ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, একজনের মৃত্যু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: জোনায়েদ সাকি অনিয়মের প্রমাণ থাকলে যেকোনো বিচার মেনে নিতে প্রস্তুত: আসিফ এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, প্রাণে রক্ষা পেলেন রোগীসহ চারজন ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের ‘ক্ষমতায় গেলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি’:রিজভী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ইসি আনোয়ারুল বিসমিল্লাহ সারা জীবন থাকবে, সব সময়ই থাকবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

সৌদিতে আমাদের লোককে শীর্ষপদে বসিয়েছি: ট্রাম্প

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবে মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়াই করে তার বন্ধুদের বলেছিলেন, তিনি আর তার জামাতা জ্যারেড কুশনার সৌদি আরবে একটি ‘অভ্যুত্থানের পেছনে’ কলকাঠি নেড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক মাইকেল উলফের বই থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরমহল সম্পর্কে আরো যেসব বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। ট্রাম্প অবশ্য এ বইকে ‘মিথ্যায় ভর্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন। খবর বিবিসি বাংলার।

ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরব যান, সেখানে তিনি ১১ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির এক চুক্তি করেন। সৌদিরা সাড়ে সাত কোটি ডলার খরচ করে ট্রাম্পের সম্মানে এক পার্টি দেয়, ট্রাম্পের পরিবারকে সোনার তৈরি গলফ কার্টে করে বেড়াতে নিয়ে যায়। তখনকার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের (বইতে তাকে বর্ণনা করা হয়েছে এমবিএন নামে) সঙ্গে কুশনারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু উলফ লিখছেন, মোহাম্মদ বিন সালমান বা ‘এমবিএস’-এর সঙ্গেও কুশনারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমবিএস-কে সে বছর মার্চ মাসে হোয়াইট হাউস সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলো।

এমবিএস একে সৌদি রাজপরিবারের ভেতরের ক্ষমতার লড়াইয়ে তার নিজের পক্ষে ব্যবহার করেন। হোয়াইট হাউস এতে কোনো বাধাই দেয়নি। মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, কয়েক সপ্তাহ পর ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরের সময় চুক্তিগুলোর কথা ঘোষণা করা হবে। এই সফরের কয়েক সপ্তাহ পরই মোহাম্মদ বিন নায়েফকে গভীর রাতে আটক করলেন মোহাম্মদ বিন সালমান, তাকে বাধ্য করলেন যুবরাজের পদ ছেড়ে দিতে, এবং সেই পদে আসীন হলেন এমবিএস নিজেই। ট্রাম্প এ খবর কীভাবে তার বন্ধুদের বলেছিলেন, তা বর্ণিত হয়েছে উলফের বই ফায়ার এ্র্যান্ড ফিউরির ২৩১ পৃষ্ঠায়।

মাইকেল উলফ তার বইতে লিখছেন, হোয়াইট হাউসে তাসার পর মি. ট্রাম্প কড়া নিয়ম চালু করেন যে স্টাফদের কেউ তার ব্যক্তিগত জিনিসে হাত দিতে পারবে না, বিশেষ করে তার টুথব্রাশে। প্রেসিডেন্ট চান তার জিনিসপত্র তিনি যেভাবে ঘরে ফেলে যাবেন তা যেন ঠিক সেভাবেই থাকে। এমনকি ময়লা কাপড়চোপড়ও মেঝেতে ফেলে যান তিনি। এ নিয়মের পেছনেও তার বিষ প্রয়োগের ভয় কাজ করে – বলছেন উলফ। কেউ তাকে বিষ খাইয়ে দিতে পারে এ ভয়ে তিনি ম্যাকডোনাল্ডসে খেতে পছন্দ করেন- কারণ কেউ জানবে না যে তিনি কখন সেখানে যাবেন এবং খাবারটাও তখন তখন তৈরি করে দেয়া হয়।

হোয়াইট হাউসে এসে ট্রাম্প তার ঘরে মোট তিনটি টেলিভিশন দিতে বলেন। চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে তিনি তার শো্য়ার ঘরের দরজায় তালা লাগাতেও বলেন।

এ নিয়ে তার সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের রেষারেষি হয়েছিল। কারণ তারা চাইছিল তাদের লোকজন যেন ঘরে ঢুকতে পারে সে সুযোগ থাকতে হবে। ট্রাম্প হচ্ছেন জন এফ কেনেডির পর প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে একঘরে থাকেন না, আলাদা শোয়ার ঘরে থাকেন।

