পুরুষানুক্রমে চলে আসা ধর্মীয় রক্ষণশীলতা ছেড়ে এবার রুপালি জগতে মন দিয়েছে সৌদি সরকার। আগামী দশকের মধ্যে বিনোদন শিল্পের উন্নয়নে ৬৪ বিলিয়ন (৬ হাজার ৪০০ কোটি) ডলার বিনিয়োগ করবে সৌদি আরব।
দেশটির জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথোরিটির প্রধান বলেন, এ বছরেই বিনোদনমূলক পাঁচ হাজার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে ,এ বছরেই বিনোদনমূলক পাঁচ হাজার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ধাঁচে সৌদির রাজধানী রিয়াদে দেশের প্রথম অপেরা হাউস নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিবিসির খবরে বলা হয়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দুই বছর আগে ‘ভিশন ২০৩০’ নামে যে আর্থ-সামাজিক সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, তার অংশ হিসেবেই বিনোদন খাতে বিপুল অর্থের এ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
৩২ বছর বয়সী সালমান অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য এনে তেল নির্ভরতা কমাতে চান। এক্ষেত্রে সংস্কৃতি ও বিনোদনে জনগণের ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। গত ডিসেম্বরেই বাণিজ্যিক সিনেমার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের এ দেশটি। মার্চে দেশটিতে ফ্যাশন সপ্তাহও হতে যাচ্ছে। রিয়াদের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথোরিটির প্রধান আহমেদ বিন আকিল আল-খতিবকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ বিনোদন খাতে দুই লাখ ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল মাত্র ১৭ হাজার।
তিনি বলেন, ‘আগে নির্মাতারা কাজের জন্য দেশের বাইরে যেতেন এবং সেগুলো এনে সৌদি আরবে দেখাতেন। এখন এর পরিবর্তন হবে। বিনোদন সংক্রান্ত সব কিছু এখানে হবে। আল্লাহর ইচ্ছায় ২০২০ নাগাদ একটি বড় পরিবর্তন ঘটে যাবে।’ পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে রিয়াদের কাছে ‘লাস ভেগাসের’ আদলে একটি বিশাল বিনোদন শহরও গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে সৌদি সরকার।
রক্ষণশীল এ রাজতান্ত্রিক দেশে সম্প্রতি যেসব সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তারই একটি বিনোদন খাতের বিকাশ। দেশটিতে গত মাসে নারীদের স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ উন্মোচিত হয়। আগামী জুন থেকে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞাও উঠছে। আয়োজন করা হচ্ছে কনসার্টেরও। সম্প্রতি সৌদিতে যে জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে, তাতেও প্রথমবারের মতো নারী-পুরুষ উভয়েই অংশ নিয়েছিলেন। রাজপথে মিউজিকের তালে তালে সৌদির ছেলে-মেয়েরা সেদিন একসঙ্গে নেচেছিলেন, যে দৃশ্য সেখানে আগে কখনও দেখা যায়নি।
সৌদি আরব উদার ইসলামিক দেশ হবে, যা সব ধর্মের, রীতি-নীতির মানুষের জন্য উন্মুক্ত হবে বলে গত বছর ঘোষণা করেছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ। দেশের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের কম এবং তারা ‘ধর্মীয় সহনশীল ও আমাদের মহানুভবতার ঐতিহ্যের’ সঙ্গে মানানসই জীবন চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সৌদি রাজ পরিবার ও ধর্মীয় গুরুরা কট্টরপন্থী ওহাবি মতবাদের অনুসারী, যেখানে পোশাক-পরিচ্ছদ, চলাফেরা ও আচার-আচরণে বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























