ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না: শফিকুর রহমান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে স্থানীয় জনগণ তা রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এ দেশের এক ইঞ্চি মাটি তো দূরের কথা, একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না।

শনিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামীতে ১১-দলীয় ঐক্য সরকার গঠন করবে। পিলখানা ও শাপলায় হত্যা, ওসমান হাদী হত্যা এবং জুলাইয়ে গণহত্যা যারা চালিয়েছে, তাদের বিচার করতে হবে। এই সরকার যদি তা করতে না পারে, পরবর্তী সরকার এসে করবে। কারও কাছে মাথা নত করব না। আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ব।

তিস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিস্তা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ। তিস্তার বালুচরে কোদাল মেরে উন্নয়ন শুরু করব—কথা দিয়েছিলাম। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামীতে ১১-দলীয় ঐক্য ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ধানাই-পানাই চলবে না।’

শফিকুর রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্যে বাজার অস্থির। শুনলাম, রংপুরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণে রাখার ভাড়া প্রতি বস্তা ৬০০ টাকা। এটা বেশি, ভাড়া কমাতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ইতিহাস। তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফল শূন্য। আইএমএফ বলে দিয়েছে, তারা এ সরকারকে কোনো ঋণ দেবে না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শুনলাম ডিসেম্বরে কেউ একজন আসতে পারে। তিনি ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা ফাঁসির দড়ি রেডি রাখছি, ফাঁসির দড়ি তাকে পরতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সব সময়ে উন্নয়নবঞ্চিত থাকে রংপুর। বর্তমান বাজেট থেকে রংপুরের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। এখন উন্নয়ন হচ্ছে কেবলমাত্র বগুড়া আর শিবগঞ্জের।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে অনুষ্ঠিত ওই বিভাগীয় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আকবরসহ রংপুরের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না: শফিকুর রহমান

আপডেট সময় ০৭:২০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে স্থানীয় জনগণ তা রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এ দেশের এক ইঞ্চি মাটি তো দূরের কথা, একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না।

শনিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামীতে ১১-দলীয় ঐক্য সরকার গঠন করবে। পিলখানা ও শাপলায় হত্যা, ওসমান হাদী হত্যা এবং জুলাইয়ে গণহত্যা যারা চালিয়েছে, তাদের বিচার করতে হবে। এই সরকার যদি তা করতে না পারে, পরবর্তী সরকার এসে করবে। কারও কাছে মাথা নত করব না। আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ব।

তিস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিস্তা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ। তিস্তার বালুচরে কোদাল মেরে উন্নয়ন শুরু করব—কথা দিয়েছিলাম। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামীতে ১১-দলীয় ঐক্য ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ধানাই-পানাই চলবে না।’

শফিকুর রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্যে বাজার অস্থির। শুনলাম, রংপুরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণে রাখার ভাড়া প্রতি বস্তা ৬০০ টাকা। এটা বেশি, ভাড়া কমাতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ইতিহাস। তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফল শূন্য। আইএমএফ বলে দিয়েছে, তারা এ সরকারকে কোনো ঋণ দেবে না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শুনলাম ডিসেম্বরে কেউ একজন আসতে পারে। তিনি ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা ফাঁসির দড়ি রেডি রাখছি, ফাঁসির দড়ি তাকে পরতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সব সময়ে উন্নয়নবঞ্চিত থাকে রংপুর। বর্তমান বাজেট থেকে রংপুরের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। এখন উন্নয়ন হচ্ছে কেবলমাত্র বগুড়া আর শিবগঞ্জের।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে অনুষ্ঠিত ওই বিভাগীয় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আকবরসহ রংপুরের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।