ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিক পেটানো ৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত খাগড়াছড়িতে পৃথক গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের দুই সদস্য নিহত নিষিদ্ধ সংগঠনকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে: নবীউল্লাহ নবী একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা, এমপিদের ভূমিকা গলাবাজি: জামায়াত এমপি ‘সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে’:স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান মঈন খানের মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের জন্য ইসরাইল দায়ী: গালিবাফ চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারালেন আইনজীবী

ভারতে বিচারকদের বিদ্রোহের নেপথ্যে বিচারকের মৃত্যু

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতে এক বিচারকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দেশটির তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) অমিত শাহর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিচারক ব্রিজগোপাল হরকিষণ লোয়ার মৃত্যুর ঘটনায় অমিত শাহর বিরুদ্ধে নতুন করে ফৌজদারি মামলা করতে হবে। ওই বিচারকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার জের ধরেই বিচারকদের মধ্যে বিদ্রোহ হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

গোয়া প্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি শান্তারাম নায়েক বলেছেন, ফৌজদারি মামলায় অমিত শাহর নাম রয়েছে। নাগপুরে বিচারক লোয়ার রহস্যজনক মৃত্যুও ফের খতিয়ে দেখা উচিত।

বিচারক লোয়ার মৃত্যু রহস্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবির মামলা নিয়েই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে চার জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নজিরবিহীন সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর এ বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে। প্রধান বিচারপতি এই মামলাটি বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চে পাঠিয়েছিলেন। এটি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

ভারতের প্রবীণ আইনজীবী দুষমন্ত দাভে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কে না জানে, বিচারপতি অরুণ মিশ্র বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ! আর কংগ্রেস নেতা শান্তারাম প্রশ্ন তুলেছেন, কোন মামলা কোন বিচারপতি শুনবেন, তা ঠিক করার প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদেও প্রশ্ন তোলা যায় না। তাহলে সরকার কীভাবে নিজের ক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই ওই মামলাটি গুজরাট থেকে মহারাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়া হয়। শুনানি শেষ হওয়ার আগে বিচারককে বদলি না করার নির্দেশও দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। তা সত্ত্বেও লোয়ার পূর্বসূরি, বিচারক জে টি উটপতকে বদলি করা হয়।

এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিচারক লোয়ার মৃত্যু হলে মামলার দায়িত্ব পান বিচারক এম বি গোসাভি। ওই মাসের শেষেই তিনি অমিতকে বেকসুর খালাস করে দেন।

২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর নাগপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিচারক লোয়ার আকস্মিক মৃত্যু হয়। তখন মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী লোয়া একটি মামলা শুনছিলেন। সেটি ছিল ২০০৫ সালে গুজরাট পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে সোহরাবুদ্দিন শেখকে হত্যার অভিযোগের মামলা। অমিত শাহ তখন গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। সিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে অমিতের নাম ছিল।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, হৃদরোগে মৃত্যু হয় তার। কিন্তু লোয়ার পরিবার সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী

ভারতে বিচারকদের বিদ্রোহের নেপথ্যে বিচারকের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৮:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতে এক বিচারকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দেশটির তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) অমিত শাহর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিচারক ব্রিজগোপাল হরকিষণ লোয়ার মৃত্যুর ঘটনায় অমিত শাহর বিরুদ্ধে নতুন করে ফৌজদারি মামলা করতে হবে। ওই বিচারকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার জের ধরেই বিচারকদের মধ্যে বিদ্রোহ হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

গোয়া প্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি শান্তারাম নায়েক বলেছেন, ফৌজদারি মামলায় অমিত শাহর নাম রয়েছে। নাগপুরে বিচারক লোয়ার রহস্যজনক মৃত্যুও ফের খতিয়ে দেখা উচিত।

বিচারক লোয়ার মৃত্যু রহস্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবির মামলা নিয়েই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে চার জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নজিরবিহীন সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর এ বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে। প্রধান বিচারপতি এই মামলাটি বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চে পাঠিয়েছিলেন। এটি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

ভারতের প্রবীণ আইনজীবী দুষমন্ত দাভে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কে না জানে, বিচারপতি অরুণ মিশ্র বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ! আর কংগ্রেস নেতা শান্তারাম প্রশ্ন তুলেছেন, কোন মামলা কোন বিচারপতি শুনবেন, তা ঠিক করার প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদেও প্রশ্ন তোলা যায় না। তাহলে সরকার কীভাবে নিজের ক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই ওই মামলাটি গুজরাট থেকে মহারাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়া হয়। শুনানি শেষ হওয়ার আগে বিচারককে বদলি না করার নির্দেশও দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। তা সত্ত্বেও লোয়ার পূর্বসূরি, বিচারক জে টি উটপতকে বদলি করা হয়।

এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিচারক লোয়ার মৃত্যু হলে মামলার দায়িত্ব পান বিচারক এম বি গোসাভি। ওই মাসের শেষেই তিনি অমিতকে বেকসুর খালাস করে দেন।

২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর নাগপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিচারক লোয়ার আকস্মিক মৃত্যু হয়। তখন মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী লোয়া একটি মামলা শুনছিলেন। সেটি ছিল ২০০৫ সালে গুজরাট পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে সোহরাবুদ্দিন শেখকে হত্যার অভিযোগের মামলা। অমিত শাহ তখন গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। সিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে অমিতের নাম ছিল।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, হৃদরোগে মৃত্যু হয় তার। কিন্তু লোয়ার পরিবার সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।