ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা নবাব আলী ওরফে লোবাকে (৩৭) যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয়মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। মামলার অন্য আসামি মেয়েটির নানী বেকসুর খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নবাব আলী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চন্দনমাড়িয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনসুর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা নবাবকে রায় শোনাতে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারো কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে সৎ বাবার হাতে মেয়ে ধর্ষণের ঘটনাটিকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইসমত আরা জানান, ঘটনার সময় মামলার বাদী ১৪ বছরের কিশোরী ছিলেন। তিনি সম্পর্কে নবাব আলীর সৎ মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মায়ের সঙ্গে নবাব আলীর বিয়ে হয়।

২০১১ সালে নবাব তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। এরপর সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে মেয়েটি ঘটনাটি তার নানীকে বিষয়টি জানান। তবে মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন তিনি। এ ঘটনার সাত মাস পর ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল নবাব তার স্ত্রীকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। এতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাতে আবারও ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে চাচার বাড়ি টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কিশোরী আবারও ফিরে আসেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে নিয়ে এসে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মেয়েটি তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনা জানার পরেও গোপনের চেষ্টার অভিযোগে মামলায় তার নানীকেও আসামি করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০২:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা নবাব আলী ওরফে লোবাকে (৩৭) যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয়মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। মামলার অন্য আসামি মেয়েটির নানী বেকসুর খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নবাব আলী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চন্দনমাড়িয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনসুর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা নবাবকে রায় শোনাতে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারো কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে সৎ বাবার হাতে মেয়ে ধর্ষণের ঘটনাটিকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইসমত আরা জানান, ঘটনার সময় মামলার বাদী ১৪ বছরের কিশোরী ছিলেন। তিনি সম্পর্কে নবাব আলীর সৎ মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মায়ের সঙ্গে নবাব আলীর বিয়ে হয়।

২০১১ সালে নবাব তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। এরপর সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে মেয়েটি ঘটনাটি তার নানীকে বিষয়টি জানান। তবে মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন তিনি। এ ঘটনার সাত মাস পর ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল নবাব তার স্ত্রীকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। এতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাতে আবারও ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে চাচার বাড়ি টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কিশোরী আবারও ফিরে আসেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে নিয়ে এসে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মেয়েটি তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনা জানার পরেও গোপনের চেষ্টার অভিযোগে মামলায় তার নানীকেও আসামি করা হয়।