ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা ও প্রবাসীদের ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে সরকার: মাহদী আমিন নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করছে সরকার: জামায়াত আমির ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত ‘সুধাসদন’ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়ে তাকে সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি দিয়ে গেছে নাহিদ মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী জুলাইয়ের দিনগুলোই জ্বলন্ত সাক্ষী, ইসলামী আন্দোলন মানবতার পক্ষের শক্তি: চরমোনাই পীর ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদেরকে অভিনন্দন নাহিদ ইসলামের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে: আইনমন্ত্রী

বাবাকে হারিয়েও পরীক্ষা, ইকনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন শিক্ষামন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোনে ইকনের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী নিজেই ইকনের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সঙ্গে ইকনের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন বিবেচনায় দ্রুত আর্থিক সহায়তা পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী। এ ছাড়া এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ইকনের উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ লেখাপড়ার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

ফারহান ইশতিয়াক বলেন, ইকনের খবরটি আমাদের নজরে এসেছে। মন্ত্রী মহোদয় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন। আপাতত তার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরীক্ষা শেষে যেন অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এর আগে, বিকালে বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ইকনের সংগ্রামের গল্প ব্যাপক আলোড়ন তোলে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ তার খোঁজখবর নেন এবং সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষামন্ত্রীর এ মানবিক উদ্যোগ ইকন ও তার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

অর্থাভাবে এ বছর প্রয়োজনীয় বইও কিনতে পারেননি জানিয়ে ইকন বলেন, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমি কোরিয়ান ও চীনা ভাষাও শিখেছি, যাতে ভবিষ্যতে ভালো কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ পাই। আমার ভাই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে গেছে। মা তাকে দেখাশোনা করেন। সংসারে বাবাই একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। হঠাৎ করেই বাবা চলে গেলেন। বাবাকে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যার বাবা নেই, সেই-ই শুধু বাবা হারানোর বেদনা বুঝতে পারে। বাবা আমাদের জীবনের বটগাছ।

তিনি আরও বলেন, আমি কখনো ভাবিনি, আমার জীবনের গল্প এভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। শিক্ষামন্ত্রী স্যার আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা শুনে নতুন করে সাহস পেয়েছি। যারা আমার সংগ্রামের গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন এবং যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, সবার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমি সবার দোয়া চাই, যেন লেখাপড়া শেষ করে একজন ভালো মানুষ হতে পারি এবং পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাবাকে হারিয়েও পরীক্ষা, ইকনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৩০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোনে ইকনের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী নিজেই ইকনের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সঙ্গে ইকনের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন বিবেচনায় দ্রুত আর্থিক সহায়তা পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী। এ ছাড়া এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ইকনের উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ লেখাপড়ার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

ফারহান ইশতিয়াক বলেন, ইকনের খবরটি আমাদের নজরে এসেছে। মন্ত্রী মহোদয় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন। আপাতত তার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরীক্ষা শেষে যেন অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এর আগে, বিকালে বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ইকনের সংগ্রামের গল্প ব্যাপক আলোড়ন তোলে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ তার খোঁজখবর নেন এবং সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষামন্ত্রীর এ মানবিক উদ্যোগ ইকন ও তার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

অর্থাভাবে এ বছর প্রয়োজনীয় বইও কিনতে পারেননি জানিয়ে ইকন বলেন, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমি কোরিয়ান ও চীনা ভাষাও শিখেছি, যাতে ভবিষ্যতে ভালো কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ পাই। আমার ভাই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে গেছে। মা তাকে দেখাশোনা করেন। সংসারে বাবাই একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। হঠাৎ করেই বাবা চলে গেলেন। বাবাকে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যার বাবা নেই, সেই-ই শুধু বাবা হারানোর বেদনা বুঝতে পারে। বাবা আমাদের জীবনের বটগাছ।

তিনি আরও বলেন, আমি কখনো ভাবিনি, আমার জীবনের গল্প এভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। শিক্ষামন্ত্রী স্যার আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা শুনে নতুন করে সাহস পেয়েছি। যারা আমার সংগ্রামের গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন এবং যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, সবার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমি সবার দোয়া চাই, যেন লেখাপড়া শেষ করে একজন ভালো মানুষ হতে পারি এবং পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারি।