রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে শহীদ জেহাদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতারা। শনিবার ১০ অক্টোবর, শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ছিল। তিনি ঘোষণা করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই এখন তাদের প্রধান অঙ্গীকার ও শপথ। ওই শপথ থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরো বেগবান হয়। ”। পরে ১১ অক্টোবর হরতাল কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনে ছাত্রনেতাদের ওপর নির্যাতন ও গুলি চালানো হয়।
১৯৯০ সালের এই দিনে উল্লাপাড়া থেকে ঢাকায় সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে ছাত্রদল নেতা নাজির উদ্দিন জেহাদ স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। আমান উল্লাহ আমান সেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মিছিলে গুলি চালানোর ঘটনাটি ছিল ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেহাদকে মৃত ঘোষণা করার পর তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়, যেখানে বেগম খালেদা জিয়া ও অন্যান্য জাতীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সে সময় ২২টি ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গড়ে তোলে এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার শপথ নেয়, যা পরবর্তীকালে গণআন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেয়। এটাই আজকে জেহাদ দিবসে আমাদের প্রত্যয় এবং শপথ। ”। তার মরদেহ সামনে রেখে ছাত্রনেতারা শপথ নেন, স্বৈরাচার এরশাদের পতন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।
আমান উল্লাহ আমান আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং একদলীয় শাসনের কবলে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামের সেই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম ও সুমনসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে চিকিৎসক ডা. শামসুল আলম খান মিলনের আত্মত্যাগের বিষয়টিও তিনি স্মরণ করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত এক দফা আন্দোলনে দেশের মানুষ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছিল। গত ২৪ আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকারের মাধ্যমেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের আস্থায় বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। এদিন শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং জলবায়ুবিষয়ক সহসম্পাদক ও সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এখন সেই গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















