ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মঙ্গল গ্রহের পাথরে কার্বনের সন্ধান, একসময় তাহলে কী সেখানে প্রাণ ছিল?

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

নাসার ‘পারসিভারেন্স’ রোভার মঙ্গল গ্রহের পাথরে জটিল কার্বন অণু খুঁজে পেয়েছে। এর ফলে গ্রহটিতে একসময় প্রাণ থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো। দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পারসিভারেন্স রোভারটি মঙ্গলের ‘ব্রাইট অ্যাঞ্জেল’ নামের একটি এলাকার কাদা-পাথরে জৈব কার্বন খুঁজে পেয়েছে। এই এলাকাটি বহু পুরোনো একটি শুকিয়ে যাওয়া নদী। শত কোটি বছর আগে এই নদী দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। রোভারটি তার ‘শার্লক’ নামের একটি যন্ত্র দিয়ে এই আবিষ্কার করেছে।

এখানে যে কার্বন পাওয়া গেছে, তাকে ম্যাক্রোমোলিকুলার কার্বন বলা হয়।

এটি কোনো জীবিত প্রাণী বা জীবাণু থেকে তৈরি হতে পারে। আবার পাথর ও পানির মতো প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমেও এটি তৈরি হতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি মঙ্গলে প্রাণ থাকার ১০০ ভাগ নিশ্চিত প্রমাণ নয়।

বিজ্ঞানী ড. অ্যাশলি মার্ফি বলেন, এই কার্বন জীবজগত থেকে আসতে পারে। আবার পাথর ও পানির বিক্রিয়া বা বাইরে থেকে আসা উল্কাপিণ্ড থেকেও তৈরি হতে পারে।

২০২৪ সালে ব্রাইট অ্যাঞ্জেলের এই কাদা-পাথরগুলো বিজ্ঞানীদের নজরে আসে। রোভার সেখানে পৃথিবীর জীবাশ্মের মতো কিছু অদ্ভুত দাগ দেখতে পায়। নাসার সাবেক প্রধান শন ডাফি গত বছর বলেছিলেন, এটি মঙ্গলে প্রাণের সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে।

নতুন এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা একটি পাথরের ওপর লেজার রশ্মি ফেলে কার্বনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। পাথরটির নাম ‘চেয়াভা ফলস’। এর মানে হলো, মঙ্গলের ক্ষতিকর পরিবেশ ও তেজস্ক্রিয়তা থেকে এই জৈব কার্বন কোনোভাবে টিকে গেছে।

এই আবিষ্কারের একটি বড় অর্থ রয়েছে। নাসার রোভারগুলো এখন মঙ্গলের বুকে দুই হাজার মাইলেরও বেশি দূরত্বে জৈব উপাদানের খোঁজ পেল। এর আগে ‘কিউরিওসিটি’ নামের আরেকটি রোভার মঙ্গলের অন্য একটি এলাকায় এমন উপাদান পেয়েছিল। এর মানে হলো, শত কোটি বছর আগে হয়তো পুরো মঙ্গল গ্রহ জুড়েই প্রাণের বেঁচে থাকার মতো পরিবেশ ছিল।

তবে এই কার্বন কোনো প্রাচীন জীবাণু থেকে এসেছে কি না, তা রোভারটি নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। এর উত্তর জানতে হলে নমুনাগুলো পৃথিবীতে এনে গবেষণাগারে পরীক্ষা করতে হবে। নাসা ২০৩০-এর দশকে এই নমুনা পৃথিবীতে আনার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে চীন ২০৩১ সালের মধ্যে মঙ্গলের নমুনা পৃথিবীতে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মঙ্গল গ্রহের পাথরে কার্বনের সন্ধান, একসময় তাহলে কী সেখানে প্রাণ ছিল?

আপডেট সময় ০৯:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

নাসার ‘পারসিভারেন্স’ রোভার মঙ্গল গ্রহের পাথরে জটিল কার্বন অণু খুঁজে পেয়েছে। এর ফলে গ্রহটিতে একসময় প্রাণ থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো। দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পারসিভারেন্স রোভারটি মঙ্গলের ‘ব্রাইট অ্যাঞ্জেল’ নামের একটি এলাকার কাদা-পাথরে জৈব কার্বন খুঁজে পেয়েছে। এই এলাকাটি বহু পুরোনো একটি শুকিয়ে যাওয়া নদী। শত কোটি বছর আগে এই নদী দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। রোভারটি তার ‘শার্লক’ নামের একটি যন্ত্র দিয়ে এই আবিষ্কার করেছে।

এখানে যে কার্বন পাওয়া গেছে, তাকে ম্যাক্রোমোলিকুলার কার্বন বলা হয়।

এটি কোনো জীবিত প্রাণী বা জীবাণু থেকে তৈরি হতে পারে। আবার পাথর ও পানির মতো প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমেও এটি তৈরি হতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি মঙ্গলে প্রাণ থাকার ১০০ ভাগ নিশ্চিত প্রমাণ নয়।

বিজ্ঞানী ড. অ্যাশলি মার্ফি বলেন, এই কার্বন জীবজগত থেকে আসতে পারে। আবার পাথর ও পানির বিক্রিয়া বা বাইরে থেকে আসা উল্কাপিণ্ড থেকেও তৈরি হতে পারে।

২০২৪ সালে ব্রাইট অ্যাঞ্জেলের এই কাদা-পাথরগুলো বিজ্ঞানীদের নজরে আসে। রোভার সেখানে পৃথিবীর জীবাশ্মের মতো কিছু অদ্ভুত দাগ দেখতে পায়। নাসার সাবেক প্রধান শন ডাফি গত বছর বলেছিলেন, এটি মঙ্গলে প্রাণের সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে।

নতুন এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা একটি পাথরের ওপর লেজার রশ্মি ফেলে কার্বনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। পাথরটির নাম ‘চেয়াভা ফলস’। এর মানে হলো, মঙ্গলের ক্ষতিকর পরিবেশ ও তেজস্ক্রিয়তা থেকে এই জৈব কার্বন কোনোভাবে টিকে গেছে।

এই আবিষ্কারের একটি বড় অর্থ রয়েছে। নাসার রোভারগুলো এখন মঙ্গলের বুকে দুই হাজার মাইলেরও বেশি দূরত্বে জৈব উপাদানের খোঁজ পেল। এর আগে ‘কিউরিওসিটি’ নামের আরেকটি রোভার মঙ্গলের অন্য একটি এলাকায় এমন উপাদান পেয়েছিল। এর মানে হলো, শত কোটি বছর আগে হয়তো পুরো মঙ্গল গ্রহ জুড়েই প্রাণের বেঁচে থাকার মতো পরিবেশ ছিল।

তবে এই কার্বন কোনো প্রাচীন জীবাণু থেকে এসেছে কি না, তা রোভারটি নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। এর উত্তর জানতে হলে নমুনাগুলো পৃথিবীতে এনে গবেষণাগারে পরীক্ষা করতে হবে। নাসা ২০৩০-এর দশকে এই নমুনা পৃথিবীতে আনার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে চীন ২০৩১ সালের মধ্যে মঙ্গলের নমুনা পৃথিবীতে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে।