ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং পরবর্তীতে ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল কাসেম (৪২) নামে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, অপমান, হুমকি ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে আবুল কাসেমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত আবুল কাসেম মুদি দোকানি ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে চাপ দেওয়া হয়। পরে ১ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আবুল কাসেমকে মারধর করা হয় এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার বলেন, ‘হুমকি-ধমকির কারণে তারা কয়েক দিন আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। রোববার সকালে তিনি বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।’

নিহতের ভাই আবুল কালাম বলেন, ‘অপমান, ভয় ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার ভাই আত্মহত্যা করেছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী রুবা আক্তার দাবি করেন, তাঁর স্বামী ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং ওই ছাত্রীর সঙ্গে কোনো বিয়ের ঘটনাও হয়নি।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৃষ্ট একটি ঘটনার জেরে আবুল কাশেম আত্মহত্যা করেছেন। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

আপডেট সময় ০৮:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং পরবর্তীতে ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল কাসেম (৪২) নামে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, অপমান, হুমকি ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে আবুল কাসেমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত আবুল কাসেম মুদি দোকানি ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে চাপ দেওয়া হয়। পরে ১ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আবুল কাসেমকে মারধর করা হয় এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার বলেন, ‘হুমকি-ধমকির কারণে তারা কয়েক দিন আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। রোববার সকালে তিনি বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।’

নিহতের ভাই আবুল কালাম বলেন, ‘অপমান, ভয় ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার ভাই আত্মহত্যা করেছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী রুবা আক্তার দাবি করেন, তাঁর স্বামী ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং ওই ছাত্রীর সঙ্গে কোনো বিয়ের ঘটনাও হয়নি।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৃষ্ট একটি ঘটনার জেরে আবুল কাশেম আত্মহত্যা করেছেন। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।