ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে হামলা স্থগিত হলেও মার্কিন বাহিনী জবাব দিতে ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’: হেগসেথ বরিশালে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে একই পরিবারে দগ্ধ ৩ ৫ আগস্ট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা : দাবানলে ছাই ৬০০ স্থাপনা, নিরাপদ আশ্রয়ে ৬০ হাজার মানুষ নিরাপদ অভিবাসনে আইওএমের সহযোগিতা চাইলো বাংলাদেশ দেশটা আমাদের সবার, পরিবেশও আমাদেরই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার ধামরাইয়ে স্বামীর মারধরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার জুলাই গণহত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন মোড়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় জোর পেজেশকিয়ানের

ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্বে সরগরম হল মিউনিখ সম্মেলন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গত রোববার ছিল মিউনিখ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের ৫৩তম আসরের শেষদিন। মিউনিখের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে শেষ দিনে আলোচনায় মূল বিষয় ছিলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলা সংঘাত এবং অস্থিতিশীলতা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে আসে ইরান-ইসরাইলইস্যু।

এই ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর হুঁশিয়ারিতে উত্তেজনার পারদ চড়ে যায় সম্মেলনের শেষদিনে। ‘ইরান অস্থিতিশীল করে তুলছে পুরো অঞ্চলকে’ এমন অভিযোগ করেন ইসরাইলেরপ্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেহরান পাল্টা জবাব দেয় নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্য ভাঁড়ামো আর হাস্যরস ছাড়া কিছুই নয়। এসময় ইরাক-সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার জন্যও তেল আবিবকে দায়ি করে তেহরান।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য এককভাবে ইরানকেই দায়ী করে বলেন, এই যে দেখুন কিভাবে মধ্যপ্রাচ্য নিজের প্রভাব বিস্তার করছে ইরান এবং আইএস। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে ইরান বিস্তৃত করছে নিজেদের ক্ষমতার কালো হাত। কিন্তু আমরা তেহরানকে আর বাড়তে দেবো না। মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখবোই।

ইরানবিরোধী সুর ছিলো সৌদি প্রতিনিধির মুখেও। দেশটির সঙ্গে ছয় বিশ্ব শক্তির হওয়া পরমাণু চুক্তির সমালোচনা করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন এর ফলে অস্ত্র নির্মানের সুযোগ পাবে ইরান।

নেতানিয়াহুর অভিযোগের উত্তরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, নেতানিয়াহু একটা হাস্যকর চরিত্র, তাই তার কথার জবাব দেয়ার কোনো মানেই হয় না। কারণ আমরা এখানে এসেছি জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে, কোনো ভাঁড়ের তামাশা দেখতে নয়। ইসরাইলপ্রতিদিন দখলদারিত্ব চালাচ্ছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে, ষড়যন্ত্র করছে লেবানন নিয়ে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে সিরিয়ার। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য দোষ চাপাচ্ছে আমাদের ওপর।

সংকট সমাধানে সব পক্ষকে আলোচনার বসার আহ্বান ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের কন্ঠে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন,আমরা চাই স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান, সংঘাতপূর্ণ বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তের বদলে আপনারা শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসুন। বিশেষ করে ইরান এবং রাশিয়া।

বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ৪৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ৩০টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিব এবং ৯০ জন সংসদ সদস্যসহ প্রায় ৫০০ নীতিনির্ধারক অংশ নেন এই নিরাপত্তা সম্মেলনে। ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখে শুরু হয় তিনদিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে হামলা স্থগিত হলেও মার্কিন বাহিনী জবাব দিতে ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’: হেগসেথ

ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্বে সরগরম হল মিউনিখ সম্মেলন

আপডেট সময় ০২:০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গত রোববার ছিল মিউনিখ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের ৫৩তম আসরের শেষদিন। মিউনিখের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে শেষ দিনে আলোচনায় মূল বিষয় ছিলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলা সংঘাত এবং অস্থিতিশীলতা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে আসে ইরান-ইসরাইলইস্যু।

এই ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর হুঁশিয়ারিতে উত্তেজনার পারদ চড়ে যায় সম্মেলনের শেষদিনে। ‘ইরান অস্থিতিশীল করে তুলছে পুরো অঞ্চলকে’ এমন অভিযোগ করেন ইসরাইলেরপ্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেহরান পাল্টা জবাব দেয় নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্য ভাঁড়ামো আর হাস্যরস ছাড়া কিছুই নয়। এসময় ইরাক-সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার জন্যও তেল আবিবকে দায়ি করে তেহরান।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য এককভাবে ইরানকেই দায়ী করে বলেন, এই যে দেখুন কিভাবে মধ্যপ্রাচ্য নিজের প্রভাব বিস্তার করছে ইরান এবং আইএস। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে ইরান বিস্তৃত করছে নিজেদের ক্ষমতার কালো হাত। কিন্তু আমরা তেহরানকে আর বাড়তে দেবো না। মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখবোই।

ইরানবিরোধী সুর ছিলো সৌদি প্রতিনিধির মুখেও। দেশটির সঙ্গে ছয় বিশ্ব শক্তির হওয়া পরমাণু চুক্তির সমালোচনা করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন এর ফলে অস্ত্র নির্মানের সুযোগ পাবে ইরান।

নেতানিয়াহুর অভিযোগের উত্তরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, নেতানিয়াহু একটা হাস্যকর চরিত্র, তাই তার কথার জবাব দেয়ার কোনো মানেই হয় না। কারণ আমরা এখানে এসেছি জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে, কোনো ভাঁড়ের তামাশা দেখতে নয়। ইসরাইলপ্রতিদিন দখলদারিত্ব চালাচ্ছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে, ষড়যন্ত্র করছে লেবানন নিয়ে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে সিরিয়ার। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য দোষ চাপাচ্ছে আমাদের ওপর।

সংকট সমাধানে সব পক্ষকে আলোচনার বসার আহ্বান ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের কন্ঠে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন,আমরা চাই স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান, সংঘাতপূর্ণ বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তের বদলে আপনারা শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসুন। বিশেষ করে ইরান এবং রাশিয়া।

বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ৪৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ৩০টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিব এবং ৯০ জন সংসদ সদস্যসহ প্রায় ৫০০ নীতিনির্ধারক অংশ নেন এই নিরাপত্তা সম্মেলনে। ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখে শুরু হয় তিনদিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন।