অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
‘আঠারো বছর ধরে শিক্ষকতা করে এখন পর্যন্ত কোন বেতন পাই না, একজন মানুষ গড়ার কারিগর হয়েও আজকে আমাকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আমার স্বামী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালাতেই টানাটানি হয়। ছেলে-মেয়েদের ভালো কোন স্কুলে ভর্তি করাতে পারি না।’ এভাবেই দৈনিক আকাশকে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বাউফলের বগা ইউনিয়ন নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার, যিনি নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতনের জন্য আন্দোলনে জাতীয় প্রেসক্লাবে এসেছেন।
এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নন-এমপি শিক্ষকদের অবস্থান র্কমসূচির তৃতীয় দিন আজ। দাবি আদায়ে গত মঙ্গলবার থেকে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নন-এমপি শিক্ষরা। বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষকদের তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
আন্দোলনে অংশ মেয়া শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার বলেন, ‘আমরা বেতনের জন বহু আন্দোলন করেছি। বহু আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হয় নাই। আমরা আর মানবেতর জীবনযাপন করতে পারব না, এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।
বরিশালের বানারীপাড়া থেকে এসেছেন রুনা খানম। তিনি একটি ফেস্টুন নিয়ে এসেছেন। তাতে লেখা আছে ‘আমরা শিক্ষক, বেতন দিন, না হয় গুলি করুন’। রুনা খানম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘দশ বছর থেকে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। শিক্ষক হয়েও কেন আমাদের এভাবে জীবনযাপন করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে উঠব না, আমাদের গুলি করে মারুক না হয় বেতন দেয়া হোক।’
নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, দীর্ঘ বিশ বছর থেকে বিনা বেতনে শিক্ষক-কর্মচারীরা দিন কাটিয়েছে। আমরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মসূচি স্থগিতও করেছি। কিন্তু আমাদের দাবি পূরণ হয় নাই, তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সকল শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ রাজপথে অবস্থান করবো।’ অবস্থান কর্মসূচিতে সারা দেশ থেকে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















