ভারতীয় উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা ফের বাড়াল পাকিস্তান। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বর ভোর ৫টা পর্যন্ত ভারতীয় কোনো উড়োজাহাজ পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। গত ১৭ অক্টোবর পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) নতুন করে ‘নোটিশ টু এয়ারমেন’ বা নোটাম জারির মাধ্যমে এই বিধিনিষেধের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এসব দাবির সবকিছু স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি আলাদা। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।
দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে, যখন ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলে ইসলামাবাদ তা সরাসরি নাকচ করে দেয় এবং ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানায়। এ ঘটনার জেরে ২৩ এপ্রিল থেকে পাকিস্তান ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতও ৩০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানি উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে, যখন ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ‘বুনিয়ানুম মারসুস’ নামে পাল্টা অভিযান চালায়। পাকিস্তানের দাবি, ওই সংঘাতের সময় তারা তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমানসহ ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছিল, যদিও এসব দাবি নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় টানা ৮৭ ঘণ্টার সংঘাতের পর উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও আকাশসীমা খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। পেহেলগামের হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছিল ভারত।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় পড়েছে। এতে ফ্লাইটের সময় ও দূরত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি জ্বালানি খরচ ও পরিচালন ব্যয়ের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের এভিয়েশন খাতের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম। ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত ও ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের বিমান চলাচলের বর্তমান অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হলো। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিমান পরিবহন খাতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























