ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার : মীর হেলাল চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি জুনের ১৬ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠালেন ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার সীমান্তে পুশ ইন তৎপরতায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে: সাইফুল হক ফ্যামিলি কার্ড অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে’:ফরিদা খানম কৃতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন জাইমা রহমান বিমানভর্তি অর্থ দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করিয়েছিলেন ওবামা: ডোনাল্ড ট্রাম্প সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চাইলেন জামায়াত এমপি আইফোন চুরির অপবাদে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, বিক্ষোভ-ভাঙচুর

ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্বে সরগরম হল মিউনিখ সম্মেলন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গত রোববার ছিল মিউনিখ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের ৫৩তম আসরের শেষদিন। মিউনিখের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে শেষ দিনে আলোচনায় মূল বিষয় ছিলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলা সংঘাত এবং অস্থিতিশীলতা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে আসে ইরান-ইসরাইলইস্যু।

এই ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর হুঁশিয়ারিতে উত্তেজনার পারদ চড়ে যায় সম্মেলনের শেষদিনে। ‘ইরান অস্থিতিশীল করে তুলছে পুরো অঞ্চলকে’ এমন অভিযোগ করেন ইসরাইলেরপ্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেহরান পাল্টা জবাব দেয় নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্য ভাঁড়ামো আর হাস্যরস ছাড়া কিছুই নয়। এসময় ইরাক-সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার জন্যও তেল আবিবকে দায়ি করে তেহরান।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য এককভাবে ইরানকেই দায়ী করে বলেন, এই যে দেখুন কিভাবে মধ্যপ্রাচ্য নিজের প্রভাব বিস্তার করছে ইরান এবং আইএস। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে ইরান বিস্তৃত করছে নিজেদের ক্ষমতার কালো হাত। কিন্তু আমরা তেহরানকে আর বাড়তে দেবো না। মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখবোই।

ইরানবিরোধী সুর ছিলো সৌদি প্রতিনিধির মুখেও। দেশটির সঙ্গে ছয় বিশ্ব শক্তির হওয়া পরমাণু চুক্তির সমালোচনা করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন এর ফলে অস্ত্র নির্মানের সুযোগ পাবে ইরান।

নেতানিয়াহুর অভিযোগের উত্তরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, নেতানিয়াহু একটা হাস্যকর চরিত্র, তাই তার কথার জবাব দেয়ার কোনো মানেই হয় না। কারণ আমরা এখানে এসেছি জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে, কোনো ভাঁড়ের তামাশা দেখতে নয়। ইসরাইলপ্রতিদিন দখলদারিত্ব চালাচ্ছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে, ষড়যন্ত্র করছে লেবানন নিয়ে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে সিরিয়ার। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য দোষ চাপাচ্ছে আমাদের ওপর।

সংকট সমাধানে সব পক্ষকে আলোচনার বসার আহ্বান ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের কন্ঠে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন,আমরা চাই স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান, সংঘাতপূর্ণ বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তের বদলে আপনারা শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসুন। বিশেষ করে ইরান এবং রাশিয়া।

বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ৪৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ৩০টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিব এবং ৯০ জন সংসদ সদস্যসহ প্রায় ৫০০ নীতিনির্ধারক অংশ নেন এই নিরাপত্তা সম্মেলনে। ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখে শুরু হয় তিনদিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্বে সরগরম হল মিউনিখ সম্মেলন

আপডেট সময় ০২:০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গত রোববার ছিল মিউনিখ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের ৫৩তম আসরের শেষদিন। মিউনিখের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে শেষ দিনে আলোচনায় মূল বিষয় ছিলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলা সংঘাত এবং অস্থিতিশীলতা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে আসে ইরান-ইসরাইলইস্যু।

এই ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর হুঁশিয়ারিতে উত্তেজনার পারদ চড়ে যায় সম্মেলনের শেষদিনে। ‘ইরান অস্থিতিশীল করে তুলছে পুরো অঞ্চলকে’ এমন অভিযোগ করেন ইসরাইলেরপ্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেহরান পাল্টা জবাব দেয় নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্য ভাঁড়ামো আর হাস্যরস ছাড়া কিছুই নয়। এসময় ইরাক-সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার জন্যও তেল আবিবকে দায়ি করে তেহরান।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য এককভাবে ইরানকেই দায়ী করে বলেন, এই যে দেখুন কিভাবে মধ্যপ্রাচ্য নিজের প্রভাব বিস্তার করছে ইরান এবং আইএস। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে ইরান বিস্তৃত করছে নিজেদের ক্ষমতার কালো হাত। কিন্তু আমরা তেহরানকে আর বাড়তে দেবো না। মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখবোই।

ইরানবিরোধী সুর ছিলো সৌদি প্রতিনিধির মুখেও। দেশটির সঙ্গে ছয় বিশ্ব শক্তির হওয়া পরমাণু চুক্তির সমালোচনা করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন এর ফলে অস্ত্র নির্মানের সুযোগ পাবে ইরান।

নেতানিয়াহুর অভিযোগের উত্তরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, নেতানিয়াহু একটা হাস্যকর চরিত্র, তাই তার কথার জবাব দেয়ার কোনো মানেই হয় না। কারণ আমরা এখানে এসেছি জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে, কোনো ভাঁড়ের তামাশা দেখতে নয়। ইসরাইলপ্রতিদিন দখলদারিত্ব চালাচ্ছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে, ষড়যন্ত্র করছে লেবানন নিয়ে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে সিরিয়ার। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য দোষ চাপাচ্ছে আমাদের ওপর।

সংকট সমাধানে সব পক্ষকে আলোচনার বসার আহ্বান ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের কন্ঠে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন,আমরা চাই স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান, সংঘাতপূর্ণ বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তের বদলে আপনারা শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসুন। বিশেষ করে ইরান এবং রাশিয়া।

বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ৪৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ৩০টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিব এবং ৯০ জন সংসদ সদস্যসহ প্রায় ৫০০ নীতিনির্ধারক অংশ নেন এই নিরাপত্তা সম্মেলনে। ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখে শুরু হয় তিনদিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন।