ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

নিরাপদ যাতায়াতে ঢাকার রাস্তায় নারী চালক ও রাইড শেয়ারিং

ঢাকার ব্যস্ততম সড়কগুলোতে যানজটের ভিড় এড়িয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত এখন অনেক ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জিং। সাধারণ রাইড শেয়ারিং সেবায় যাতায়াত করলেও অনেক নারী চালক বা সহযাত্রী পুরুষ হওয়ায় অস্বস্তিতে ভোগেন। এমন নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের কথা চিন্তা করেই যাত্রা শুরু করেছে ‘মায়া’ নামক একটি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। এই সেবায় চালক এবং যাত্রী—উভয়ই নারী হওয়ায় ভ্রমণ হয়ে উঠছে নিশ্চিন্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ‘মায়া’ তাদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। যদিও এখনো তাদের নিজস্ব কোনো অ্যাপ তৈরি হয়নি, তবে যাত্রীরা ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ বা সরাসরি ফোনকলের মাধ্যমে রাইড বুকিং দিতে পারছেন। বর্তমানে মায়ার হিসাবে, প্ল্যাটফর্মটিতে ৬০০টিরও বেশি রাইডের অনুরোধ এসেছে, যার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ৪০০টির বেশি রাইড। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আটটি রাইড সম্পন্ন হচ্ছে।

মায়ায় নিয়মিত মোটরসাইকেল সেবা নিচ্ছেন এমন নারীর সংখ্যা ১০ জনের বেশি। যাত্রীদের যাতায়াতের চাহিদার বড় অংশই আসে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে। অফিস শুরুর সময়ের ব্যস্ততায় বুকিংয়ের হারও থাকে বেশি। নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী আনিকা সালসাবিল জানান, আগে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াতের সময় নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হতো। কিন্তু মায়ার নারী চালকদের সাথে যাতায়াতে তিনি পূর্ণ স্বস্তি বোধ করেন। তখন তাঁদের মনে প্রশ্ন আসে, চালকও যদি নারী হন।

চালকের ভূমিকায় থাকা সাথী (ছদ্মনাম) জানান, প্রথম রাইডের সময় কিছুটা ভয় থাকলেও যাত্রীর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তার মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। স্বামী ও পরিবারের সমর্থনকেও তিনি নিজের শক্তির উৎস হিসেবে দেখছেন। তবে রাস্তায় নামলে ভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতারও মোকাবিলা করতে হয় তাদের। ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অনেক সময় পুরুষ চালকরা অহেতুক মন্তব্য করেন বা গাড়ি খুব ঘেঁষে চালানোর মতো আচরণ করেন। তবে অনেক পথচারী তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উৎসাহিতও করেন। হেলমেট পরা চালকের চোখ রাস্তায়, পেছনের আসনে নারী যাত্রীও বসে আছেন নিশ্চিন্তে। পাশ দিয়ে যাওয়া কয়েকজনের চোখ আটকে গেল স্কুটারটির দিকে। ছয় বছর বয়সী মেয়ের দেখাশোনা ও সংসারের কাজ সেরে সুযোগ পেলেই স্কুটার নিয়ে রাস্তায় বের হন তিনি। পেছনের আসনে বসা অপরিচিত নারীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেন।

সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে অধিক সংখ্যক দক্ষ ও ভেরিফায়েড নারী চালককে রাস্তায় নামানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চালক সংকটের কারণে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাইড রিকোয়েস্ট পূরণ করা সম্ভব হয় না। অনেক আগ্রহী নারী চালক হিসেবে যুক্ত হতে চাইলেও, তাদের অনেকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ আগ্রহী চালক বৈদ্যুতিক বাইক ব্যবহার করেন, যাদের নথিপত্র ঘাটতির কারণে এখনো নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া পারিবারিক কারণেও অনেক চালক নিয়মিত সেবা দিতে পারেন না; বিশেষ করে সন্তান বা পরিবারের সদস্য অসুস্থ হলে কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫ দিন বিরতি নেন।

মায়া রাইডের বর্তমানে কোনো নিজস্ব অ্যাপ না থাকায় বুকিং প্রক্রিয়ায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে বুকিং রিকোয়েস্ট দিতে হয়। এরপর কাছাকাছি থাকা চালককে রাইডটি দেওয়া হয় এবং চালক নিশ্চিত হলে যাত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর চালককে খালি বাইক নিয়ে ফিরে আসতে হয়, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফাহাদ চৌধুরী। গাড়ির ফাঁক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে একটি স্কুটার। প্রথমে ফেসবুকে পরীক্ষামূলক প্রচারণা চালান ফাহাদ।

রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি ‘মায়া কিডস’ নামে একটি বিশেষ সেবাও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্কুলের শিশুদের নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে মাসিক প্যাকেজের সুবিধাও রয়েছে। অভিভাবকরা চাইলে পরিবারের একজন সদস্যকেও শিশুর সঙ্গে পাঠানোর সুযোগ পান।

তবে মায়ার এই সেবায় কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো বিদ্যমান। ফাহাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মায়ার চালক ও যাত্রীদের জন্য এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিমা সুবিধা নেই। নিরাপত্তার খাতিরে যাত্রীদের পরিচয় ফেসবুক প্রোফাইল ও ফোন কলের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মনে হলে চালক চাইলে রাইড প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বসুন্ধরা, বারিধারা ও পুরান ঢাকায় এই সেবা চালু আছে। ভবিষ্যতে দক্ষ জনবল বাড়লে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে মায়ার।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ যাতায়াতে ঢাকার রাস্তায় নারী চালক ও রাইড শেয়ারিং

