ঢাকা ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন: বিশ্বব্যাংক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেতা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ সংকটে আছে জানিয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে আর সহায়তা লাগবে। বাংলাদেশ সরকার চাইলে দাতা সংস্থাটি আরও সহায়তা করবে বলেও জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন।

শনিবার ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরির্দশন শেষে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক কক্সবাজারে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা এবং রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর গত ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। নির্যাতন, বাড়িঘরে আগুন ও ধর্ষণের পর পালিয়ে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে তারা।

গত কয়েক মাসে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এরই মধ্যে তাদের নিজ দেশে ফেরত দিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্প্রতি চুক্তিও হয়েছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে এই প্রত্যাবাসন শুরুর কথা। প্রথম দিকে প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার রোহিঙ্গার ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। দুই মাস এভাবে চলার পর ফিরে যাওয়ার রোহিঙ্গার সংখ্যা বাড়বে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা ডিক্সন বলেন, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা অনেক। কক্সবাজারের পাবর্ত্য এলাকায় যতদূর চোখ যায়, ততদূর পর্যন্ত লাইনের পর লাইন শুধু প্লাস্টিক শিট এবং বাঁশের তৈরি ছোট ছোট ঘর চোখে পড়ে। এতে অবকাঠামো এবং পানিসম্পদ ও পরিবেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নানা ধরনের রোগব্যাধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিক্সন রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরির্দশন করেন এবং এ সময় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এলাকার রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, শিশু কেন্দ্র ও নারীবান্ধব স্থানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন। এসব ব্যবস্থা রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে, তবে স্বাভাবিক জীবন পুনরায় শুরু করতে আরও সহায়তার প্রয়োজন।

ডিক্সন বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এসব অসহায় রোহিঙ্গার জন্য বিশাল উদারতা দেখিয়েছে। সংকট দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের এই সহায়তায় হাজার হাজার রোহিঙ্গার জীবন বাঁচিয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সহায়তার প্রয়োজন। সরকার সাহায্যের আবেদন জানালে আমরা স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সাহায্য সংগ্রহ করতে পারি। এতে স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবাই এর সুফল পাবে।

ডিক্সন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগণের সহায়তায় কাজ করছে, এমন স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন: বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় ১১:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেতা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ সংকটে আছে জানিয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে আর সহায়তা লাগবে। বাংলাদেশ সরকার চাইলে দাতা সংস্থাটি আরও সহায়তা করবে বলেও জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন।

শনিবার ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরির্দশন শেষে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক কক্সবাজারে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা এবং রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর গত ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। নির্যাতন, বাড়িঘরে আগুন ও ধর্ষণের পর পালিয়ে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে তারা।

গত কয়েক মাসে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এরই মধ্যে তাদের নিজ দেশে ফেরত দিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্প্রতি চুক্তিও হয়েছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে এই প্রত্যাবাসন শুরুর কথা। প্রথম দিকে প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার রোহিঙ্গার ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। দুই মাস এভাবে চলার পর ফিরে যাওয়ার রোহিঙ্গার সংখ্যা বাড়বে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা ডিক্সন বলেন, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা অনেক। কক্সবাজারের পাবর্ত্য এলাকায় যতদূর চোখ যায়, ততদূর পর্যন্ত লাইনের পর লাইন শুধু প্লাস্টিক শিট এবং বাঁশের তৈরি ছোট ছোট ঘর চোখে পড়ে। এতে অবকাঠামো এবং পানিসম্পদ ও পরিবেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নানা ধরনের রোগব্যাধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিক্সন রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরির্দশন করেন এবং এ সময় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এলাকার রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, শিশু কেন্দ্র ও নারীবান্ধব স্থানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন। এসব ব্যবস্থা রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে, তবে স্বাভাবিক জীবন পুনরায় শুরু করতে আরও সহায়তার প্রয়োজন।

ডিক্সন বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এসব অসহায় রোহিঙ্গার জন্য বিশাল উদারতা দেখিয়েছে। সংকট দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের এই সহায়তায় হাজার হাজার রোহিঙ্গার জীবন বাঁচিয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সহায়তার প্রয়োজন। সরকার সাহায্যের আবেদন জানালে আমরা স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সাহায্য সংগ্রহ করতে পারি। এতে স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবাই এর সুফল পাবে।

ডিক্সন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগণের সহায়তায় কাজ করছে, এমন স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।