ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধেই আইনসভার উচ্চকক্ষ : আলী রীয়াজ ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি জনগণই স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

চালের উৎপাদন ৯ লাখ টন কমেছে: বিবিএস

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বোরো ও আউশ মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ায় মোট চালের উৎপাদন ৯ লাখ ৬ হাজার টন কমেছে। গত অর্থবছরে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে ৩৩৮ লাখ ২ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ তিন মৌসুমে ৩৪৭ লাখ ৮ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। চালের পাশাপাশি গমের উৎপাদন কমেছে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। তবে গত অর্থবছরে আলু ও শাকসবজির উৎপাদন বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ এ হিসাব তুলে ধরা হয়। সামগ্রিক অর্থনীতি হালচাল তুলে ধরতে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আউশ মৌসুমে ২১ লাখ ৩৩ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের আউশ মৌসুম থেকে ২২ লাখ ৮৮ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। আউশ উৎপাদন কমলেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমন উৎপাদন বেড়েছে। এই অর্থবছরে ১৩৬ লাখ ৫৬ হাজার টন আমন উৎপাদন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৩৪ লাখ ৮৩ হাজার টন।

সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আগাম বন্যার কারণে বোরো ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান পরিসংখ্যান সচিব। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে সারাদেশে ১৮০ লাখ ১৩ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ১৮৯ লাখ ৩৭ হাজার টন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে গম উৎপাদনও আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৬ হাজার টন কমেছে বলে জানান তিনি। তবে গত অর্থবছরে আলুর উৎপাদন বেড়েছে। সচিব জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যেখানে ৯৪ লাখ ৭৪ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছিল, সেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আলু উৎপাদন হয়েছে ১০২ লাখ ১৫ হাজার টন।

আলুর পাশাপাশি গত অর্থবছরে ভুট্টার উৎপাদনও বেড়েছে বলে জানান পরিকল্পনা সচিব। তিনি জানান, গত অর্থবছরে দেশে ২৭ লাখ ৫৮ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টন। বেড়েছে পাটের উৎপাদনও। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টন পাট উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরে ছিল ১৩ লাখ ৭১ হাজার টন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আগাম বন্যা, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে ধানের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। বোরো ধানের উৎপাদন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সার্বিকভাবে খাদ্য উৎপাদন কমে গেছে।

গত অর্থবছরে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন কমলেও কৃষি খাতে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হিসাব করতে খাদ্যপণ্যের বাইরেও অন্যান্য কৃষি পণ্যের হিসাব করা হয়। সেই হিসাবে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চাল ও সবজির দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এসব পণ্যের দাম বেড়েছে গুজবে। এছাড়া ব্যবসায়ীরাও পরিস্থিতির সুযোগ নিতে কারসাজি করেছেন। কেউ ফেসবুকে মিথ্যা খবর ছড়িয়েছে। অনেকে টানা বৃষ্টি দেখে মজুদ করেছে। মজুদ বলা হচ্ছে এ কারণে যে টাকা দিলে তো পণ্য পাওয়া গেছে। তবে সরকার বাজারে হস্তক্ষেপ করেনি। কারণ এক-এগারোর সময় দেখা গেছে, সরকার বাজারে হস্তক্ষেপ করায় বাজার থেকে পণ্য কমে গেছে। তাই বর্তমান সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে এগোচ্ছে। প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বাড়ছে, যদিও সমানভাবে সকলের আয় বাড়েনি। এটা কোনো দেশেই বাড়ে না। তবে সরকারের চেষ্টা রয়েছে এই ব্যবধান যাতে বড় না হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা প্রায় তিন কোটিতে পৌঁছেছে। ৯ বছর আগে যা দেড় কোটি ছিল। একটি দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি যত বেশি ওই দেশের অর্থনীতিও তত টেকসই। এজন্য সরকার মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে আগামীতে মানুষকে কাজের জন্য শহরে আসতে না হয়। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থা এবং গবেষণায় জোর দেওয়া হয়েছে।

নতুন কোনো ধারণা কেউ নিয়ে আসলে সরকার তাদের সঙ্গে কাজ করবে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আগে জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগ কম ছিল। এখন সেটা বেড়েছে। ফলে কর্মসংস্থানও হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধেই আইনসভার উচ্চকক্ষ : আলী রীয়াজ