আপডেট সময় ০১:৩৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার ব্যস্ততম সড়কগুলোতে যানজটের ভিড় এড়িয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত এখন অনেক ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জিং। সাধারণ রাইড শেয়ারিং সেবায় যাতায়াত করলেও অনেক নারী চালক বা সহযাত্রী পুরুষ হওয়ায় অস্বস্তিতে ভোগেন। এমন নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের কথা চিন্তা করেই যাত্রা শুরু করেছে ‘মায়া’ নামক একটি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। এই সেবায় চালক এবং যাত্রী—উভয়ই নারী হওয়ায় ভ্রমণ হয়ে উঠছে নিশ্চিন্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ‘মায়া’ তাদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। যদিও এখনো তাদের নিজস্ব কোনো অ্যাপ তৈরি হয়নি, তবে যাত্রীরা ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ বা সরাসরি ফোনকলের মাধ্যমে রাইড বুকিং দিতে পারছেন। বর্তমানে মায়ার হিসাবে, প্ল্যাটফর্মটিতে ৬০০টিরও বেশি রাইডের অনুরোধ এসেছে, যার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ৪০০টির বেশি রাইড। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আটটি রাইড সম্পন্ন হচ্ছে।

মায়ায় নিয়মিত মোটরসাইকেল সেবা নিচ্ছেন এমন নারীর সংখ্যা ১০ জনের বেশি। যাত্রীদের যাতায়াতের চাহিদার বড় অংশই আসে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে। অফিস শুরুর সময়ের ব্যস্ততায় বুকিংয়ের হারও থাকে বেশি। নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী আনিকা সালসাবিল জানান, আগে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াতের সময় নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হতো। কিন্তু মায়ার নারী চালকদের সাথে যাতায়াতে তিনি পূর্ণ স্বস্তি বোধ করেন। তখন তাঁদের মনে প্রশ্ন আসে, চালকও যদি নারী হন।

চালকের ভূমিকায় থাকা সাথী (ছদ্মনাম) জানান, প্রথম রাইডের সময় কিছুটা ভয় থাকলেও যাত্রীর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তার মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। স্বামী ও পরিবারের সমর্থনকেও তিনি নিজের শক্তির উৎস হিসেবে দেখছেন। তবে রাস্তায় নামলে ভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতারও মোকাবিলা করতে হয় তাদের। ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অনেক সময় পুরুষ চালকরা অহেতুক মন্তব্য করেন বা গাড়ি খুব ঘেঁষে চালানোর মতো আচরণ করেন। তবে অনেক পথচারী তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উৎসাহিতও করেন। হেলমেট পরা চালকের চোখ রাস্তায়, পেছনের আসনে নারী যাত্রীও বসে আছেন নিশ্চিন্তে। পাশ দিয়ে যাওয়া কয়েকজনের চোখ আটকে গেল স্কুটারটির দিকে। ছয় বছর বয়সী মেয়ের দেখাশোনা ও সংসারের কাজ সেরে সুযোগ পেলেই স্কুটার নিয়ে রাস্তায় বের হন তিনি। পেছনের আসনে বসা অপরিচিত নারীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেন।

সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে অধিক সংখ্যক দক্ষ ও ভেরিফায়েড নারী চালককে রাস্তায় নামানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চালক সংকটের কারণে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাইড রিকোয়েস্ট পূরণ করা সম্ভব হয় না। অনেক আগ্রহী নারী চালক হিসেবে যুক্ত হতে চাইলেও, তাদের অনেকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ আগ্রহী চালক বৈদ্যুতিক বাইক ব্যবহার করেন, যাদের নথিপত্র ঘাটতির কারণে এখনো নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া পারিবারিক কারণেও অনেক চালক নিয়মিত সেবা দিতে পারেন না; বিশেষ করে সন্তান বা পরিবারের সদস্য অসুস্থ হলে কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫ দিন বিরতি নেন।

মায়া রাইডের বর্তমানে কোনো নিজস্ব অ্যাপ না থাকায় বুকিং প্রক্রিয়ায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে বুকিং রিকোয়েস্ট দিতে হয়। এরপর কাছাকাছি থাকা চালককে রাইডটি দেওয়া হয় এবং চালক নিশ্চিত হলে যাত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর চালককে খালি বাইক নিয়ে ফিরে আসতে হয়, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফাহাদ চৌধুরী। গাড়ির ফাঁক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে একটি স্কুটার। প্রথমে ফেসবুকে পরীক্ষামূলক প্রচারণা চালান ফাহাদ।

রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি ‘মায়া কিডস’ নামে একটি বিশেষ সেবাও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্কুলের শিশুদের নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে মাসিক প্যাকেজের সুবিধাও রয়েছে। অভিভাবকরা চাইলে পরিবারের একজন সদস্যকেও শিশুর সঙ্গে পাঠানোর সুযোগ পান।

তবে মায়ার এই সেবায় কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো বিদ্যমান। ফাহাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মায়ার চালক ও যাত্রীদের জন্য এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিমা সুবিধা নেই। নিরাপত্তার খাতিরে যাত্রীদের পরিচয় ফেসবুক প্রোফাইল ও ফোন কলের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মনে হলে চালক চাইলে রাইড প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বসুন্ধরা, বারিধারা ও পুরান ঢাকায় এই সেবা চালু আছে। ভবিষ্যতে দক্ষ জনবল বাড়লে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে মায়ার।