ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘দুলাভাই’ ‘দুলাভাই’ ধ্বনিতে মুখরিত সিলেটের আলিয়া মাঠ ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত সরকারের বিপুল ভোটে জিতে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে : নাহিদ ইসলাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধের ঘোষণা ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে : শফিকুল আলম কারচুপির খেলা খেলার স্পর্ধা যেন কোনো রাজনৈতিক দল না দেখায়: রুমিন ফারহানার হুঁশিয়ারি সবকিছুর মালিক আল্লাহ, কেউ কেউ বেহেস্তের টিকিট’ বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাচ্ছে : তারেক রহমান বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: তারেক রহমান একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হবে না : আবুল কালাম

২০১৮ সালেও চালু হচ্ছে না নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একুশে ফেব্রুয়ারিসহ অন্যান্য জাতীয় দিবস এবং রবীন্দ্র ও নজরুল জন্মজয়ন্তীর ইংরেজি তারিখের সঙ্গে প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ ঠিক রেখে প্রণয়ন করা বর্ষপঞ্জি ২০১৮ সালেও চালু হচ্ছে না। মূলত বাংলা একাডেমির ব্যর্থতার কারণেই এই বর্ষপঞ্জি চালু করতে পারছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ২০১৬ সালে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধন করে বাংলা একাডেমি। সংশোধিত বর্ষপঞ্জি ২০১৭ সাল থেকে চালু করার জন্য সুপারিশ করে ওই বছরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে সময় স্বল্পতার কারণে যাচাইবাছাই করেও তখন চালু করতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে সংশোধিত বর্ষপঞ্জি পরিমার্জনের জন্য আবারও ফেরত নেয় বাংলা একাডেমি। তবে ফেরত নেওয়ার পর প্রায় এক বছরেও পরিমার্জন করতে পারেনি বাংলা একাডেমি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ২০১৮ সালে নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি চালু হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘কিছু হিসাব-নিকাশ ঠিক করতে হবে। সে কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বর্ষপঞ্জি ফেরত নেওয়া হয়। জাতীয় দিবসের বিষয়গুলো ঠিক করে ফের মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

দেরির কারণ হিসেবে অপরেশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘এ সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি অজয় রায় অসুস্থ থাকায় নতুন বর্ষপঞ্জি পরিমার্জন করা সম্ভব হয়নি। উনি সুস্থ হলে মিটিং করে পঞ্জিকা ঠিক করা হবে। এরপর ২০১৯ সালে নতুন বর্ষপঞ্জি চালু করা সম্ভব হবে।’

জানা গেছে, সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ এবং চৈত্র মাস ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন গণনা করা হবে। তবে গ্রেগরিয় পঞ্জিকার অধিবর্ষে ফাল্গুন মাস ২৯ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন গণনা করা হবে।

পঞ্জিকার এই সংশোধনের ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারির প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ হবে ৮ (আট) ফাল্গুন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ৮ ফাল্গুন। জাতীয় দিবস ২৬ মার্চের প্রতিষঙ্গী তারিখ হবে ১২ চৈত্র। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে বাংলা তারিখ ছিল ১২ চৈত্র। একইভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী ২৫ মের প্রতিষঙ্গী তারিখ ছিল ১১ জ্যৈষ্ঠ ও বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বরের প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ ছিল পহেলা পৌষ। এসব দিবসে বাংলা ও ইংরেজি তারিখের মিল রেখে সংশোধন করা হয় বাংলা বর্ষপঞ্জি। বাংলা একাডেমির সংশোধিত এই বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে আগের মতোই ১৪ এপ্রিল থেকেই বাংলা বর্ষ গণনা শুরু হবে। অর্থাৎ মূল দিবসের ইংরেজি তারিখেই বাংলা তারিখ যা ছিল, তা-ই ফিরে আসবে।

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির দ্বিতীয় সভায় সংশোধিত পঞ্জিকা সংশোধনের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রলণালয়ে সংশোধিত বর্ষপঞ্জি পাঠানো হয়। সংশোধিত বাংলা বর্ষপঞ্জি ইংরেজি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সমন্বয় করে ছাপা হবে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান গত বছর জানিয়েছিলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির দিন বাংলা ফালগুন মাসের ৮ তারিখ ছিল। কিন্তু আমরা চলমান বাংলা বর্ষপঞ্জিতে ৯ তারিখ পালন করে আসছি। একইভাবে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী, নজরুল জন্মজয়ন্তী ইংরেজি তারিখের সঙ্গে প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ ঠিক নেই। এ বিষয়টিকে ঠিক করতেই বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধন করা হয়েছে।

বাংলা ১৪০২ সাল থেকে যে বর্ষপঞ্জি দেশে প্রচলিত আছে, তা মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ্ সংস্কারকৃত নতুন নিয়মের ‘শহীদুল্লাহ বর্ষপঞ্জি’। এই বর্ষপঞ্জি অনুসারে বৈশাখ থেকে ভাদ্র প্রতিমাস ৩১ দিন এবং আশ্বিন থেকে চৈত্র প্রতিমাস ৩০ দিন। অধিবর্ষে ৩৬৬ দিনে বছর গণনায় ফাল্গুন মাস ৩১ দিন। যে বাংলা সালকে চার দিয়ে ভাগ করলে দুই অবশিষ্ট থাকে, সেই বাংলা সাল অধিবর্ষ বা লিপইয়ার হিসেবে গণ্য হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলা পঞ্জিকায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করতে ১৯৯৫ সালে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় প্রথমে উদ্যোগ নেয়। তবে ওই সময় যে ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হয়েছিল, তাতে একুশে ফেব্রুয়ারিসহ জাতীয় দিবস এবং রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী ইংরেজি তারিখের প্রতিষঙ্গী তারিখের মিল ছিল না। বাঙালির প্রিয় সব দিবস জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস এতে প্রতিফলিত না হওয়ায়, ইংরেজি তারিখের প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ তারিখ ঠিক রেখে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয় নতুন করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলেজশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা, ক্ষোভে প্রতিবেশীর বাড়িতে জনতার দেওয়া আগুনে বৃদ্ধার মৃত্যু

