ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারালেন আইনজীবী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৬) নামে এক আয়কর আইনজীবী ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। গত সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের তালশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

আহত শ্যামল চন্দ্র দাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কান্দিপাড়া রঘুনাথজিওর আখড়া সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির সদস্য।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের একটি বগিতে করে বাড়ি ফিরছিলেন শ্যামল চন্দ্র দাস। রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি আশুগঞ্জের তালশহর এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকার থেকে দুর্বৃত্তরা ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। একটি পাথর এসে তার ডান চোখে সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার চোখ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

পরে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে আসবে না।

আহতের ভাতিজা তনয় চন্দ্র দাস বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সৌন্দর্যের কথা বিবেচনা করে চোখটি রাখা হয়েছে। তবে এতে আর দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না। ডান চোখটি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।

শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, হঠাৎ অন্ধকার থেকে ছোড়া একটি পাথর এসে আমার চোখে আঘাত করে। এরপর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এ ধরনের ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারালেন আইনজীবী

আপডেট সময় ০৯:৪০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৬) নামে এক আয়কর আইনজীবী ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। গত সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের তালশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

আহত শ্যামল চন্দ্র দাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কান্দিপাড়া রঘুনাথজিওর আখড়া সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির সদস্য।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের একটি বগিতে করে বাড়ি ফিরছিলেন শ্যামল চন্দ্র দাস। রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি আশুগঞ্জের তালশহর এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকার থেকে দুর্বৃত্তরা ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। একটি পাথর এসে তার ডান চোখে সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার চোখ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

পরে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে আসবে না।

আহতের ভাতিজা তনয় চন্দ্র দাস বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সৌন্দর্যের কথা বিবেচনা করে চোখটি রাখা হয়েছে। তবে এতে আর দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না। ডান চোখটি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।

শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, হঠাৎ অন্ধকার থেকে ছোড়া একটি পাথর এসে আমার চোখে আঘাত করে। এরপর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এ ধরনের ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।