চালের উৎপাদন ৯ লাখ টন কমেছে: বিবিএস

আপডেট সময় ০৯:১৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বোরো ও আউশ মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ায় মোট চালের উৎপাদন ৯ লাখ ৬ হাজার টন কমেছে। গত অর্থবছরে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে ৩৩৮ লাখ ২ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ তিন মৌসুমে ৩৪৭ লাখ ৮ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। চালের পাশাপাশি গমের উৎপাদন কমেছে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। তবে গত অর্থবছরে আলু ও শাকসবজির উৎপাদন বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ এ হিসাব তুলে ধরা হয়। সামগ্রিক অর্থনীতি হালচাল তুলে ধরতে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আউশ মৌসুমে ২১ লাখ ৩৩ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের আউশ মৌসুম থেকে ২২ লাখ ৮৮ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। আউশ উৎপাদন কমলেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমন উৎপাদন বেড়েছে। এই অর্থবছরে ১৩৬ লাখ ৫৬ হাজার টন আমন উৎপাদন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৩৪ লাখ ৮৩ হাজার টন।

সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আগাম বন্যার কারণে বোরো ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান পরিসংখ্যান সচিব। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে সারাদেশে ১৮০ লাখ ১৩ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ১৮৯ লাখ ৩৭ হাজার টন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে গম উৎপাদনও আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৬ হাজার টন কমেছে বলে জানান তিনি। তবে গত অর্থবছরে আলুর উৎপাদন বেড়েছে। সচিব জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যেখানে ৯৪ লাখ ৭৪ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছিল, সেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আলু উৎপাদন হয়েছে ১০২ লাখ ১৫ হাজার টন।

আলুর পাশাপাশি গত অর্থবছরে ভুট্টার উৎপাদনও বেড়েছে বলে জানান পরিকল্পনা সচিব। তিনি জানান, গত অর্থবছরে দেশে ২৭ লাখ ৫৮ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টন। বেড়েছে পাটের উৎপাদনও। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টন পাট উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরে ছিল ১৩ লাখ ৭১ হাজার টন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আগাম বন্যা, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে ধানের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। বোরো ধানের উৎপাদন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সার্বিকভাবে খাদ্য উৎপাদন কমে গেছে।

গত অর্থবছরে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন কমলেও কৃষি খাতে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হিসাব করতে খাদ্যপণ্যের বাইরেও অন্যান্য কৃষি পণ্যের হিসাব করা হয়। সেই হিসাবে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চাল ও সবজির দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এসব পণ্যের দাম বেড়েছে গুজবে। এছাড়া ব্যবসায়ীরাও পরিস্থিতির সুযোগ নিতে কারসাজি করেছেন। কেউ ফেসবুকে মিথ্যা খবর ছড়িয়েছে। অনেকে টানা বৃষ্টি দেখে মজুদ করেছে। মজুদ বলা হচ্ছে এ কারণে যে টাকা দিলে তো পণ্য পাওয়া গেছে। তবে সরকার বাজারে হস্তক্ষেপ করেনি। কারণ এক-এগারোর সময় দেখা গেছে, সরকার বাজারে হস্তক্ষেপ করায় বাজার থেকে পণ্য কমে গেছে। তাই বর্তমান সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে এগোচ্ছে। প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বাড়ছে, যদিও সমানভাবে সকলের আয় বাড়েনি। এটা কোনো দেশেই বাড়ে না। তবে সরকারের চেষ্টা রয়েছে এই ব্যবধান যাতে বড় না হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা প্রায় তিন কোটিতে পৌঁছেছে। ৯ বছর আগে যা দেড় কোটি ছিল। একটি দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি যত বেশি ওই দেশের অর্থনীতিও তত টেকসই। এজন্য সরকার মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে আগামীতে মানুষকে কাজের জন্য শহরে আসতে না হয়। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থা এবং গবেষণায় জোর দেওয়া হয়েছে।

নতুন কোনো ধারণা কেউ নিয়ে আসলে সরকার তাদের সঙ্গে কাজ করবে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আগে জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগ কম ছিল। এখন সেটা বেড়েছে। ফলে কর্মসংস্থানও হবে।