ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ফিলিস্তিনি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে এই ফুটবল

ফুটবল মাঠের নির্ধারিত সময়ের মাত্র এক সেকেন্ড বাকি থাকতে রেফারি লম্বা বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামিয়ে দিলেন। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৮৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড। এটি কোনো সাধারণ ম্যাচ শেষ হওয়ার বাঁশি ছিল না, বরং গাজায় চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে প্রতীকীভাবে ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। মাঠের বিশাল পর্দায় বার্তা ভেসে ওঠে, ফিলিস্তিন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই ম্যাচ স্থগিত থাকবে। অতীতে আফ্রিকার কাপ অব নেশনসে (আফকন) ৮৫ মিনিটে খেলা শেষের নজির থাকলেও, আজকের এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিবাদের ভাষা। এমন ঘটনা নতুন নয়, আফকনে ৮৫ মিনিটেও ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজানোর ঘটনা আছে। লিওনেল মেসি: লাল কার্ড দিয়ে শুরু, লেজার শোতে শেষ।

তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তুর্কি ক্লাব কনিয়াস্পোরের আমন্ত্রণে তাদের মাঠে খেলতে এসেছিল ফিলিস্তিন দল। যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যেও ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বকে বার্তা দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ম্যাচ শুরুর আগেই তুর্কি সমর্থকেরা গ্যালারিতে বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে লেখা ছিল, বাচ্চারা যখন ঘুমায় তখন চুপ থাকো, কিন্তু তারা যখন মারা যাচ্ছে তখন নয়। এই মানবিক আবেদনের মধ্য দিয়ে মাঠে নামেন খেলোয়াড়রা। যুদ্ধবিগ্রহের মধ্যেও যাঁরা ফুটবলের জয়গান গেয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে, যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজছেন ফুটবল পায়ে, এই বিরতিতে তাঁদের নিজেদের মাঠে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তুর্কি ক্লাব কনিয়াস্পোর। শুধু একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ নয়, ম্যাচটা ছিল পুরো বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া—গাজায় যা হচ্ছে, সেদিকেও একটু তাকাও।

ম্যাচের ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে প্রথমবারের মতো খেলা এক মিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়। ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২-২ গোলের সমতায় থাকা ম্যাচটি কেবল ফুটবলীয় লড়াই ছিল না, ছিল বিশ্ববাসীর কাছে ফিলিস্তিনের বর্তমান করুণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরার একটি মাধ্যম। খেলা চলাকালীন স্বাগতিক কনিয়াস্পোরের শেষ মুহূর্তের আক্রমণ প্রতিহত করার পরই রেফারি এই প্রতীকী সমাপ্তি টানেন। ২-২ গোলের ম্যাচটাকে সাধারণ একটা ম্যাচ ভাবলে ভুল হবে। এই ম্যাচ থেমে থাকবে তত দিন, যত দিন না ফিলিস্তিনি মুক্তি পাচ্ছে।

ফিলিস্তিনের এই সংকট নিয়ে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিবাদের ঢেউ কেবল এখানেই থামেনি। আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের মধ্যকার আরেকটি ম্যাচেও ইসরায়েলের প্রতি তীব্র দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়। সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো ব্যান্ড পরে মাঠে নামেন এবং প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন পর্যন্ত করেননি। গ্যালারি থেকে পুরো ম্যাচে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান মুখরিত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দলকে সুবিধাবাদীদের ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

ফিলিস্তিনি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে এই ফুটবল

আপডেট সময় ০৫:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফুটবল মাঠের নির্ধারিত সময়ের মাত্র এক সেকেন্ড বাকি থাকতে রেফারি লম্বা বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামিয়ে দিলেন। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৮৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড। এটি কোনো সাধারণ ম্যাচ শেষ হওয়ার বাঁশি ছিল না, বরং গাজায় চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে প্রতীকীভাবে ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। মাঠের বিশাল পর্দায় বার্তা ভেসে ওঠে, ফিলিস্তিন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই ম্যাচ স্থগিত থাকবে। অতীতে আফ্রিকার কাপ অব নেশনসে (আফকন) ৮৫ মিনিটে খেলা শেষের নজির থাকলেও, আজকের এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিবাদের ভাষা। এমন ঘটনা নতুন নয়, আফকনে ৮৫ মিনিটেও ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজানোর ঘটনা আছে। লিওনেল মেসি: লাল কার্ড দিয়ে শুরু, লেজার শোতে শেষ।

তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তুর্কি ক্লাব কনিয়াস্পোরের আমন্ত্রণে তাদের মাঠে খেলতে এসেছিল ফিলিস্তিন দল। যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যেও ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বকে বার্তা দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ম্যাচ শুরুর আগেই তুর্কি সমর্থকেরা গ্যালারিতে বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে লেখা ছিল, বাচ্চারা যখন ঘুমায় তখন চুপ থাকো, কিন্তু তারা যখন মারা যাচ্ছে তখন নয়। এই মানবিক আবেদনের মধ্য দিয়ে মাঠে নামেন খেলোয়াড়রা। যুদ্ধবিগ্রহের মধ্যেও যাঁরা ফুটবলের জয়গান গেয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে, যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজছেন ফুটবল পায়ে, এই বিরতিতে তাঁদের নিজেদের মাঠে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তুর্কি ক্লাব কনিয়াস্পোর। শুধু একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ নয়, ম্যাচটা ছিল পুরো বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া—গাজায় যা হচ্ছে, সেদিকেও একটু তাকাও।

ম্যাচের ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে প্রথমবারের মতো খেলা এক মিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়। ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২-২ গোলের সমতায় থাকা ম্যাচটি কেবল ফুটবলীয় লড়াই ছিল না, ছিল বিশ্ববাসীর কাছে ফিলিস্তিনের বর্তমান করুণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরার একটি মাধ্যম। খেলা চলাকালীন স্বাগতিক কনিয়াস্পোরের শেষ মুহূর্তের আক্রমণ প্রতিহত করার পরই রেফারি এই প্রতীকী সমাপ্তি টানেন। ২-২ গোলের ম্যাচটাকে সাধারণ একটা ম্যাচ ভাবলে ভুল হবে। এই ম্যাচ থেমে থাকবে তত দিন, যত দিন না ফিলিস্তিনি মুক্তি পাচ্ছে।

ফিলিস্তিনের এই সংকট নিয়ে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিবাদের ঢেউ কেবল এখানেই থামেনি। আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের মধ্যকার আরেকটি ম্যাচেও ইসরায়েলের প্রতি তীব্র দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়। সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো ব্যান্ড পরে মাঠে নামেন এবং প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন পর্যন্ত করেননি। গ্যালারি থেকে পুরো ম্যাচে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান মুখরিত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।