ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি : মির্জা ফখরুল হত্যা মামলায় আবুল বারকাতের জামিন আবেদন মঞ্জুর কারিকুলাম, শিক্ষক ও অবকাঠামোসহ শিক্ষার ৪ স্তম্ভে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেন জেলেনস্কি ইন্দোনেশিয়ায় ৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প রামিসা হত্যা মামলা: হাইকোর্টে শুনানির পেপারবুক প্রস্তুত প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক বৈঠক দিল্লির বিমানবন্দরে কী ঘটেছে, জানালেন ডা. জাহেদ উর রহমান আগামী তিন মাসের মধ্যে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে চীনে : আশিক চৌধুরী

কে করবে সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুরাহা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা ১১টি অভিযোগের বিষয়ে এখনো অনুসন্ধান শুরু হয়নি। যদিও সপ্তাহ তিনেক আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করবে।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এখনও গঠন হয়নি। এই অবস্থায় দুদক যদি অনুসন্ধান না চালায় তাহলে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য কি মিথ্যা- সে মীমাংসা তার পদে থাকার মেয়াদের মধ্যে হবে কি না সে প্রশ্নের জবাব নেই কারও কাছে।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদের মেয়াদ আছে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি দেশে ফিরলেও তার দায়িত্ব গ্রহণ সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিচারালয় সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করেন, দেখুন কী হয়। এটা তো আর রাস্তায় রাস্তায় বলার বিষয় না। রাষ্ট্রপতি বিষয়টি দেখছেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির পদটি সাংবিধানিক। ওনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তার সব রাষ্ট্রপতির কাছে আছে। তিনি এসব অভিযোগ জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের দেখিয়েছেন। তারা এতটাই বিব্রত হয়েছেন যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তারা বসতেও চাননি।

সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে জানান হয়, সিনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তার মধ্যে আছে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন প্রভৃতি।

আইনমন্ত্রীর ওই সংবাদ সম্মেলনের পর পেরিয়ে গেছে তিন সপ্তাহ। কিন্তু ঘটনা যেখানে ছিল, সেখানেই রয়ে গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়নি।

গত ২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে লেখা চিঠিতে প্রধান বিচারপতি অসুস্থতার কারণ জানিয়ে এক মাসের ছুটি চান। তবে ১৩ অক্টোবর দেশের বাইরে যাওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের দেয়া বিবৃতিতে সিনহা বলেন, তিনি অসুস্থ নয় এবং দেশে ফিরে এসে আবার তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর পরদিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে দেয়া বিবৃতিতে জানান হয়, সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি গুরুতর অভিযোগ আছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের চারজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিতে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে এগুলো তাদের হাতে তুলে দেন।

গত ১ অক্টোবর সিনহার সঙ্গে ওই বৈঠক হয় পাঁচ বিচারপতির। সেদিন সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে পাঁচ বিচারপতি জানান, এসব অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সিনহার সঙ্গে বসে বিচারকার্য পরিচালনা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি : মির্জা ফখরুল

কে করবে সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুরাহা

আপডেট সময় ০৩:০৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা ১১টি অভিযোগের বিষয়ে এখনো অনুসন্ধান শুরু হয়নি। যদিও সপ্তাহ তিনেক আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করবে।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এখনও গঠন হয়নি। এই অবস্থায় দুদক যদি অনুসন্ধান না চালায় তাহলে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য কি মিথ্যা- সে মীমাংসা তার পদে থাকার মেয়াদের মধ্যে হবে কি না সে প্রশ্নের জবাব নেই কারও কাছে।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদের মেয়াদ আছে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি দেশে ফিরলেও তার দায়িত্ব গ্রহণ সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিচারালয় সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করেন, দেখুন কী হয়। এটা তো আর রাস্তায় রাস্তায় বলার বিষয় না। রাষ্ট্রপতি বিষয়টি দেখছেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির পদটি সাংবিধানিক। ওনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তার সব রাষ্ট্রপতির কাছে আছে। তিনি এসব অভিযোগ জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের দেখিয়েছেন। তারা এতটাই বিব্রত হয়েছেন যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তারা বসতেও চাননি।

সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে জানান হয়, সিনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তার মধ্যে আছে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন প্রভৃতি।

আইনমন্ত্রীর ওই সংবাদ সম্মেলনের পর পেরিয়ে গেছে তিন সপ্তাহ। কিন্তু ঘটনা যেখানে ছিল, সেখানেই রয়ে গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়নি।

গত ২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে লেখা চিঠিতে প্রধান বিচারপতি অসুস্থতার কারণ জানিয়ে এক মাসের ছুটি চান। তবে ১৩ অক্টোবর দেশের বাইরে যাওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের দেয়া বিবৃতিতে সিনহা বলেন, তিনি অসুস্থ নয় এবং দেশে ফিরে এসে আবার তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর পরদিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে দেয়া বিবৃতিতে জানান হয়, সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি গুরুতর অভিযোগ আছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের চারজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিতে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে এগুলো তাদের হাতে তুলে দেন।

গত ১ অক্টোবর সিনহার সঙ্গে ওই বৈঠক হয় পাঁচ বিচারপতির। সেদিন সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে পাঁচ বিচারপতি জানান, এসব অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সিনহার সঙ্গে বসে বিচারকার্য পরিচালনা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।