ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি হাত–মুখ বেঁধে জামায়াত নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহের মাঝেই চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া মোংলায় চাঁদা না পেয়ে গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার ৩ ১৮ বছরের নির্যাতনের পর অস্থিরতা স্বাভাবিক, তবে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে: দুদু পুলিশের ৩৩ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করতে হবে’:শিল্পমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে পেটে গুলি লেগেছিল মন্নাস আলীর, ৫৫ বছর পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

রোগ নিরাময় পদ্ধতির নামই হলো আর্থোস্কোপিক সার্জারি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিভিন্ন অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট। কোনো কারণে যদি আমাদের শরীরের এই অস্থিসন্ধিগুলো মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়, বিশেষ করে কাঁধের ল্যাব্রাম বা পেশি এবং হাঁটুর মিনিস্কাস বা লিগামেন্ট কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে অতীতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতো। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসায় এখন আর বড় কোনো কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন পড়ে না। আক্রান্ত স্থানটি বড় করে না কেটে শুধু ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে বা ‘কী হোল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেতরের অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন একজন সার্জন। এ রোগ নির্ণয় এবং নিরাময় পদ্ধতির নামই হলো আর্থোস্কোপিক সার্জারি।

সাধারণত স্পোর্টস ইনজুরি বা খেলাধুলাজনিত আঘাতের কারণে এ লিগামেন্ট বা পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে যেকোনো ধরনের আকস্মিক মোচড়ানো আঘাত, কিংবা নাচের সময় অসাবধানতাবশত মোচড় খেয়েও লিগামেন্ট মারাত্মকভাবে ইনজুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় অনেকের হাঁটুর বাটি বা প্যাটেলোফেমোরাল জয়েন্ট ঘন ঘন নিজের জায়গা থেকে সরে যায়, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক একটি রোগ। এই রোগেরও স্থায়ী ও সফল চিকিৎসা করা সম্ভব এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি বাতজনিত বা আর্থ্রাইটিসের কারণে যদি জয়েন্টের ভেতরে কোনো ধরনের ক্ষয়সাধন হয়ে থাকে, তবে প্রাথমিক থেকে মধ্যম পর্যায় পর্যন্ত এই পদ্ধতির মাধ্যমে সেটিরও অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

আর্থোস্কোপিক সার্জারির বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর মাধ্যমে একই সঙ্গে নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা সেবাও প্রদান করা যায়। অনেক সময় বাইরে থেকে সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা বা এক্স-রের মাধ্যমে রোগীর জয়েন্টের ভেতরের আসল সমস্যাটি ধরা পড়ে না। রোগী কেন তীব্র ব্যথায় ভুগছেন, কেন তার অস্থিসন্ধি নড়ে যাচ্ছে কিংবা ছুটে যাচ্ছে- তা বাহ্যিকভাবে স্পষ্ট হয় না। এমন পরিস্থিতিতে আর্থ্রোস্কোপির মাধ্যমে জয়েন্টের ভেতরে একটি বিশেষায়িত ক্যামেরা ও আলো সংবলিত টেলিস্কোপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে চিকিৎসকরা বাইরের মনিটরের পর্দায় পুরো জয়েন্টের ভেতরের অবস্থা অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সার্ভে বা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এটি হচ্ছে মূলত ডায়াগনস্টিক বা রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া। আর থেরাপিউটিক বা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতির মাধ্যমে হাঁটুর বিভিন্ন ছিঁড়ে যাওয়া লিগামেন্ট বা রগ নতুন করে তৈরি করা হয় এবং কাঁধের ল্যাব্রাম ও ক্ষতিগ্রস্ত পেশি নিখুঁতভাবে রিপেয়ার বা মেরামত করা হয়।

এ ছাড়া জয়েন্টের ভেতরে থাকা তরুণাস্থি বা মেনিসকাস ঠিক করার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে তা রিপেয়ার করা হয় কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়া ক্ষতিকর অংশটি কেটে ফেলে দিয়ে স্থায়ী সমাধান করা হয়। ফলে রোগীর জয়েন্ট জ্যাম বা লক হয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর হয় এবং দীর্ঘদিনের তীব্র ব্যথা দ্রুত কমে আসে। এর বাইরেও জয়েন্টের ভেতরের সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে সার্ভে করা সম্ভব এ পদ্ধতিতে।

এমনকি আধুনিক মাইক্রোপাংচার বা মাইক্রোফ্রাকচার প্রযুক্তির সুসমন্বয় ঘটিয়েও এর সফল চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে। এ চিকিৎসায় প্রথাগত ওপেন সার্জারির তুলনায় রোগীর শারীরিক ও মানসিক সুবিধা অনেক বেশি।