উলফের রিপোর্টিংএ দেখা যায়, ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ লোকজনও তার বুদ্ধিমত্তা এবং দেশের নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি লিখেছেন, প্রত্যেকেই তার নিজের মতো করে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলতেন যেন প্রেসিডেন্টের যথেষ্ট জানাশোনা নেই, এমনকি তিনি তা নিয়ে ভাবেনও না। একজন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট একটি ‘ইডিয়ট’, আরেকজন বলেছেন, তিনি ‘বিষ্ঠার মতো নির্বোধ’।

উলফ তার বইতে লিখছেন, বাচ্চারা অর্থাৎ ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আতংকিত ছিলেন যে নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে এফবিআই যে তদন্ত করছিল – তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে। তারা ভীত ছিলেন যে এফবিআই এবং বিচার বিভাগের তদন্ত রাশিয়া প্রশ্ন ছাড়িয়ে ট্রাম্প পরিবারের অর্থসম্পদের দিকে যাচ্ছে। কুশনারই নাকি এফবিআইপ্রধান জেরেমি কোমিকে সরিয়ে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেলেন, এবং ব্যাপারটা যে ট্রাম্প নিজেই কাজটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তার সহকারীদের প্রায় কেউই জানতেন না – লিখছেন উলফ।

জাতিসংঘের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বোল্টনকে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার কথা উঠলেও তার গোঁফের কারণে তা হয়নি। কারণ স্টিভ ব্যানন বলেছিলেন, “বোল্টনের গোঁফটা একটা সমস্যা। ট্রাম্প মনে করেন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপযুক্ত চেহারা নেই” – এক পার্টিতে বলেছিলেন তিনি।

শার্লটভিলের ঘটনার পর আগস্ট মাসে বিক্ষোভের সময় ট্রাম্প ‘সব পক্ষের ঘৃণা. গোঁড়ামি, এবং সহিংসতার” নিন্দা করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সংগঠন কু ক্লাক্স ক্লান বা কেকেকে’র নিন্দা না করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। উলফ তার বইতে লিখছেন, ট্রাম্প মনে করতেন কেকেকে সম্ভবত তাদের পুরনো মতাদর্শে এখন আর বিশ্বাস করে না, বা কিসে বিশ্বাস করে তা কেউ হয়তো জানেই না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে আমাদের লোককে শীর্ষপদে বসিয়েছি: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০১:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবে মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়াই করে তার বন্ধুদের বলেছিলেন, তিনি আর তার জামাতা জ্যারেড কুশনার সৌদি আরবে একটি ‘অভ্যুত্থানের পেছনে’ কলকাঠি নেড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক মাইকেল উলফের বই থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরমহল সম্পর্কে আরো যেসব বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। ট্রাম্প অবশ্য এ বইকে ‘মিথ্যায় ভর্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন। খবর বিবিসি বাংলার।

ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরব যান, সেখানে তিনি ১১ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির এক চুক্তি করেন। সৌদিরা সাড়ে সাত কোটি ডলার খরচ করে ট্রাম্পের সম্মানে এক পার্টি দেয়, ট্রাম্পের পরিবারকে সোনার তৈরি গলফ কার্টে করে বেড়াতে নিয়ে যায়। তখনকার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের (বইতে তাকে বর্ণনা করা হয়েছে এমবিএন নামে) সঙ্গে কুশনারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু উলফ লিখছেন, মোহাম্মদ বিন সালমান বা ‘এমবিএস’-এর সঙ্গেও কুশনারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমবিএস-কে সে বছর মার্চ মাসে হোয়াইট হাউস সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলো।

এমবিএস একে সৌদি রাজপরিবারের ভেতরের ক্ষমতার লড়াইয়ে তার নিজের পক্ষে ব্যবহার করেন। হোয়াইট হাউস এতে কোনো বাধাই দেয়নি। মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, কয়েক সপ্তাহ পর ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরের সময় চুক্তিগুলোর কথা ঘোষণা করা হবে। এই সফরের কয়েক সপ্তাহ পরই মোহাম্মদ বিন নায়েফকে গভীর রাতে আটক করলেন মোহাম্মদ বিন সালমান, তাকে বাধ্য করলেন যুবরাজের পদ ছেড়ে দিতে, এবং সেই পদে আসীন হলেন এমবিএস নিজেই। ট্রাম্প এ খবর কীভাবে তার বন্ধুদের বলেছিলেন, তা বর্ণিত হয়েছে উলফের বই ফায়ার এ্র্যান্ড ফিউরির ২৩১ পৃষ্ঠায়।

