ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার সড়কের জন্য ‘ভিক্ষা’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন রুবেল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ফি নিচ্ছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল: শিক্ষামন্ত্রী কেরানীগঞ্জে চীনা নাগরিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম, মালামাল লুট হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সরকারের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে : ধর্মমন্ত্রী দুই লাখ টন তেল নিয়ে দুটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে: চিফ হুইপ

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা নবাব আলী ওরফে লোবাকে (৩৭) যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয়মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। মামলার অন্য আসামি মেয়েটির নানী বেকসুর খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নবাব আলী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চন্দনমাড়িয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনসুর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা নবাবকে রায় শোনাতে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারো কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে সৎ বাবার হাতে মেয়ে ধর্ষণের ঘটনাটিকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইসমত আরা জানান, ঘটনার সময় মামলার বাদী ১৪ বছরের কিশোরী ছিলেন। তিনি সম্পর্কে নবাব আলীর সৎ মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মায়ের সঙ্গে নবাব আলীর বিয়ে হয়।

২০১১ সালে নবাব তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। এরপর সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে মেয়েটি ঘটনাটি তার নানীকে বিষয়টি জানান। তবে মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন তিনি। এ ঘটনার সাত মাস পর ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল নবাব তার স্ত্রীকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। এতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাতে আবারও ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে চাচার বাড়ি টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কিশোরী আবারও ফিরে আসেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে নিয়ে এসে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মেয়েটি তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনা জানার পরেও গোপনের চেষ্টার অভিযোগে মামলায় তার নানীকেও আসামি করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০২:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা নবাব আলী ওরফে লোবাকে (৩৭) যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয়মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। মামলার অন্য আসামি মেয়েটির নানী বেকসুর খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নবাব আলী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চন্দনমাড়িয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনসুর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা নবাবকে রায় শোনাতে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারো কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে সৎ বাবার হাতে মেয়ে ধর্ষণের ঘটনাটিকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইসমত আরা জানান, ঘটনার সময় মামলার বাদী ১৪ বছরের কিশোরী ছিলেন। তিনি সম্পর্কে নবাব আলীর সৎ মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মায়ের সঙ্গে নবাব আলীর বিয়ে হয়।

২০১১ সালে নবাব তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। এরপর সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে মেয়েটি ঘটনাটি তার নানীকে বিষয়টি জানান। তবে মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন তিনি। এ ঘটনার সাত মাস পর ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল নবাব তার স্ত্রীকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। এতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাতে আবারও ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে চাচার বাড়ি টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কিশোরী আবারও ফিরে আসেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে নিয়ে এসে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মেয়েটি তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনা জানার পরেও গোপনের চেষ্টার অভিযোগে মামলায় তার নানীকেও আসামি করা হয়।