ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নতুন প্রতীক ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান

ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ-সুবিধার দাবিতে চলা শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সম্প্রতি এক অদ্ভুত স্লোগানের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ নামের এই স্লোগানটি মূলত আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক। এর আরবি অংশ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’ এবং ফরাসি অংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এই দুই ভাষার অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংমিশ্রণ তরুণদের কাছে হাস্যকর ঠেকেছে। এ দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে স্লোগানটি। বাক্যটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হতে পারে। গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের প্রতিবাদে তরুণদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে আসা একটি বার্তা থেকেই এই স্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছে। তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি। এই বিক্ষোভই পরে ব্যাপক অস্থিরতায় রূপ নেয়।

আন্দোলনের কোনো একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টাকালে এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’।

সেখানে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ ব্যবহারের পর ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বার্তাটি পাঠানোর সময় মামাদু বা আবদেল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা থেকে শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো এজেন্ট ছদ্মবেশে তাদের ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা করছেন। এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যারা এই বার্তা পাঠিয়েছেন, তারা তরুণদের বর্তমান কথ্যরীতি সম্পর্কে অজ্ঞ। ফ্রান্সের বিশিষ্ট ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না। বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী সাদানি সাবাদির মতে, স্ন্যাপচ্যাটের ওই বার্তাগুলোতে একধরনের পূর্বধারণা বা স্টিরিওটাইপিং প্রকাশ পেয়েছে, যা সংখ্যালঘু ও অভিবাসী বংশোদ্ভূত তরুণদের প্রতি প্রশাসনের মানসিকতারই প্রতিফলন।

ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিরা দীর্ঘসময় ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা বলে আসছেন। শিক্ষার্থী ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের যে টানাপোড়েন রয়েছে, এই ঘটনাটি সেই অবিশ্বাসের চিত্রই ফুটিয়ে তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলনের পেছনের প্রকৃত বাস্তবতা এবং তরুণ প্রজন্মের ভাষা—উভয়টি বুঝতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।

এ বিষয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্টের এমন শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তবে মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে তদন্তকারীরা কখনো কখনো অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করে থাকেন। তাদের ভাষ্যমতে, অপরাধমূলক কাজের পরিকল্পনা উদ্ঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়, যাতে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা সহজ হয়।

বর্তমানে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ স্লোগানটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যকার উত্তেজনার এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণরা এটিকে গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষের উপহাসের জবাব দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে নিজেদের সংগঠিত করার সক্ষমতা তুলে ধরছে। গত সপ্তাহে এই বিক্ষোভের সমর্থনে লাখ লাখ মানুষের রাজপথে নেমে আসার ঘটনা দেশটিতে গভীর অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

আপলোডকারীর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে টানাপোড়েন: কমেছে কর্মী গমন

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নতুন প্রতীক ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান

আপডেট সময় ০২:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ-সুবিধার দাবিতে চলা শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সম্প্রতি এক অদ্ভুত স্লোগানের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ নামের এই স্লোগানটি মূলত আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক। এর আরবি অংশ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’ এবং ফরাসি অংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এই দুই ভাষার অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংমিশ্রণ তরুণদের কাছে হাস্যকর ঠেকেছে। এ দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে স্লোগানটি। বাক্যটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হতে পারে। গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের প্রতিবাদে তরুণদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে আসা একটি বার্তা থেকেই এই স্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছে। তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি। এই বিক্ষোভই পরে ব্যাপক অস্থিরতায় রূপ নেয়।

আন্দোলনের কোনো একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টাকালে এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’।

সেখানে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ ব্যবহারের পর ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বার্তাটি পাঠানোর সময় মামাদু বা আবদেল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা থেকে শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো এজেন্ট ছদ্মবেশে তাদের ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা করছেন। এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যারা এই বার্তা পাঠিয়েছেন, তারা তরুণদের বর্তমান কথ্যরীতি সম্পর্কে অজ্ঞ। ফ্রান্সের বিশিষ্ট ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না। বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী সাদানি সাবাদির মতে, স্ন্যাপচ্যাটের ওই বার্তাগুলোতে একধরনের পূর্বধারণা বা স্টিরিওটাইপিং প্রকাশ পেয়েছে, যা সংখ্যালঘু ও অভিবাসী বংশোদ্ভূত তরুণদের প্রতি প্রশাসনের মানসিকতারই প্রতিফলন।

ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিরা দীর্ঘসময় ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা বলে আসছেন। শিক্ষার্থী ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের যে টানাপোড়েন রয়েছে, এই ঘটনাটি সেই অবিশ্বাসের চিত্রই ফুটিয়ে তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলনের পেছনের প্রকৃত বাস্তবতা এবং তরুণ প্রজন্মের ভাষা—উভয়টি বুঝতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।

এ বিষয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্টের এমন শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তবে মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে তদন্তকারীরা কখনো কখনো অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করে থাকেন। তাদের ভাষ্যমতে, অপরাধমূলক কাজের পরিকল্পনা উদ্ঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়, যাতে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা সহজ হয়।

বর্তমানে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ স্লোগানটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যকার উত্তেজনার এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণরা এটিকে গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষের উপহাসের জবাব দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে নিজেদের সংগঠিত করার সক্ষমতা তুলে ধরছে। গত সপ্তাহে এই বিক্ষোভের সমর্থনে লাখ লাখ মানুষের রাজপথে নেমে আসার ঘটনা দেশটিতে গভীর অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।