মাইকেল উলফ তার বইতে লিখছেন, হোয়াইট হাউসে তাসার পর মি. ট্রাম্প কড়া নিয়ম চালু করেন যে স্টাফদের কেউ তার ব্যক্তিগত জিনিসে হাত দিতে পারবে না, বিশেষ করে তার টুথব্রাশে। প্রেসিডেন্ট চান তার জিনিসপত্র তিনি যেভাবে ঘরে ফেলে যাবেন তা যেন ঠিক সেভাবেই থাকে। এমনকি ময়লা কাপড়চোপড়ও মেঝেতে ফেলে যান তিনি। এ নিয়মের পেছনেও তার বিষ প্রয়োগের ভয় কাজ করে – বলছেন উলফ। কেউ তাকে বিষ খাইয়ে দিতে পারে এ ভয়ে তিনি ম্যাকডোনাল্ডসে খেতে পছন্দ করেন- কারণ কেউ জানবে না যে তিনি কখন সেখানে যাবেন এবং খাবারটাও তখন তখন তৈরি করে দেয়া হয়।

হোয়াইট হাউসে এসে ট্রাম্প তার ঘরে মোট তিনটি টেলিভিশন দিতে বলেন। চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে তিনি তার শো্য়ার ঘরের দরজায় তালা লাগাতেও বলেন।

এ নিয়ে তার সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের রেষারেষি হয়েছিল। কারণ তারা চাইছিল তাদের লোকজন যেন ঘরে ঢুকতে পারে সে সুযোগ থাকতে হবে। ট্রাম্প হচ্ছেন জন এফ কেনেডির পর প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে একঘরে থাকেন না, আলাদা শোয়ার ঘরে থাকেন।

উলফের রিপোর্টিংএ দেখা যায়, ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ লোকজনও তার বুদ্ধিমত্তা এবং দেশের নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি লিখেছেন, প্রত্যেকেই তার নিজের মতো করে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলতেন যেন প্রেসিডেন্টের যথেষ্ট জানাশোনা নেই, এমনকি তিনি তা নিয়ে ভাবেনও না। একজন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট একটি ‘ইডিয়ট’, আরেকজন বলেছেন, তিনি ‘বিষ্ঠার মতো নির্বোধ’।

উলফ তার বইতে লিখছেন, বাচ্চারা অর্থাৎ ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আতংকিত ছিলেন যে নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে এফবিআই যে তদন্ত করছিল – তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে। তারা ভীত ছিলেন যে এফবিআই এবং বিচার বিভাগের তদন্ত রাশিয়া প্রশ্ন ছাড়িয়ে ট্রাম্প পরিবারের অর্থসম্পদের দিকে যাচ্ছে। কুশনারই নাকি এফবিআইপ্রধান জেরেমি কোমিকে সরিয়ে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেলেন, এবং ব্যাপারটা যে ট্রাম্প নিজেই কাজটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তার সহকারীদের প্রায় কেউই জানতেন না – লিখছেন উলফ।

জাতিসংঘের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বোল্টনকে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার কথা উঠলেও তার গোঁফের কারণে তা হয়নি। কারণ স্টিভ ব্যানন বলেছিলেন, “বোল্টনের গোঁফটা একটা সমস্যা। ট্রাম্প মনে করেন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপযুক্ত চেহারা নেই” – এক পার্টিতে বলেছিলেন তিনি।

শার্লটভিলের ঘটনার পর আগস্ট মাসে বিক্ষোভের সময় ট্রাম্প ‘সব পক্ষের ঘৃণা. গোঁড়ামি, এবং সহিংসতার” নিন্দা করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সংগঠন কু ক্লাক্স ক্লান বা কেকেকে’র নিন্দা না করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। উলফ তার বইতে লিখছেন, ট্রাম্প মনে করতেন কেকেকে সম্ভবত তাদের পুরনো মতাদর্শে এখন আর বিশ্বাস করে না, বা কিসে বিশ্বাস করে তা কেউ হয়তো জানেই না।