ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিচ্ছু ছিল বেসবল ব্যাটের মতো, নতুন গবেষণায় রহস্য উন্মোচন

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

পৃথিবীতে একসময় এমন এক বিশাল বিচ্ছু ছিল যার দৈর্ঘ্য প্রায় বেসবল ব্যাটের মতো অর্থাৎ এক মিটারেরও বেশি। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই প্রাচীন প্রাণীর সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আজকের গ্রেট ব্রিটেন অঞ্চলে এই বিচ্ছুটি ঘুরে বেড়াত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রাণীটির নাম Praearcturus gigas (পি. গিগাস)। দীর্ঘদিন ধরে এর জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ভুলভাবে অন্য ধরনের প্রাণী বিশেষ করে লবস্টারের মতো ক্রাস্টেসিয়ান ভেবে এসেছিলেন। কিন্তু লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত জীবাশ্ম এবং নতুন কিছু নমুনা আবার পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা তাদের ধারণা বদলান।

গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রাণীটি আসলে এক ধরনের বিশালাকৃতির প্রাচীন বিচ্ছু। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১ মিটার বা ৩ ফুটেরও বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি এতটাই বড় ও শক্তিশালী ছিল যে সামনে পড়লে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক।
এই বিচ্ছুর শরীরে বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল যেমন—পেটের নিচের অংশে ত্রিভুজাকৃতির একটি গঠন (স্টার্নাম), যা আধুনিক বিচ্ছুর মতোই। একই ধরনের বৈশিষ্ট্য ২০১৫ সালে কানাডায় আবিষ্কৃত আরেকটি প্রাচীন বিচ্ছুতেও দেখা যায়। এ থেকেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই দুই প্রাণী ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিচ্ছুর বড় আকৃতির পাঞ্জা বা চেলা ছিল প্রায় ৬ ইঞ্চি (১৬ সেন্টিমিটার) লম্বা যা বর্তমানের বড় বিচ্ছুর তুলনায় প্রায় চার গুণ বড়।

এই প্রাণীটি ডেভোনিয়ান যুগের শুরুতে বাস করত—যে সময় পৃথিবীতে বেশিরভাগ প্রাণই পানিতে ছিল। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি পুরোপুরি স্থলজ ছিল না। বরং জল ও স্থল দুই জায়গাতেই চলাফেরা করত। এর শরীরের কিছু অংশ, যেমন পেটের পাশে থাকা ফ্ল্যাপের মতো গঠন, সম্ভবত পানিতে সাঁতার কাটতে সাহায্য করত।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এত বড় হওয়ার একটি কারণ ছিল শত্রুর হাত থেকে বাঁচা। তবে এটি কী খেত, তা নিয়ে কিছুটা রহস্য রয়ে গেছে। স্থলে ছোট প্রাণী খেয়ে এত বড় দেহ টিকিয়ে রাখা কঠিন ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এটি পানিতে থাকা প্রাচীন মাছ বা নরমদেহী প্রাণী শিকার করত।

তবে সব বিজ্ঞানী এখনো একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ—বিচ্ছুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন লেজের হুল বা পেকটিনস দেখা যায়নি। তবুও গবেষকরা মনে করেন, জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ হলেও এটি বিচ্ছুই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এই গবেষণা প্রমাণ করেছে, পুরোনো জীবাশ্ম আবার নতুনভাবে বিশ্লেষণ করলে অনেক অজানা তথ্য জানা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বড় ও অজানা বিচ্ছুর প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

এই বিশাল বিচ্ছুর আবিষ্কার শুধু একটি অদ্ভুত প্রাণীর গল্প নয়—এটি পৃথিবীর প্রাচীন জীববৈচিত্র্য ও বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও গভীর করে তুলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিচ্ছু ছিল বেসবল ব্যাটের মতো, নতুন গবেষণায় রহস্য উন্মোচন

আপডেট সময় ১০:২০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

পৃথিবীতে একসময় এমন এক বিশাল বিচ্ছু ছিল যার দৈর্ঘ্য প্রায় বেসবল ব্যাটের মতো অর্থাৎ এক মিটারেরও বেশি। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই প্রাচীন প্রাণীর সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আজকের গ্রেট ব্রিটেন অঞ্চলে এই বিচ্ছুটি ঘুরে বেড়াত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রাণীটির নাম Praearcturus gigas (পি. গিগাস)। দীর্ঘদিন ধরে এর জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ভুলভাবে অন্য ধরনের প্রাণী বিশেষ করে লবস্টারের মতো ক্রাস্টেসিয়ান ভেবে এসেছিলেন। কিন্তু লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত জীবাশ্ম এবং নতুন কিছু নমুনা আবার পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা তাদের ধারণা বদলান।

গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রাণীটি আসলে এক ধরনের বিশালাকৃতির প্রাচীন বিচ্ছু। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১ মিটার বা ৩ ফুটেরও বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি এতটাই বড় ও শক্তিশালী ছিল যে সামনে পড়লে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক।
এই বিচ্ছুর শরীরে বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল যেমন—পেটের নিচের অংশে ত্রিভুজাকৃতির একটি গঠন (স্টার্নাম), যা আধুনিক বিচ্ছুর মতোই। একই ধরনের বৈশিষ্ট্য ২০১৫ সালে কানাডায় আবিষ্কৃত আরেকটি প্রাচীন বিচ্ছুতেও দেখা যায়। এ থেকেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই দুই প্রাণী ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিচ্ছুর বড় আকৃতির পাঞ্জা বা চেলা ছিল প্রায় ৬ ইঞ্চি (১৬ সেন্টিমিটার) লম্বা যা বর্তমানের বড় বিচ্ছুর তুলনায় প্রায় চার গুণ বড়।

এই প্রাণীটি ডেভোনিয়ান যুগের শুরুতে বাস করত—যে সময় পৃথিবীতে বেশিরভাগ প্রাণই পানিতে ছিল। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি পুরোপুরি স্থলজ ছিল না। বরং জল ও স্থল দুই জায়গাতেই চলাফেরা করত। এর শরীরের কিছু অংশ, যেমন পেটের পাশে থাকা ফ্ল্যাপের মতো গঠন, সম্ভবত পানিতে সাঁতার কাটতে সাহায্য করত।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এত বড় হওয়ার একটি কারণ ছিল শত্রুর হাত থেকে বাঁচা। তবে এটি কী খেত, তা নিয়ে কিছুটা রহস্য রয়ে গেছে। স্থলে ছোট প্রাণী খেয়ে এত বড় দেহ টিকিয়ে রাখা কঠিন ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এটি পানিতে থাকা প্রাচীন মাছ বা নরমদেহী প্রাণী শিকার করত।

তবে সব বিজ্ঞানী এখনো একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ—বিচ্ছুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন লেজের হুল বা পেকটিনস দেখা যায়নি। তবুও গবেষকরা মনে করেন, জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ হলেও এটি বিচ্ছুই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এই গবেষণা প্রমাণ করেছে, পুরোনো জীবাশ্ম আবার নতুনভাবে বিশ্লেষণ করলে অনেক অজানা তথ্য জানা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বড় ও অজানা বিচ্ছুর প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

এই বিশাল বিচ্ছুর আবিষ্কার শুধু একটি অদ্ভুত প্রাণীর গল্প নয়—এটি পৃথিবীর প্রাচীন জীববৈচিত্র্য ও বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও গভীর করে তুলছে।