র মুক্ত চিন্তার আন্দোলনকে নস্যাৎ করার যে ষড়যন্ত্র করেছিল তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এ হামলা।’

এই হামলাকে মুক্তচিন্তার সবার ওপর হামলা আখ্যা দিয়ে ইমরান বলেন, ‘তার ওপর হামলা করা মানে আমরা সবাই আক্রান্ত, কেউ আমরা নিরাপদ নই।’

‘জাফর ইকবাল আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে বিভিন্ন সময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। বিভিন্ন সময় সংকটাপন্ন অবস্থায় নির্বিঘ্নে আমাদের ও তরুণদের পক্ষ নিয়েছেন। সেইরকম একটা পরিস্থিতিতে তার ওপর হামলায় আমরা বিক্ষুদ্ধ হয়েছি। এই মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে আমাদের আরও ‍বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে হবে।’

এরপর মশাল হাতে মিছিলটি শাহবাগ থেকে রূপসী বাংলা হোটেল মোড় ঘুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) হয়ে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।

পাশেই জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর জঙ্গিবাদী হামলা: রুখো সারা বাংলা’ ব্যানার নিয়ে আরেকটি সমাবেশ হয়। সমাবেশে লেখক আসলাম সানী, সাংবাদিক অঞ্জন রায়, শিক্ষক নুরুল হুদা, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকদের মধ্যে কামাল পাশা চৌধুরী, বাপ্পাদিত্য বসু, এফ এম শাহীন, কানিজ আকলিমা সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে হামলা: ইমরান

আপডেট সময় ১২:৫৮:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে হামলা হলো তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। এই হামলায় সরকার দায় এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার বিকালে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করার প্রতিক্রিয়ায় রাতে শাহবাগে এক মশাল মিছিলের আগে এ মন্তব্য করেন ইমরান।

প্রায় দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। তারও প্রায় এক বছর আগে একটি জঙ্গি সংগঠনের নামে পাঠানো চিঠিতে যে ১০ জনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয় তাতেও জাফর ইকবালের নাম ছিল। এর বাইরেও সামাজিক মাধ্যমে উগ্রপন্থীদের বিভিন্ন গ্রুপেও বরেণ্য এই মানুষটিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং হুমকি দেয়া হতো নিয়মিত।

এসব হুমকির ঘটনায় দুই বছর আগে থেকেই সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপককে। আর পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। আর এতে পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

ইমরান বলেন, ‘যারাই হুমকির মধ্যে আছে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পর্ণভাবে সরকার গ্রহণ করেছে। তাহলে সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কীভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সুতরাং এ হামলার দায় সরকার এড়াতে পারে না।’

হামলাকারী যুবক আটক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ইমরান মনে করেন এটি মৌলবাদী চক্রের কাজ।

‘আজকের এ হামলা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখবার কোন সুযোগ নেই। জাফর ইকবাল স্যারের ওপর হামলা করে মৌলবাদী বা প্রতিক্রিয়াশীল চক্র মুক্ত চিন্তার আন্দোলনকে নস্যাৎ করার যে ষড়যন্ত্র করেছিল তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এ হামলা।’

এই হামলাকে মুক্তচিন্তার সবার ওপর হামলা আখ্যা দিয়ে ইমরান বলেন, ‘তার ওপর হামলা করা মানে আমরা সবাই আক্রান্ত, কেউ আমরা নিরাপদ নই।’

‘জাফর ইকবাল আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে বিভিন্ন সময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। বিভিন্ন সময় সংকটাপন্ন অবস্থায় নির্বিঘ্নে আমাদের ও তরুণদের পক্ষ নিয়েছেন। সেইরকম একটা পরিস্থিতিতে তার ওপর হামলায় আমরা বিক্ষুদ্ধ হয়েছি। এই মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে আমাদের আরও ‍বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে হবে।’

এরপর মশাল হাতে মিছিলটি শাহবাগ থেকে রূপসী বাংলা হোটেল মোড় ঘুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) হয়ে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।

পাশেই জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর জঙ্গিবাদী হামলা: রুখো সারা বাংলা’ ব্যানার নিয়ে আরেকটি সমাবেশ হয়। সমাবেশে লেখক আসলাম সানী, সাংবাদিক অঞ্জন রায়, শিক্ষক নুরুল হুদা, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকদের মধ্যে কামাল পাশা চৌধুরী, বাপ্পাদিত্য বসু, এফ এম শাহীন, কানিজ আকলিমা সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।