ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু:অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা আইএমএফের বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : পর্যটনমন্ত্রী বিএনপি ধর্ম-বর্ণের বিভেদে বিশ্বাস করে না: শামা ওবায়েদ সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর: মাহদী আমিন ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বন্যা-জলাবদ্ধতায় আ.লীগ, ইন্টেরিম ও বিএনপি সরকারের আচরণ একই: এবি পার্টি ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎসকি জুলাই আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে ব্যবস্থা: ডিএমপি

জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিও কত ভয়াবহ!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আল্লাহ তাআলা মানুষকে জান্নাতের সুসংবাদ যেমন দিয়েছেন, তেমনি জাহান্নামের কঠিন শাস্তির ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন। একজন মুমিনের জন্য জাহান্নামের শাস্তির বর্ণনা ভয় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়; বরং তাকে গুনাহ থেকে বিরত রাখা, তওবার দিকে আহ্বান করা এবং আল্লাহর আনুগত্যে দৃঢ় করা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে শাস্তিকে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি বলা হয়েছে, সেটিও মানুষের কল্পনার অতীত ভয়াবহ। এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাহান্নাম থেকে মুক্তিই প্রকৃত সফলতা।

কুরআনের সতর্কবার্তা:

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরীম: আয়াত ৬)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ

‘যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই-ই প্রকৃত সফলকাম।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫)

জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি:

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ أَهْوَنَ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا رَجُلٌ تُوضَعُ فِي أَخْمَصِ قَدَمَيْهِ جَمْرَتَانِ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ، كَمَا يَغْلِي الْمِرْجَلُ وَالْقُمْقُمُ، مَا يَرَى أَنَّ أَحَدًا أَشَدُّ مِنْهُ عَذَابًا، وَإِنَّهُ لَأَهْوَنُهُمْ عَذَابًا

‘জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি হবে সেই ব্যক্তি, যার পায়ের তলায় দুটি আগুনের অঙ্গার রাখা হবে। এর তাপে তার মস্তিষ্ক এমনভাবে ফুটতে থাকবে, যেমন হাঁড়ি ফুটতে থাকে। সে মনে করবে, তার চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কারো নেই; অথচ সে-ই হবে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি।’ (মুসলিম ২১৩)

এই হাদিস আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

#জাহান্নামের সামান্যতম শাস্তিও মানুষের সহ্যের বাইরে।
#দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আনন্দের জন্য আখিরাতকে বিসর্জন দেওয়া চরম ক্ষতির কারণ।
#আল্লাহর রহমত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য আন্তরিক তওবা, নেক আমল ও তাকওয়া অর্জনের বিকল্প নেই।
#একজন মুমিনের উচিত প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া।

জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া:

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন, এই দোয়া বেশি বেশি পড়তে এবং আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইতে। (আবু দাউদ ৫০৭৯)

জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তির এই বর্ণনাই প্রমাণ করে যে, আখিরাতের শাস্তি কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, নিয়মিত তওবা করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করুন, জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং ইমানের ওপর অবিচল রেখে মৃত্যু দান করুন। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিও কত ভয়াবহ!

আপডেট সময় ০৬:১০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আল্লাহ তাআলা মানুষকে জান্নাতের সুসংবাদ যেমন দিয়েছেন, তেমনি জাহান্নামের কঠিন শাস্তির ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন। একজন মুমিনের জন্য জাহান্নামের শাস্তির বর্ণনা ভয় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়; বরং তাকে গুনাহ থেকে বিরত রাখা, তওবার দিকে আহ্বান করা এবং আল্লাহর আনুগত্যে দৃঢ় করা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে শাস্তিকে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি বলা হয়েছে, সেটিও মানুষের কল্পনার অতীত ভয়াবহ। এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাহান্নাম থেকে মুক্তিই প্রকৃত সফলতা।

কুরআনের সতর্কবার্তা:

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরীম: আয়াত ৬)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ

‘যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই-ই প্রকৃত সফলকাম।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫)

জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি:

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ أَهْوَنَ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا رَجُلٌ تُوضَعُ فِي أَخْمَصِ قَدَمَيْهِ جَمْرَتَانِ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ، كَمَا يَغْلِي الْمِرْجَلُ وَالْقُمْقُمُ، مَا يَرَى أَنَّ أَحَدًا أَشَدُّ مِنْهُ عَذَابًا، وَإِنَّهُ لَأَهْوَنُهُمْ عَذَابًا

‘জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি হবে সেই ব্যক্তি, যার পায়ের তলায় দুটি আগুনের অঙ্গার রাখা হবে। এর তাপে তার মস্তিষ্ক এমনভাবে ফুটতে থাকবে, যেমন হাঁড়ি ফুটতে থাকে। সে মনে করবে, তার চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কারো নেই; অথচ সে-ই হবে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি।’ (মুসলিম ২১৩)

এই হাদিস আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

#জাহান্নামের সামান্যতম শাস্তিও মানুষের সহ্যের বাইরে।
#দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আনন্দের জন্য আখিরাতকে বিসর্জন দেওয়া চরম ক্ষতির কারণ।
#আল্লাহর রহমত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য আন্তরিক তওবা, নেক আমল ও তাকওয়া অর্জনের বিকল্প নেই।
#একজন মুমিনের উচিত প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া।

জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া:

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন, এই দোয়া বেশি বেশি পড়তে এবং আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইতে। (আবু দাউদ ৫০৭৯)

জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তির এই বর্ণনাই প্রমাণ করে যে, আখিরাতের শাস্তি কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, নিয়মিত তওবা করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করুন, জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং ইমানের ওপর অবিচল রেখে মৃত্যু দান করুন। আমিন।