ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে গ্রামপুলিশের আত্মহত্যা চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু: স্পিকার জনগণের কাছে যান, শহর ঘুরে দেখুন: সিটি প্রশাসকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ২৩ দেশে এমএলএআর পাঠিয়েছে সরকার:সংসদে অর্থমন্ত্রী তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ভুয়া প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হয়েছে ইরান: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্চুয়ালি আদালত পরিচালনায় বিচারকাজে সমস্যা হবে না : অ্যাটর্নি জেনারেল

বগুড়ায় মৃত্যুকূপের সন্ধান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রায় ৪০ ফিট খননের পর বগুড়ার মৃত্যুকূপ থেকে মিলেছে মানুষের কংকাল সহ নানা ধরনের আলামত। গত ১৪ ডিসেম্বর স্বাধীনতা যুৃদ্ধের দলিল পত্রে উল্লেখিত বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের এসডিও বাংলোর ভরাট হয়ে যাওয়া কূপটি খননের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। ৬ জানুয়ারি বিকেলে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী। খনন কাজের তৃতীয় দফায় মিলেছে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের গাড়-গোর, কাপড়, মাথার চুল, বন্ধনিসহ ইলেক্ট্রিক তার।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তররা বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন একাধিক মানুষের এসব হাড়ের ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যাবে বয়স, মৃত্যুর সময়সহ অন্যান্য বিষয়গুলো। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের অষ্টম খন্ডে পাওয়া যায় এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।

সেখানে প্রত্যদর্শী তৎকালীন রেলওয়ের কর্মচারি দাশিন জামাদারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় রেলওয়ের এই এসডিও বাংলোটি ছিলো পাকিস্তানিদের টর্চার সেল। বর্বর নিপীড়ন চালিয়ে সেই সেলে প্রতিদিন খুন করা হতো অসংখ্য মানুষকে। এরপর তাদের মরদেহ ফেলা হতো বাংলোর ভেতরে থাকা ওই কূপ ও বাংলোর আশপাশে। কমপক্ষে ৫০০ মানুষকে হত্যার পর কূপটিতে ফেলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে।

জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী জানান , বগুড়া পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ৪০ ফিটের পর পানি চলে আসায় আর সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। আর তাই ফরেনসিক রিপোর্টের পর তিনি মুক্তিযদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতা চাইবেন এবং বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে খনন কাজ অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডাঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সামির হোসেন মিশু, পৌর মেয়র এ্যাড. মাহবুবুর রহমানসহ আরো অনেকে।

স্থানীয় যুবক আকবর আহমেদের গবেষনার সূত্র ধরে ৪৬ বছর আলোচনার বাইরে থাকা এবিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বগুড়ায় মৃত্যুকূপের সন্ধান

আপডেট সময় ১১:১৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রায় ৪০ ফিট খননের পর বগুড়ার মৃত্যুকূপ থেকে মিলেছে মানুষের কংকাল সহ নানা ধরনের আলামত। গত ১৪ ডিসেম্বর স্বাধীনতা যুৃদ্ধের দলিল পত্রে উল্লেখিত বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের এসডিও বাংলোর ভরাট হয়ে যাওয়া কূপটি খননের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। ৬ জানুয়ারি বিকেলে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী। খনন কাজের তৃতীয় দফায় মিলেছে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের গাড়-গোর, কাপড়, মাথার চুল, বন্ধনিসহ ইলেক্ট্রিক তার।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তররা বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন একাধিক মানুষের এসব হাড়ের ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যাবে বয়স, মৃত্যুর সময়সহ অন্যান্য বিষয়গুলো। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের অষ্টম খন্ডে পাওয়া যায় এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।

সেখানে প্রত্যদর্শী তৎকালীন রেলওয়ের কর্মচারি দাশিন জামাদারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় রেলওয়ের এই এসডিও বাংলোটি ছিলো পাকিস্তানিদের টর্চার সেল। বর্বর নিপীড়ন চালিয়ে সেই সেলে প্রতিদিন খুন করা হতো অসংখ্য মানুষকে। এরপর তাদের মরদেহ ফেলা হতো বাংলোর ভেতরে থাকা ওই কূপ ও বাংলোর আশপাশে। কমপক্ষে ৫০০ মানুষকে হত্যার পর কূপটিতে ফেলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে।

জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী জানান , বগুড়া পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ৪০ ফিটের পর পানি চলে আসায় আর সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। আর তাই ফরেনসিক রিপোর্টের পর তিনি মুক্তিযদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতা চাইবেন এবং বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে খনন কাজ অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডাঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সামির হোসেন মিশু, পৌর মেয়র এ্যাড. মাহবুবুর রহমানসহ আরো অনেকে।

স্থানীয় যুবক আকবর আহমেদের গবেষনার সূত্র ধরে ৪৬ বছর আলোচনার বাইরে থাকা এবিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের।