ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সৌদি আরবে আরামকোর তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা: নিহত ২

সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষে দুই কর্মী নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা উদ্বেগে বিমান চলাচলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই হামলায় ফিলিপাইন ও নেপালের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তান ও ভারতের একজন করে নাগরিক আহত হয়েছেন। ড্রোনটি সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও এর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ার কারণে হতাহতের এই করুণ ঘটনা ঘটে। হামলার পেছনে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে ড্রোন হামলা ও সেগুলো প্রতিহত করার ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাসেও হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করার পর তার আঘাতে এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। চলতি মাসের শুরুতেই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে ছোট অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ইয়েমেনের দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়াতেই এ ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব পড়েছে দেশটির বিমান চলাচল খাতে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গত ১০ অক্টোবর থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, যদিও বুধবার থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তা উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য বলছে, সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস তাদের পরিষেবা স্থগিত রেখেছে।

বিশেষ করে লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সের মতো বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে, যার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন সংঘাতের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি আরবে আরামকোর তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা: নিহত ২

আপডেট সময় ০১:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই হামলায় ফিলিপাইন ও নেপালের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তান ও ভারতের একজন করে নাগরিক আহত হয়েছেন। ড্রোনটি সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও এর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ার কারণে হতাহতের এই করুণ ঘটনা ঘটে। হামলার পেছনে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে ড্রোন হামলা ও সেগুলো প্রতিহত করার ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাসেও হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করার পর তার আঘাতে এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। চলতি মাসের শুরুতেই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে ছোট অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ইয়েমেনের দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়াতেই এ ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব পড়েছে দেশটির বিমান চলাচল খাতে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গত ১০ অক্টোবর থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, যদিও বুধবার থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তা উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য বলছে, সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস তাদের পরিষেবা স্থগিত রেখেছে।

বিশেষ করে লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সের মতো বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে, যার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন সংঘাতের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে।