যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা ‘মালদিভিয়ান’ দুটি এয়ারবাস এ২২০-৩০০ মডেলের উড়োজাহাজ দীর্ঘমেয়াদী লিজ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মালদিভিয়ানের মূল প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড এভিয়েশন সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএএসএল) এই উড়োজাহাজ দুটি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ প্রান্তিক এবং ২০২৮ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে উড়োজাহাজ দুটি সরবরাহ পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর সরকারি গেজেটে প্রকাশের মাধ্যমে এই লিজের প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। এতে ছয় থেকে ১২ বছর মেয়াদী পরিচালনাভিত্তিক লিজের শর্ত রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় উড়োজাহাজের মালিক, লিজদাতা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে মধ্যস্থতাকারী বা দালাল প্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আগ্রহী দরদাতাদের আগামী ২৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের (মালদ্বীপ সময়) মধ্যে তাদের প্রস্তাবনা জমা দিতে হবে। বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ৫ নভেম্বরের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। এতে ছয় থেকে ১২ বছরের জন্য উড়োজাহাজ দুটি পরিচালনাভিত্তিক লিজে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আইএএসএল জানিয়েছে, প্রস্তাব মূল্যায়ন শেষে আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা দরদাতাদের জানানো হবে।
উড়োজাহাজগুলোর অভ্যন্তরীন বিন্যাস সম্পর্কে সংস্থাটি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। প্রতিটি বিমানে মোট ১৩৮টি আসন থাকবে, যার মধ্যে বিজনেস শ্রেণিতে আটটি এবং ইকোনমি শ্রেণিতে ১৩০টি আসন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উড়োজাহাজগুলো মালদিভিয়ানের নিজস্ব রঙ ও নকশায় সজ্জিত থাকতে হবে এবং এগুলোর মূল ঘাঁটি হবে ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। লিজদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বিমান বন্দরে উড়োজাহাজ পৌঁছে দেওয়ার ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে প্রস্তাবনা দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, সরবরাহ পাওয়ার পর প্রথম ২৪ মাস অথবা ৫,০০০ উড্ডয়ন ঘণ্টা কিংবা ৩,০০০ ফ্লাইট চক্রের মধ্যে বড় কোনো রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন পড়বে না, এমন উড়োজাহাজ চায় সংস্থাটি। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে উড়োজাহাজ অচল থাকলে ভাড়া ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ নম্বর কারিগরি সক্ষমতায়, ৪৫ শতাংশ আর্থিক শর্তে এবং ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সুবিধায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় লিজ ভাড়া, জামানত, প্রস্তুতকরণ খরচ ও চুক্তি শেষে ফেরত দেওয়ার ব্যয়সহ অন্যান্য আর্থিক দিকগুলো নিবিড়ভাবে বিবেচনা করা হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















