ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

কুষ্টিয়ায় প্রবাসী রাকিব হত্যার আরেক আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রবাসী রাকিবুল ইসলাম হত্যা মামলার আরেক আসামি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। কুমারখালী থানার ওসি আব্দুল খালেক বলছেন, শুক্রবার ভোরের দিকে উপজেলার জয়নাবাজ এলাকায় গড়াই নদীর তীরে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আনোয়ার হোসেন (২৭) উপজেলার নগর শাওতা গ্রামের আসমত আলীর ছেলে। তিনি রাকিবুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ওসি খালেক বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁধবাজার এলাকা থেকে আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দড়ি, রক্তমাখা গেঞ্জি ও বস্তা উদ্ধার করা হয়।

“রাতে আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে রাকিব হত্যামামলার অন্য আসামিদের ধরতে গেলে একদল সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি করলে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। এ সময় আনোয়ার গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

এ ঘটনায় চার পুলিশ আহত হয়েছেন জানিয়ে ওসি খালেক বলেন, “আনোয়ারের বিরুদ্ধে হত্যা-ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।” পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তুল, দুটি গুলি, একটি তলোয়ার ও একটি হাঁসুয়া উদ্ধার করেছে বলে তিনি জানান।

এর আগের একই হত্যা মামলার আরেক আসামি শাহিন আলী (৩০) গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১২ অক্টোবর রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের পাহাড়পুর স্কুলপাড়া গ্রামের মন্টু বিশ্বাসের ছেলে রাকিবুল মালয়েশিয়া থেকে ছুটিতে দেশে আসার পর গত ৫ অক্টোবর নিখোঁজ হন। এর তিন দিন পর কালীগঙ্গা নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় বাবা মন্টু কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ রাকিবুলের ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম ও রাকিবুলের স্ত্রী নাইমা সুলতানা তিশাসহ পাঁচজনকে আটক করে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেছিলেন, রাকিবুল বিদেশে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী তিশা ও ছোট ভাই রকিবুলের মধ্যে ‘পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়’। এর জেরে তারা সন্ত্রাসী ভাড়া করে রাকিবুলকে খুন করান বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রকিবুল।

ডিবির ওসি ছাব্বিরুল ইসলাম বলেছিলেন, রাকিবুলকে হত্যার জন্য তিশা ও রকিবুলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিলেন শাহিন। শাহিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১২ অক্টোবর রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

কুষ্টিয়ায় প্রবাসী রাকিব হত্যার আরেক আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

আপডেট সময় ০১:০১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রবাসী রাকিবুল ইসলাম হত্যা মামলার আরেক আসামি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। কুমারখালী থানার ওসি আব্দুল খালেক বলছেন, শুক্রবার ভোরের দিকে উপজেলার জয়নাবাজ এলাকায় গড়াই নদীর তীরে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আনোয়ার হোসেন (২৭) উপজেলার নগর শাওতা গ্রামের আসমত আলীর ছেলে। তিনি রাকিবুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ওসি খালেক বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁধবাজার এলাকা থেকে আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দড়ি, রক্তমাখা গেঞ্জি ও বস্তা উদ্ধার করা হয়।

“রাতে আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে রাকিব হত্যামামলার অন্য আসামিদের ধরতে গেলে একদল সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি করলে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। এ সময় আনোয়ার গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

এ ঘটনায় চার পুলিশ আহত হয়েছেন জানিয়ে ওসি খালেক বলেন, “আনোয়ারের বিরুদ্ধে হত্যা-ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।” পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তুল, দুটি গুলি, একটি তলোয়ার ও একটি হাঁসুয়া উদ্ধার করেছে বলে তিনি জানান।

এর আগের একই হত্যা মামলার আরেক আসামি শাহিন আলী (৩০) গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১২ অক্টোবর রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের পাহাড়পুর স্কুলপাড়া গ্রামের মন্টু বিশ্বাসের ছেলে রাকিবুল মালয়েশিয়া থেকে ছুটিতে দেশে আসার পর গত ৫ অক্টোবর নিখোঁজ হন। এর তিন দিন পর কালীগঙ্গা নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় বাবা মন্টু কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ রাকিবুলের ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম ও রাকিবুলের স্ত্রী নাইমা সুলতানা তিশাসহ পাঁচজনকে আটক করে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেছিলেন, রাকিবুল বিদেশে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী তিশা ও ছোট ভাই রকিবুলের মধ্যে ‘পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়’। এর জেরে তারা সন্ত্রাসী ভাড়া করে রাকিবুলকে খুন করান বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রকিবুল।

ডিবির ওসি ছাব্বিরুল ইসলাম বলেছিলেন, রাকিবুলকে হত্যার জন্য তিশা ও রকিবুলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিলেন শাহিন। শাহিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১২ অক্টোবর রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।