ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

হাসিনা সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নৌকার ভোট চাচ্ছেন: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভোট চাওয়ার সমালোচনা করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দাবি, এই পরিস্থিতি গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীতে বিএনপির আলোচনায় এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার দণ্ড ঘোষণার দিন তিনি বরিশালে জনসভা করে ভোট চেয়েছেন। আর ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর জনসভায় অংশ নেন শেখ হাসিনা।

একই সময়ে রাজনীতিতে শেখ হাসিনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী অবস্থায় জামিন আবেদনের শুনানির অপেক্ষায়। পাশাপাশি দুর্নীতির আরও চার মামলায় বিচার চলছে তার। এর মধ্যে একটির শুনানি প্রায় শেষ পর‌্যায়ে, বাকি তিনটির বিচার শুরু হওয়ার অপেক্ষায়।

এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সারাদেশে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। আর অন্যদিকে আমাদের নেত্রী, দেশনেত্রী কারাগরে অন্ধকার কুঠিরে রয়েছেন। এটা কখনও গণতন্ত্র হতে পারে না। এটা কখনও সবার জন্য সমান মাঠ হতে পারে না।’

‘দেশে গণতন্ত্র নেই। এই অবস্থা চলতে পারে না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই অবস্থা বদলাতে হবে।’

ফখরুল বলেন, ‘সরকার ভেবেছিল দেশনেত্রী আমাদের মা কারাগারে গেলে দল দুর্বল হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। আরও শক্তিশালী হবে।’

‘আমরা যে শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম করছি সেই সংগ্রাম শুধু বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য নয়, বিএনপির জন্য নয়। এই সংগ্রাম বাংলাদেশের জন্য। দেশের গণতন্ত্রের জন্য।’

দেশ রক্ষার সংগ্রামে সবাইকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পরিস্থিতি পাল্টে দিতে হবে।’

বাংলাদেশে আর কোনো দিন একতরফা নির্বাচন হতে দেয়া হবে না মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমি আশা করি আগামী রবিবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হবেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবেন বেগম খালেদা জিয়া।’

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ অন্যায়ের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী জনগণের টাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। নৌকায় ভোট চাইছেন। আর অন্যদিকে আমাদের নেত্রীকে জেলে রেখেছেন। দেশে বিচার আলাদা হয়। সরকারি দলের জন্য একরকম বিচার। আর বিরোধী দলের জন্য আরেক রকম বিচার।’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দেশনেত্রীকে কারাগারে নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে নেলসন ম্যান্ডেলার জায়গায় নিয়ে গেছেন।… আজকে গণতন্ত্রকে কারাগারে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্রের মাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।’

‘একদিক থেকে দেশনেত্রীকে কারাগারে নেয়ায় ভালোই হয়েছে। বিএনপির আগামী নেতৃত্ব নিয়ে ভালো একটা পরীক্ষা হয়েছে। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বিএনপি।’

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানী। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক।

আলোচনা সভায় বিএনপির চলমান আন্দোলন নিয়ে গান পরিবেশন করেন শিল্পী বেবি নাজনিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

হাসিনা সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নৌকার ভোট চাচ্ছেন: ফখরুল

আপডেট সময় ১০:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভোট চাওয়ার সমালোচনা করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দাবি, এই পরিস্থিতি গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীতে বিএনপির আলোচনায় এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার দণ্ড ঘোষণার দিন তিনি বরিশালে জনসভা করে ভোট চেয়েছেন। আর ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর জনসভায় অংশ নেন শেখ হাসিনা।

একই সময়ে রাজনীতিতে শেখ হাসিনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী অবস্থায় জামিন আবেদনের শুনানির অপেক্ষায়। পাশাপাশি দুর্নীতির আরও চার মামলায় বিচার চলছে তার। এর মধ্যে একটির শুনানি প্রায় শেষ পর‌্যায়ে, বাকি তিনটির বিচার শুরু হওয়ার অপেক্ষায়।

এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সারাদেশে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। আর অন্যদিকে আমাদের নেত্রী, দেশনেত্রী কারাগরে অন্ধকার কুঠিরে রয়েছেন। এটা কখনও গণতন্ত্র হতে পারে না। এটা কখনও সবার জন্য সমান মাঠ হতে পারে না।’

‘দেশে গণতন্ত্র নেই। এই অবস্থা চলতে পারে না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই অবস্থা বদলাতে হবে।’

ফখরুল বলেন, ‘সরকার ভেবেছিল দেশনেত্রী আমাদের মা কারাগারে গেলে দল দুর্বল হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। আরও শক্তিশালী হবে।’

‘আমরা যে শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম করছি সেই সংগ্রাম শুধু বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য নয়, বিএনপির জন্য নয়। এই সংগ্রাম বাংলাদেশের জন্য। দেশের গণতন্ত্রের জন্য।’

দেশ রক্ষার সংগ্রামে সবাইকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পরিস্থিতি পাল্টে দিতে হবে।’

বাংলাদেশে আর কোনো দিন একতরফা নির্বাচন হতে দেয়া হবে না মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমি আশা করি আগামী রবিবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হবেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবেন বেগম খালেদা জিয়া।’

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ অন্যায়ের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী জনগণের টাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। নৌকায় ভোট চাইছেন। আর অন্যদিকে আমাদের নেত্রীকে জেলে রেখেছেন। দেশে বিচার আলাদা হয়। সরকারি দলের জন্য একরকম বিচার। আর বিরোধী দলের জন্য আরেক রকম বিচার।’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দেশনেত্রীকে কারাগারে নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে নেলসন ম্যান্ডেলার জায়গায় নিয়ে গেছেন।… আজকে গণতন্ত্রকে কারাগারে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্রের মাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।’

‘একদিক থেকে দেশনেত্রীকে কারাগারে নেয়ায় ভালোই হয়েছে। বিএনপির আগামী নেতৃত্ব নিয়ে ভালো একটা পরীক্ষা হয়েছে। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বিএনপি।’

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানী। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক।

আলোচনা সভায় বিএনপির চলমান আন্দোলন নিয়ে গান পরিবেশন করেন শিল্পী বেবি নাজনিন।