লেখক : হাড় ও জোড়া বিশেষজ্ঞ এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন অধ্যাপক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, নিটোর, এবং বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড পিএলসি, শ্যামলী, মিরপুর রোড, ঢাকা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি

রোগ নিরাময় পদ্ধতির নামই হলো আর্থোস্কোপিক সার্জারি

আপডেট সময় ০৭:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিভিন্ন অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট। কোনো কারণে যদি আমাদের শরীরের এই অস্থিসন্ধিগুলো মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়, বিশেষ করে কাঁধের ল্যাব্রাম বা পেশি এবং হাঁটুর মিনিস্কাস বা লিগামেন্ট কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে অতীতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতো। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসায় এখন আর বড় কোনো কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন পড়ে না। আক্রান্ত স্থানটি বড় করে না কেটে শুধু ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে বা ‘কী হোল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেতরের অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন একজন সার্জন। এ রোগ নির্ণয় এবং নিরাময় পদ্ধতির নামই হলো আর্থোস্কোপিক সার্জারি।

সাধারণত স্পোর্টস ইনজুরি বা খেলাধুলাজনিত আঘাতের কারণে এ লিগামেন্ট বা পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে যেকোনো ধরনের আকস্মিক মোচড়ানো আঘাত, কিংবা নাচের সময় অসাবধানতাবশত মোচড় খেয়েও লিগামেন্ট মারাত্মকভাবে ইনজুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় অনেকের হাঁটুর বাটি বা প্যাটেলোফেমোরাল জয়েন্ট ঘন ঘন নিজের জায়গা থেকে সরে যায়, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক একটি রোগ। এই রোগেরও স্থায়ী ও সফল চিকিৎসা করা সম্ভব এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি বাতজনিত বা আর্থ্রাইটিসের কারণে যদি জয়েন্টের ভেতরে কোনো ধরনের ক্ষয়সাধন হয়ে থাকে, তবে প্রাথমিক থেকে মধ্যম পর্যায় পর্যন্ত এই পদ্ধতির মাধ্যমে সেটিরও অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

আর্থোস্কোপিক সার্জারির বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর মাধ্যমে একই সঙ্গে নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা সেবাও প্রদান করা যায়। অনেক সময় বাইরে থেকে সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা বা এক্স-রের মাধ্যমে রোগীর জয়েন্টের ভেতরের আসল সমস্যাটি ধরা পড়ে না। রোগী কেন তীব্র ব্যথায় ভুগছেন, কেন তার অস্থিসন্ধি নড়ে যাচ্ছে কিংবা ছুটে যাচ্ছে- তা বাহ্যিকভাবে স্পষ্ট হয় না। এমন পরিস্থিতিতে আর্থ্রোস্কোপির মাধ্যমে জয়েন্টের ভেতরে একটি বিশেষায়িত ক্যামেরা ও আলো সংবলিত টেলিস্কোপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে চিকিৎসকরা বাইরের মনিটরের পর্দায় পুরো জয়েন্টের ভেতরের অবস্থা অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সার্ভে বা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এটি হচ্ছে মূলত ডায়াগনস্টিক বা রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া। আর থেরাপিউটিক বা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতির মাধ্যমে হাঁটুর বিভিন্ন ছিঁড়ে যাওয়া লিগামেন্ট বা রগ নতুন করে তৈরি করা হয় এবং কাঁধের ল্যাব্রাম ও ক্ষতিগ্রস্ত পেশি নিখুঁতভাবে রিপেয়ার বা মেরামত করা হয়।

এ ছাড়া জয়েন্টের ভেতরে থাকা তরুণাস্থি বা মেনিসকাস ঠিক করার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে তা রিপেয়ার করা হয় কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়া ক্ষতিকর অংশটি কেটে ফেলে দিয়ে স্থায়ী সমাধান করা হয়। ফলে রোগীর জয়েন্ট জ্যাম বা লক হয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর হয় এবং দীর্ঘদিনের তীব্র ব্যথা দ্রুত কমে আসে। এর বাইরেও জয়েন্টের ভেতরের সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে সার্ভে করা সম্ভব এ পদ্ধতিতে।

এমনকি আধুনিক মাইক্রোপাংচার বা মাইক্রোফ্রাকচার প্রযুক্তির সুসমন্বয় ঘটিয়েও এর সফল চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে। এ চিকিৎসায় প্রথাগত ওপেন সার্জারির তুলনায় রোগীর শারীরিক ও মানসিক সুবিধা অনেক বেশি।

লেখক : হাড় ও জোড়া বিশেষজ্ঞ এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন অধ্যাপক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, নিটোর, এবং বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড পিএলসি, শ্যামলী, মিরপুর রোড, ঢাকা।