ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আসুন, সবাই মিলে মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ি: তারেক রহমান একাত্তরে হিন্দুদের নির্যাতনকারীরাই নবরূপে ফিরে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে: সালাহউদ্দিন সাদিক কায়েম আপনার কথায় ফ‍্যাসিবাদের টোন রয়ে গেছে : হামিম জামায়াত ও আওয়ামী লীগ ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’: মাহফুজ আলম নির্বাচিত হলে ৫ বছর বিনা পয়সায় সেবা করব,আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিএসএফ সচেষ্ট : বিজিবি দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে: জামায়াত আমির ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: রিজভী জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে, দুলুর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা টানা ছয় জয় বাংলাদেশের মেয়েদের

মন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন ভাঙলেও ভরসা পাচ্ছেন না শিক্ষকরা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আমরণ অনশন ভেঙেছেন। তবে মন্ত্রীর আশ্বাসে পুরোপুরি ভরসা না-পাওয়া শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সন্ধ্যার পর সবাই বাড়ি ফিরে গেছেন।

শিক্ষকদের আমরণ অনশনের তৃতীয় দিন সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে গণশিক্ষা মন্ত্রী পানি ও ফলের রস পান করিয়ে শিক্ষকদের অনশন ভাঙান। এর আগে দুপুরে মন্ত্রণালয়ে গণশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা হয় শিক্ষক প্রতিনিধিদের। সেখানে মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা।

এই খবর অনশনস্থলে এলে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা গণশিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করবেন না বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা জানান, কেবল প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস পেলেই আন্দোলন স্থগিত করা হবে। এর আগে তারা মাঠ ছাড়বে না। শিক্ষকদের ভাষ্য, চার বছর আগে থেকে এ ধরনের আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। এখন আর আশ্বাস নয়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চান তারা।

পরে মন্ত্রী এসে অনশন ভাঙানোর পরও কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তেজনাময় ছিল। মন্ত্রী ও শিক্ষক নেতাদের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণাকে বর্জন করে অনেকে অনশন চালিয়েও যান। তবে সন্ধ্যার পর শহীদ মিনার ছেড়ে যান সব সাধারণ শিক্ষক। এ সময় শহীদ মিনারের পাশে চায়ের দোকানে চা-পানরত কিছু শিক্ষকের সঙ্গে দেখা হয় দৈনিক আকাশর প্রতিনিধির। তাদের ভাষ্য, শিক্ষকনেতারা তাদের হয়রানি করেছেন। তারা শুধু মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছেন। এতে কোনো ভরসা পাচ্ছেন না তারা। কিন্তু এখন তাদের কিছু করারও নেই। তাই ফিরে যাচ্ছেন তারা।

এই ব্যাপারে জানতে বাংলাদেশ সহকারী প্রাইমারি শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নূর আলম সিদ্দিকীকে একাধিকবার ফোন দেয়া সত্ত্বেও তিনি ফোন ধরেননি। এর আগে বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের নেতা মো. শামসুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা অনশন কর্মসূচি স্থগিত করলাম। আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে আরও আলোচনা চালিয়ে যাব।’

বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে গত শনিবার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আমরণ’ অনশন পালন শুরু করেন প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা। কর্মসূচিতে অংশ নেয়া দশজন শিক্ষক রবিবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবারও বেশ কয়েকজন শিক্ষকের অসুস্থ হয়েছেন।

শিক্ষকরা জানান, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন পেতেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০) বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)।

এই বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন চান সহকারী শিক্ষকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘কুসুম’ হয়ে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতলেন জয়া

মন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন ভাঙলেও ভরসা পাচ্ছেন না শিক্ষকরা

আপডেট সময় ১০:৫০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আমরণ অনশন ভেঙেছেন। তবে মন্ত্রীর আশ্বাসে পুরোপুরি ভরসা না-পাওয়া শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সন্ধ্যার পর সবাই বাড়ি ফিরে গেছেন।

শিক্ষকদের আমরণ অনশনের তৃতীয় দিন সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে গণশিক্ষা মন্ত্রী পানি ও ফলের রস পান করিয়ে শিক্ষকদের অনশন ভাঙান। এর আগে দুপুরে মন্ত্রণালয়ে গণশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা হয় শিক্ষক প্রতিনিধিদের। সেখানে মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা।

এই খবর অনশনস্থলে এলে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা গণশিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করবেন না বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা জানান, কেবল প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস পেলেই আন্দোলন স্থগিত করা হবে। এর আগে তারা মাঠ ছাড়বে না। শিক্ষকদের ভাষ্য, চার বছর আগে থেকে এ ধরনের আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। এখন আর আশ্বাস নয়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চান তারা।

পরে মন্ত্রী এসে অনশন ভাঙানোর পরও কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তেজনাময় ছিল। মন্ত্রী ও শিক্ষক নেতাদের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণাকে বর্জন করে অনেকে অনশন চালিয়েও যান। তবে সন্ধ্যার পর শহীদ মিনার ছেড়ে যান সব সাধারণ শিক্ষক। এ সময় শহীদ মিনারের পাশে চায়ের দোকানে চা-পানরত কিছু শিক্ষকের সঙ্গে দেখা হয় দৈনিক আকাশর প্রতিনিধির। তাদের ভাষ্য, শিক্ষকনেতারা তাদের হয়রানি করেছেন। তারা শুধু মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছেন। এতে কোনো ভরসা পাচ্ছেন না তারা। কিন্তু এখন তাদের কিছু করারও নেই। তাই ফিরে যাচ্ছেন তারা।

এই ব্যাপারে জানতে বাংলাদেশ সহকারী প্রাইমারি শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নূর আলম সিদ্দিকীকে একাধিকবার ফোন দেয়া সত্ত্বেও তিনি ফোন ধরেননি। এর আগে বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের নেতা মো. শামসুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা অনশন কর্মসূচি স্থগিত করলাম। আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে আরও আলোচনা চালিয়ে যাব।’

বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে গত শনিবার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আমরণ’ অনশন পালন শুরু করেন প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা। কর্মসূচিতে অংশ নেয়া দশজন শিক্ষক রবিবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবারও বেশ কয়েকজন শিক্ষকের অসুস্থ হয়েছেন।

শিক্ষকরা জানান, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন পেতেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০) বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)।

এই বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন চান সহকারী শিক্ষকরা।