ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নিহত তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি! বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে: জামায়াত আমির হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী বা বের হওয়া সব জাহাজ আটকানো হবে: ট্রাম্প

রোহিঙ্গা নিধনের কথা স্বীকার মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কথিত সন্ত্রাস দমনের নামে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন ও হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে বুধবার এক বিবৃতিতে এই স্বীকারোক্তি এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই প্রথমবারের মতো দেশটির সেনাবাহিনী নির্যাতনের কথা স্বীকার করলো। এতদিন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমন কি সেনা তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মিয়ানমারের বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ করেনি।

সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক দেয়া বিবৃতি বলা হয়, কথিত সন্ত্রাস দমন অভিযানে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরার পর হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও সেনা সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে একযোগে মিয়ানমার পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলার পর ব্যাপক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা, পরে চার মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ ও আন্তজার্তিক সম্প্রদায়। অভিযানে এক মাসেই ৬ হাজার ৭০০ মানুষকে হত্যা করা হয় বলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে। হিউম্যান রাটস ওয়াচ যার সচিত্র প্রতিবেদনও দিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্যরা বলেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে যে অভিযান চালায়, তার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি অংশ ব্যাপক হারে ধর্ষণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নিজ বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু

রোহিঙ্গা নিধনের কথা স্বীকার মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

আপডেট সময় ০১:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কথিত সন্ত্রাস দমনের নামে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন ও হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে বুধবার এক বিবৃতিতে এই স্বীকারোক্তি এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই প্রথমবারের মতো দেশটির সেনাবাহিনী নির্যাতনের কথা স্বীকার করলো। এতদিন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমন কি সেনা তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মিয়ানমারের বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ করেনি।

সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক দেয়া বিবৃতি বলা হয়, কথিত সন্ত্রাস দমন অভিযানে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরার পর হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও সেনা সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে একযোগে মিয়ানমার পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলার পর ব্যাপক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা, পরে চার মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ ও আন্তজার্তিক সম্প্রদায়। অভিযানে এক মাসেই ৬ হাজার ৭০০ মানুষকে হত্যা করা হয় বলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে। হিউম্যান রাটস ওয়াচ যার সচিত্র প্রতিবেদনও দিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্যরা বলেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে যে অভিযান চালায়, তার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি অংশ ব্যাপক হারে ধর্ষণ।