২০১৮ সালেও চালু হচ্ছে না নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি

আপডেট সময় ০৩:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একুশে ফেব্রুয়ারিসহ অন্যান্য জাতীয় দিবস এবং রবীন্দ্র ও নজরুল জন্মজয়ন্তীর ইংরেজি তারিখের সঙ্গে প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ ঠিক রেখে প্রণয়ন করা বর্ষপঞ্জি ২০১৮ সালেও চালু হচ্ছে না। মূলত বাংলা একাডেমির ব্যর্থতার কারণেই এই বর্ষপঞ্জি চালু করতে পারছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ২০১৬ সালে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধন করে বাংলা একাডেমি। সংশোধিত বর্ষপঞ্জি ২০১৭ সাল থেকে চালু করার জন্য সুপারিশ করে ওই বছরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে সময় স্বল্পতার কারণে যাচাইবাছাই করেও তখন চালু করতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে সংশোধিত বর্ষপঞ্জি পরিমার্জনের জন্য আবারও ফেরত নেয় বাংলা একাডেমি। তবে ফেরত নেওয়ার পর প্রায় এক বছরেও পরিমার্জন করতে পারেনি বাংলা একাডেমি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ২০১৮ সালে নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি চালু হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘কিছু হিসাব-নিকাশ ঠিক করতে হবে। সে কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বর্ষপঞ্জি ফেরত নেওয়া হয়। জাতীয় দিবসের বিষয়গুলো ঠিক করে ফের মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

দেরির কারণ হিসেবে অপরেশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘এ সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি অজয় রায় অসুস্থ থাকায় নতুন বর্ষপঞ্জি পরিমার্জন করা সম্ভব হয়নি। উনি সুস্থ হলে মিটিং করে পঞ্জিকা ঠিক করা হবে। এরপর ২০১৯ সালে নতুন বর্ষপঞ্জি চালু করা সম্ভব হবে।’

জানা গেছে, সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ এবং চৈত্র মাস ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন গণনা করা হবে। তবে গ্রেগরিয় পঞ্জিকার অধিবর্ষে ফাল্গুন মাস ২৯ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন গণনা করা হবে।

পঞ্জিকার এই সংশোধনের ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারির প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ হবে ৮ (আট) ফাল্গুন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ৮ ফাল্গুন। জাতীয় দিবস ২৬ মার্চের প্রতিষঙ্গী তারিখ হবে ১২ চৈত্র। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে বাংলা তারিখ ছিল ১২ চৈত্র। একইভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী ২৫ মের প্রতিষঙ্গী তারিখ ছিল ১১ জ্যৈষ্ঠ ও বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বরের প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ ছিল পহেলা পৌষ। এসব দিবসে বাংলা ও ইংরেজি তারিখের মিল রেখে সংশোধন করা হয় বাংলা বর্ষপঞ্জি। বাংলা একাডেমির সংশোধিত এই বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে আগের মতোই ১৪ এপ্রিল থেকেই বাংলা বর্ষ গণনা শুরু হবে। অর্থাৎ মূল দিবসের ইংরেজি তারিখেই বাংলা তারিখ যা ছিল, তা-ই ফিরে আসবে।

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির দ্বিতীয় সভায় সংশোধিত পঞ্জিকা সংশোধনের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রলণালয়ে সংশোধিত বর্ষপঞ্জি পাঠানো হয়। সংশোধিত বাংলা বর্ষপঞ্জি ইংরেজি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সমন্বয় করে ছাপা হবে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান গত বছর জানিয়েছিলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির দিন বাংলা ফালগুন মাসের ৮ তারিখ ছিল। কিন্তু আমরা চলমান বাংলা বর্ষপঞ্জিতে ৯ তারিখ পালন করে আসছি। একইভাবে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী, নজরুল জন্মজয়ন্তী ইংরেজি তারিখের সঙ্গে প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ ঠিক নেই। এ বিষয়টিকে ঠিক করতেই বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধন করা হয়েছে।

বাংলা ১৪০২ সাল থেকে যে বর্ষপঞ্জি দেশে প্রচলিত আছে, তা মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ্ সংস্কারকৃত নতুন নিয়মের ‘শহীদুল্লাহ বর্ষপঞ্জি’। এই বর্ষপঞ্জি অনুসারে বৈশাখ থেকে ভাদ্র প্রতিমাস ৩১ দিন এবং আশ্বিন থেকে চৈত্র প্রতিমাস ৩০ দিন। অধিবর্ষে ৩৬৬ দিনে বছর গণনায় ফাল্গুন মাস ৩১ দিন। যে বাংলা সালকে চার দিয়ে ভাগ করলে দুই অবশিষ্ট থাকে, সেই বাংলা সাল অধিবর্ষ বা লিপইয়ার হিসেবে গণ্য হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলা পঞ্জিকায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করতে ১৯৯৫ সালে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় প্রথমে উদ্যোগ নেয়। তবে ওই সময় যে ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হয়েছিল, তাতে একুশে ফেব্রুয়ারিসহ জাতীয় দিবস এবং রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী ইংরেজি তারিখের প্রতিষঙ্গী তারিখের মিল ছিল না। বাঙালির প্রিয় সব দিবস জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস এতে প্রতিফলিত না হওয়ায়, ইংরেজি তারিখের প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ তারিখ ঠিক রেখে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয় নতুন করে।