ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কে ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া কেটি জাকারিয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ৪১ বছর বয়সী এই কর্মকর্তার পেশাগত যোগ্যতা এবং আইনজীবী হিসেবে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি একটি নজরদারি সংগঠন, ‘ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি’, ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট বারে জাকারিয়ার পেশাগত পরিচয় তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে। সংগঠনটির দাবি, আইন পেশার লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও বারবার নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি আইন ভঙ্গ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটির নির্বাহী পরিচালক মিশেল কুপারস্মিথ জানান, জাকারিয়া বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জেনারেল কাউন্সেল হিসেবে নিজেকে আইনজীবী দাবি করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। গত শুক্রবার ট্রাম্প তাকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যেই তার আইন পেশার লাইসেন্স থাকার প্রমাণ মেলেনি। এএফপিকে দেওয়া বিবৃতিতে জাকারিয়া অবশ্য দাবি করেন, আন্তর্জাতিক লেনদেনবিষয়ক আইন নিয়ে কাজের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে কোনো দেশে বা অঙ্গরাজ্যে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, ‘আমি যখন চীনে চলে যাই।’ রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, জাকারিয়া ২০১১ সালে পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তবে আইন ডিগ্রি থাকলেই আইনজীবী হিসেবে লাইসেন্স পাওয়া যায় না এবং চীনে বিদেশি নাগরিকদের বার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। বেইজিংয়ের একটি আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও সেখানে তিনি সীমাবদ্ধ পরিসরে আইনি সহায়তা দিতেন বলে জানা গেছে।

পেশাগত যোগ্যতার বিতর্কের পাশাপাশি তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন নিয়েও সমালোচনা তুঙ্গে। মঙ্গলবার মাত্র ১৪ মিনিটের সেই ব্রিফিংয়ে তিনি প্রস্তুত করা নোট থেকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য পাঠ করেন। মাত্র তিনটি গণমাধ্যমকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়ায় এবং উত্তরের সময় বারবার হোঁচট খাওয়ার কারণে তিনি সমালোচনার শিকার হন। এমনকি ভুলবশত ট্রাম্পকে নিজের ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করেন তিনি। সাবেক প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকিসহ অনেকেই তার পারফরম্যান্সের সমালোচনা করেছেন। তবে ট্রাম্প তার এই কাজের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে, তিনি খুব ভালো করেছেন।’

আগস্টে পদত্যাগ করা ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জাকারিয়া। লেভিট ট্রাম্পের প্রশাসনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন, যার বিদায়ের পর জাকারিয়া দায়িত্ব নেন। এখন সব মিলিয়ে একদিকে আইন পেশার লাইসেন্স নিয়ে তদন্তের দাবি এবং অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে অস্বস্তিকর পারফরম্যান্স—এই দুই বিষয় মিলিয়ে হোয়াইট হাউসের নতুন মুখপাত্র বেশ চাপের মুখে রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে কঠোর বিধিনিষেধ, ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী

পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কে ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি

আপডেট সময় ০২:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া কেটি জাকারিয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ৪১ বছর বয়সী এই কর্মকর্তার পেশাগত যোগ্যতা এবং আইনজীবী হিসেবে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি একটি নজরদারি সংগঠন, ‘ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি’, ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট বারে জাকারিয়ার পেশাগত পরিচয় তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে। সংগঠনটির দাবি, আইন পেশার লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও বারবার নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি আইন ভঙ্গ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটির নির্বাহী পরিচালক মিশেল কুপারস্মিথ জানান, জাকারিয়া বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জেনারেল কাউন্সেল হিসেবে নিজেকে আইনজীবী দাবি করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। গত শুক্রবার ট্রাম্প তাকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যেই তার আইন পেশার লাইসেন্স থাকার প্রমাণ মেলেনি। এএফপিকে দেওয়া বিবৃতিতে জাকারিয়া অবশ্য দাবি করেন, আন্তর্জাতিক লেনদেনবিষয়ক আইন নিয়ে কাজের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে কোনো দেশে বা অঙ্গরাজ্যে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, ‘আমি যখন চীনে চলে যাই।’ রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, জাকারিয়া ২০১১ সালে পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তবে আইন ডিগ্রি থাকলেই আইনজীবী হিসেবে লাইসেন্স পাওয়া যায় না এবং চীনে বিদেশি নাগরিকদের বার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। বেইজিংয়ের একটি আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও সেখানে তিনি সীমাবদ্ধ পরিসরে আইনি সহায়তা দিতেন বলে জানা গেছে।

পেশাগত যোগ্যতার বিতর্কের পাশাপাশি তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন নিয়েও সমালোচনা তুঙ্গে। মঙ্গলবার মাত্র ১৪ মিনিটের সেই ব্রিফিংয়ে তিনি প্রস্তুত করা নোট থেকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য পাঠ করেন। মাত্র তিনটি গণমাধ্যমকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়ায় এবং উত্তরের সময় বারবার হোঁচট খাওয়ার কারণে তিনি সমালোচনার শিকার হন। এমনকি ভুলবশত ট্রাম্পকে নিজের ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করেন তিনি। সাবেক প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকিসহ অনেকেই তার পারফরম্যান্সের সমালোচনা করেছেন। তবে ট্রাম্প তার এই কাজের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে, তিনি খুব ভালো করেছেন।’

আগস্টে পদত্যাগ করা ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জাকারিয়া। লেভিট ট্রাম্পের প্রশাসনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন, যার বিদায়ের পর জাকারিয়া দায়িত্ব নেন। এখন সব মিলিয়ে একদিকে আইন পেশার লাইসেন্স নিয়ে তদন্তের দাবি এবং অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে অস্বস্তিকর পারফরম্যান্স—এই দুই বিষয় মিলিয়ে হোয়াইট হাউসের নতুন মুখপাত্র বেশ চাপের মুখে রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।