ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা জাল নথিপত্র দিয়ে করা হয়েছে: মওদুদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা জাল নথিপত্র দিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। এই মামলায় ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে তারা এই অভিযোগ করেন। আর যারা এই মামলা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে দরখাস্ত দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেত্রীর আরেক আইনজীবী মওদুদ আহমদ।

বুধবার পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এই মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনানিতে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে নথি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে সেটি জাল। এখানে কারও কোনো সাক্ষর নেই।’

আবার ‘যখন এই ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তখন দেশ ছিল মন্ত্রিপরিষদ শাসিত, কিন্তু নথিতে লেখা আছে রাষ্ট্রপতির ত্রাণ তহবিল। আবার এই নথিতে ঘষামাজা আছে’। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা এই দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জাল নথি তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বলেন, এই জাল নথির সপক্ষে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্যও দিয়েছেন পাঁচ জন।

মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘যারা এই মামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমার আদালতে দরখাস্ত দাখিল করব।’ মওদুদ আহমদ বলেন, যেসব নথিপত্র দেয়া হয়েছে সেগুলা বানোয়াট, এগুলো দিয়ে মামলা হতে পারে না। যারা এই জালিয়াতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা প্রয়োজন। আমরা একটি দরখাস্ত জমা দেবো আদালতে।

তবে বিএনপি নেতাদের দাবিকে কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘ওনারা একটা কৌশল অবলম্বন করে এই কথাগুলো বলছেন। ওনারা আগে বলতেন কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই, নথি নেই, এখন বলছেন নথি আছে, তবে এগুলো সৃজন করা হয়েছে।’

‘তবে আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ দিয়ে মামলা করেছি। আর নথিগুলা পুরোপুরি সঠিক।’ বৃহস্পতিবার সপ্তম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটির শুনানি শেষ হওয়ার কথা। এরপর রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখা হতে পারে।

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। খালেদা জিয়া ছাড়াও এই মামলায় তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে আসামি করা হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নামে ওই মামলাতেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাটির বিচারও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা জাল নথিপত্র দিয়ে করা হয়েছে: মওদুদ

আপডেট সময় ১১:১৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা জাল নথিপত্র দিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। এই মামলায় ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে তারা এই অভিযোগ করেন। আর যারা এই মামলা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে দরখাস্ত দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেত্রীর আরেক আইনজীবী মওদুদ আহমদ।

বুধবার পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এই মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনানিতে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে নথি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে সেটি জাল। এখানে কারও কোনো সাক্ষর নেই।’

আবার ‘যখন এই ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তখন দেশ ছিল মন্ত্রিপরিষদ শাসিত, কিন্তু নথিতে লেখা আছে রাষ্ট্রপতির ত্রাণ তহবিল। আবার এই নথিতে ঘষামাজা আছে’। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা এই দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জাল নথি তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বলেন, এই জাল নথির সপক্ষে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্যও দিয়েছেন পাঁচ জন।

মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘যারা এই মামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমার আদালতে দরখাস্ত দাখিল করব।’ মওদুদ আহমদ বলেন, যেসব নথিপত্র দেয়া হয়েছে সেগুলা বানোয়াট, এগুলো দিয়ে মামলা হতে পারে না। যারা এই জালিয়াতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা প্রয়োজন। আমরা একটি দরখাস্ত জমা দেবো আদালতে।

তবে বিএনপি নেতাদের দাবিকে কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘ওনারা একটা কৌশল অবলম্বন করে এই কথাগুলো বলছেন। ওনারা আগে বলতেন কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই, নথি নেই, এখন বলছেন নথি আছে, তবে এগুলো সৃজন করা হয়েছে।’

‘তবে আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ দিয়ে মামলা করেছি। আর নথিগুলা পুরোপুরি সঠিক।’ বৃহস্পতিবার সপ্তম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটির শুনানি শেষ হওয়ার কথা। এরপর রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখা হতে পারে।

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। খালেদা জিয়া ছাড়াও এই মামলায় তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে আসামি করা হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নামে ওই মামলাতেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাটির বিচারও প্রায় শেষ পর্যায়ে।