ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

জলবিদ্যুৎ নিয়ে ৩ দেশের মধ্যে সমঝোতা শিগগিরই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানে মধ্যে জলবিদ্যুৎ নিয়ে খুব শিগগিরই সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। ভারতের সহযোগিতায় ভুটানে এক হাজার ২২৫ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সমবিনিয়োগের এই প্রকল্পে অংশীদার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘ত্রিদেশীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমত, তিন দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর তিন দেশ নির্ধারণ করবে তাদের কোন কোন কোম্পানি এখানে কাজ করবে। সেই তিনটি কোম্পানি মিলে যৌথ মূলধনি কোম্পানি গঠন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।’

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘ভারতের আইন নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। এ বিষয়ে ভারতকে তাদের গাইডলাইন পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। এতে নতুন বিনিয়োগের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ভুটানে ২৫ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনা সম্ভব। কারণ ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋতুতে পার্থক্য রয়েছে। গ্রীষ্মে বাংলাদেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ভুটানে শীতকাল থাকায় সেখানে চাহিদা কম থাকে। আবার বাংলাদেশে শীতকালে যখন চাহিদা কমে যায়, ভুটানে তখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ। তাই গ্রীষ্মে বাংলাদেশের চাহিদা বেশি থাকার সময় উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই ভুটান থেকে আনা যাবে। আবার শীতকালে আমাদের চাহিদা কম থাকলে তখন এই বিদ্যুৎ ভুটানই ব্যবহার করতে পারবে।

এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত চুক্তি আগামী বছরের শুরুর দিকেই হতে পারে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরিই এই চুক্তির সম্ভাবনা আছে। ২০১৮ সালের প্রথম দিকেই এই চুক্তি হতে পারে।’

জানা গেছে, ভুটান বর্তমানে দেড় হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে নদীতে পানি কমে গেলে এই উৎপাদন কমে যায় ২৮৮ মেগাওয়াট। ভুটানের বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রই ভারতীয় অনুদান ও ঋণে নির্মিত। এ কারণে ভারত কম দামে সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে।

এদিকে, ২০২০ সালের মধ্যে আরও ১০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ভুটান। এর সবটাই আমদানি করবে ভারত। এরই মধ্যে ভারতের সহযোগিতায় ছয় হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১০টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ভুটানে। ২০১৯ সালের মধ্যে উৎপাদনে যাবে আরও তিনটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর বাইরে আরও ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো জলশক্তি রয়েছে দেশটির।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

জলবিদ্যুৎ নিয়ে ৩ দেশের মধ্যে সমঝোতা শিগগিরই

আপডেট সময় ১২:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানে মধ্যে জলবিদ্যুৎ নিয়ে খুব শিগগিরই সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। ভারতের সহযোগিতায় ভুটানে এক হাজার ২২৫ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সমবিনিয়োগের এই প্রকল্পে অংশীদার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘ত্রিদেশীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমত, তিন দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর তিন দেশ নির্ধারণ করবে তাদের কোন কোন কোম্পানি এখানে কাজ করবে। সেই তিনটি কোম্পানি মিলে যৌথ মূলধনি কোম্পানি গঠন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।’

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘ভারতের আইন নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। এ বিষয়ে ভারতকে তাদের গাইডলাইন পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। এতে নতুন বিনিয়োগের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ভুটানে ২৫ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনা সম্ভব। কারণ ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋতুতে পার্থক্য রয়েছে। গ্রীষ্মে বাংলাদেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ভুটানে শীতকাল থাকায় সেখানে চাহিদা কম থাকে। আবার বাংলাদেশে শীতকালে যখন চাহিদা কমে যায়, ভুটানে তখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ। তাই গ্রীষ্মে বাংলাদেশের চাহিদা বেশি থাকার সময় উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই ভুটান থেকে আনা যাবে। আবার শীতকালে আমাদের চাহিদা কম থাকলে তখন এই বিদ্যুৎ ভুটানই ব্যবহার করতে পারবে।

এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত চুক্তি আগামী বছরের শুরুর দিকেই হতে পারে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরিই এই চুক্তির সম্ভাবনা আছে। ২০১৮ সালের প্রথম দিকেই এই চুক্তি হতে পারে।’

জানা গেছে, ভুটান বর্তমানে দেড় হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে নদীতে পানি কমে গেলে এই উৎপাদন কমে যায় ২৮৮ মেগাওয়াট। ভুটানের বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রই ভারতীয় অনুদান ও ঋণে নির্মিত। এ কারণে ভারত কম দামে সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে।

এদিকে, ২০২০ সালের মধ্যে আরও ১০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ভুটান। এর সবটাই আমদানি করবে ভারত। এরই মধ্যে ভারতের সহযোগিতায় ছয় হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১০টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ভুটানে। ২০১৯ সালের মধ্যে উৎপাদনে যাবে আরও তিনটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর বাইরে আরও ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো জলশক্তি রয়েছে দেশটির।