ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাশ্মীরে ভয়াবহ সহিংসতা, নিহত ২৪ নেতানিয়াহুর বিভ্রান্তিকর নীতি ইসরাইলকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে’ আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও হয়নি: মির্জা ফখরুল রাজশাহীর দুই হোটেলে হাতবোমা হামলা, আহত ৩ পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, অন্যথায় এলাকা ছাড়ুন: এমপি আবু তালিব প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৭ চুক্তি: পররাষ্ট্র সচিব এনসিপির কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম ‘মদের বারে’ হচ্ছে, মন্তব্য রাশেদ খাঁনের সেই ঘটনার পাঁচ বছর পর মুখ খুললেন মামুনুল হক আমাকে খুশি করতে মিথ্যা সংবাদ লেখার প্রয়োজন নেই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

কুমিল্লায় পুলিশ পেটানোর মামলা নিতে পুলিশেরই অনাগ্রহ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চার পুলিশ সদস্যকে পেটানোর ঘটনায় নয় দিনেও হামলাকারী কাউকে আটক করা যায়নি। এমনকি আহত পুলিশ সদস্যরা মামলা করার চেষ্টা করেও পারেননি। ।

গত ২৭ নভেম্বর রাতে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খোদাইভিটা এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগে মো. শহিদ নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। আটকের জের ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ চার সদস্যকে পিটিয়ে ও ইট-পাটকেল মেরে আহত করে।

আহতরা হলেন মনোহরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিন্টু মোল্লা ও মামুন মিয়া এবং কনস্টেবল আনিস ও নায়েব আলী। এই ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয় আহত পুলিশদের পক্ষ থেকে। কিন্তু থানায় এই অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে না।

আহত চার পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, তাদের উপর হামলাকারীরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কয়েকবার অভিযোগ দিলেও তিনি তাদের অভিযোগগুলো গ্রহণ করেননি। একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমরা পুলিশ সদস্যরা ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে মার খেয়েছি। এটা আমাদের জন্য লজ্জার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুজ্জামান বলেন, ‘এসআইসহ চার পুলিশ সদস্যদের উপর হামলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা এমন কোন ঘটনা না যে, থানায় মামলা হবে। এখন পর্যন্ত কেউ আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসেনি।’

একই দিন দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হয়েছেন কুমিল্লারই দাউদকান্দি থানার কনস্টেবল মো. হাসান। ওই রাত পৌনে নয়টার দিকে হাসান গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেল যোগে দাউদকান্দি থানায় যাচ্ছিলেন। হাসানপুর এলাকায় দুস্কৃতকারীরা মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে হাসানকে কুপিয়ে আহত করে।

এই ঘটনায় হাসানের বাবা মানিক জমদ্দার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তবে এই মামলারও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি এখনও। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাউদকান্দি মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমরা হামলার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। আশা করি পুলিশের উপর হামলাকারীদের শিগগির আইনের আওতায় আনতে পারব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় পুলিশ পেটানোর মামলা নিতে পুলিশেরই অনাগ্রহ

আপডেট সময় ১১:১৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চার পুলিশ সদস্যকে পেটানোর ঘটনায় নয় দিনেও হামলাকারী কাউকে আটক করা যায়নি। এমনকি আহত পুলিশ সদস্যরা মামলা করার চেষ্টা করেও পারেননি। ।

গত ২৭ নভেম্বর রাতে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খোদাইভিটা এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগে মো. শহিদ নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। আটকের জের ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ চার সদস্যকে পিটিয়ে ও ইট-পাটকেল মেরে আহত করে।

আহতরা হলেন মনোহরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিন্টু মোল্লা ও মামুন মিয়া এবং কনস্টেবল আনিস ও নায়েব আলী। এই ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয় আহত পুলিশদের পক্ষ থেকে। কিন্তু থানায় এই অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে না।

আহত চার পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, তাদের উপর হামলাকারীরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কয়েকবার অভিযোগ দিলেও তিনি তাদের অভিযোগগুলো গ্রহণ করেননি। একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমরা পুলিশ সদস্যরা ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে মার খেয়েছি। এটা আমাদের জন্য লজ্জার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুজ্জামান বলেন, ‘এসআইসহ চার পুলিশ সদস্যদের উপর হামলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা এমন কোন ঘটনা না যে, থানায় মামলা হবে। এখন পর্যন্ত কেউ আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসেনি।’

একই দিন দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হয়েছেন কুমিল্লারই দাউদকান্দি থানার কনস্টেবল মো. হাসান। ওই রাত পৌনে নয়টার দিকে হাসান গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেল যোগে দাউদকান্দি থানায় যাচ্ছিলেন। হাসানপুর এলাকায় দুস্কৃতকারীরা মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে হাসানকে কুপিয়ে আহত করে।

এই ঘটনায় হাসানের বাবা মানিক জমদ্দার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তবে এই মামলারও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি এখনও। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাউদকান্দি মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমরা হামলার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। আশা করি পুলিশের উপর হামলাকারীদের শিগগির আইনের আওতায় আনতে পারব।’