ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল

মিশরে ১৫ জনের ফাঁসি কার্যকর

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সিনাই উপদ্বীপে হামলা চালিয়ে সেনাদের হত্যা ও সামারিক বাহিনীর গাড়ি ধ্বংসের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির ফাঁসি কার্যকর করেছে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। মিশরের উত্তরাঞ্চলের দুটি কারাগারে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এ ঘটনাকে মিশরের বিতর্কিত নীতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৩ সালে সিনাই উপদ্বীপে সামরিক বাহিনী বিরুদ্ধে হামলার দায়ে অভিযুক্ত হন এই ১৫ আসামি। অভিযোগে বলা হয়, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মিশরীয় শাখার হয়ে তারা ওই হামলা চালান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনাই উপদ্বীপে মিশরীয় সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে আইএস। এসব হামলায় বহু সেনা ও বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছেন।

সম্প্রতি সিনাই উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলে একটি মসজিদে হামলায় ৩০০ জনের বেশি নিহত হন। ওই হামলার জন্য আইএসকে দায়ী করা হয়, যদিও তারা দায় স্বীকার করেনি। এরপর মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি যেকোনো মূল্যে আইএসকে পরাজিত করতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেন।

তবে মঙ্গলবারের ফাঁসি কার্যকরের ঘটনাকে কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট আল-সিসির অধীনে আরো একবার মানবাধিকার হরণের দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন। ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন আল-সিসি। তিনি ক্ষমতা দখলের পর বহু মানুষের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রাইভের পরিচালক মায়া ফোয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, এসব মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিচারের মৌলিক স্বচ্ছতা পূরণে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে মিশরের আদালত; বিশেষ করে গণ-আদালত ও সামরিক আদালতের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে।

বাড়ছে মৃত্যৃদণ্ড কার্যকর

‘ডেথ পেনাল্টি ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ (বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড) শীর্ষক করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রকল্পে বলা হচ্ছে, আল-সিসি মিশরের ক্ষমতা দখলের পর ফাঁসি কার্যকরের সংখ্যা চরম মাত্রায় বেড়ে গেছে। বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের সার্বিক তথ্য আইনপ্রণেতা, বিচারক, বিজ্ঞজন ও অন্যদের জানিয়ে থাকে এই প্রকল্প।

২০১১ সালে প্রাক্তন স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর ২০১৩ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসির কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া পর্যন্ত মিশরে মাত্র একজন ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কিন্তু ২০১৪ সালের শুরুতেই দেশটিতে ১৪ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়। পরের বছর ২২ জনের এবং ২০১৬ সালে ৪৪ জনের প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে চলতি বছরে সোমবারের আগে পর্যন্ত মাত্র একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও পরদিন ১৫ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের প্রাণ নেওয়া হলো।

আল-সিসির সরকার সাংবাদিক ও সামকামী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। দেশভিত্তিক মুক্ত গণমাধ্যমের তালিকায় ১৮১ দেশের মধ্যে মিশরের অবস্থান ১৬১তম। অর্থাৎ তার দেশে গণমাধ্যম স্বাধীন নয়। এসব নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পেয়ে যাচ্ছে মিশর এবং আগামী বছর মিশরকে ১৩৮ কোটি ডলার দেবে তারা।

রিপ্রাইভের মায়া ফোয়া বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যারা মিশরের মিত্র তাদের অবশ্যই এসব হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করা উচিত।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মিশরে ১৫ জনের ফাঁসি কার্যকর

আপডেট সময় ১২:৫০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সিনাই উপদ্বীপে হামলা চালিয়ে সেনাদের হত্যা ও সামারিক বাহিনীর গাড়ি ধ্বংসের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির ফাঁসি কার্যকর করেছে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। মিশরের উত্তরাঞ্চলের দুটি কারাগারে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এ ঘটনাকে মিশরের বিতর্কিত নীতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৩ সালে সিনাই উপদ্বীপে সামরিক বাহিনী বিরুদ্ধে হামলার দায়ে অভিযুক্ত হন এই ১৫ আসামি। অভিযোগে বলা হয়, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মিশরীয় শাখার হয়ে তারা ওই হামলা চালান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনাই উপদ্বীপে মিশরীয় সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে আইএস। এসব হামলায় বহু সেনা ও বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছেন।

সম্প্রতি সিনাই উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলে একটি মসজিদে হামলায় ৩০০ জনের বেশি নিহত হন। ওই হামলার জন্য আইএসকে দায়ী করা হয়, যদিও তারা দায় স্বীকার করেনি। এরপর মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি যেকোনো মূল্যে আইএসকে পরাজিত করতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেন।

তবে মঙ্গলবারের ফাঁসি কার্যকরের ঘটনাকে কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট আল-সিসির অধীনে আরো একবার মানবাধিকার হরণের দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন। ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন আল-সিসি। তিনি ক্ষমতা দখলের পর বহু মানুষের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রাইভের পরিচালক মায়া ফোয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, এসব মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিচারের মৌলিক স্বচ্ছতা পূরণে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে মিশরের আদালত; বিশেষ করে গণ-আদালত ও সামরিক আদালতের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে।

বাড়ছে মৃত্যৃদণ্ড কার্যকর

‘ডেথ পেনাল্টি ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ (বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড) শীর্ষক করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রকল্পে বলা হচ্ছে, আল-সিসি মিশরের ক্ষমতা দখলের পর ফাঁসি কার্যকরের সংখ্যা চরম মাত্রায় বেড়ে গেছে। বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের সার্বিক তথ্য আইনপ্রণেতা, বিচারক, বিজ্ঞজন ও অন্যদের জানিয়ে থাকে এই প্রকল্প।

২০১১ সালে প্রাক্তন স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর ২০১৩ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসির কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া পর্যন্ত মিশরে মাত্র একজন ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কিন্তু ২০১৪ সালের শুরুতেই দেশটিতে ১৪ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়। পরের বছর ২২ জনের এবং ২০১৬ সালে ৪৪ জনের প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে চলতি বছরে সোমবারের আগে পর্যন্ত মাত্র একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও পরদিন ১৫ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের প্রাণ নেওয়া হলো।

আল-সিসির সরকার সাংবাদিক ও সামকামী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। দেশভিত্তিক মুক্ত গণমাধ্যমের তালিকায় ১৮১ দেশের মধ্যে মিশরের অবস্থান ১৬১তম। অর্থাৎ তার দেশে গণমাধ্যম স্বাধীন নয়। এসব নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পেয়ে যাচ্ছে মিশর এবং আগামী বছর মিশরকে ১৩৮ কোটি ডলার দেবে তারা।

রিপ্রাইভের মায়া ফোয়া বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যারা মিশরের মিত্র তাদের অবশ্যই এসব হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করা উচিত।’