ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন বিনিয়োগ আনতে ২৭ দেশে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক : বাণিজ্যমন্ত্রী ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নির্যাতন, মাদারীপুরে প্রতারণার শিকার অর্ধশতাধিক যুবক আবাসিক হোটেলে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

বরফযুগের কঠিন পরিবেশই মানুষের সৃজনশীলতা বাড়িয়েছিল

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মানুষের সৃজনশীলতা শুধু আরামদায়ক পরিবেশে বিকশিত হয়েছে—দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে নতুন এক গবেষণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফযুগের কঠিন ও ভয়াবহ পরিবেশই প্রাচীন মানুষকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল। সেই চাপ থেকেই জন্ম নিয়েছিল উন্নত সরঞ্জাম তৈরির দক্ষতা।

চীনের হেনান প্রদেশের লিংজিং এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার বছর পুরোনো একটি প্রাণী জবাইয়ের স্থান নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা চালান প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সেখানে তারা এমন কিছু পাথরের সরঞ্জাম খুঁজে পেয়েছেন, যা খুব পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এগুলো উন্নত চিন্তাশক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব হিউম্যান ইভোলিউশন’-এ। গবেষণার প্রধান লেখক ইউচাও ঝাও বলেন, সাধারণভাবে মানুষ মনে করে ভালো সময়েই সৃজনশীলতা বাড়ে। কিন্তু এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, কঠিন পরিস্থিতিও মানুষকে নতুন উপায়ে টিকে থাকতে শেখায়।

গবেষকদের মতে, ছোট পাথর দিয়ে বড় পাথরে আঘাত করে এসব সরঞ্জাম বানানো হয়েছিল। এর জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট কৌশল জানা প্রয়োজন ছিল। পাথরগুলো ভিন্ন ভিন্ন আকারে তৈরি করা হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, নির্মাতারা কোন পাথর কীভাবে ভাঙবে, সে সম্পর্কে ধারণা রাখতেন।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই সরঞ্জামগুলোর প্রযুক্তিগত ধরন ইউরোপের নিয়ান্ডারথাল ও আফ্রিকার প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। এতে প্রমাণ মিলছে, উন্নত প্রযুক্তিগত চিন্তা শুধু ইউরোপ বা আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, লিংজিং এলাকায় বসবাস করত ‘হোমো জুলুয়েনসিস’ নামে বিলুপ্ত এক মানবপ্রজাতি। তারা হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে সেখানে জবাই করত। নতুন স্ফটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, জায়গাটি আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ২০ হাজার বছর পুরোনো এবং এটি উষ্ণ সময় নয়, বরং ভয়াবহ শীতল বরফযুগের সময়ের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

বরফযুগের কঠিন পরিবেশই মানুষের সৃজনশীলতা বাড়িয়েছিল

আপডেট সময় ১০:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মানুষের সৃজনশীলতা শুধু আরামদায়ক পরিবেশে বিকশিত হয়েছে—দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে নতুন এক গবেষণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফযুগের কঠিন ও ভয়াবহ পরিবেশই প্রাচীন মানুষকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল। সেই চাপ থেকেই জন্ম নিয়েছিল উন্নত সরঞ্জাম তৈরির দক্ষতা।

চীনের হেনান প্রদেশের লিংজিং এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার বছর পুরোনো একটি প্রাণী জবাইয়ের স্থান নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা চালান প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সেখানে তারা এমন কিছু পাথরের সরঞ্জাম খুঁজে পেয়েছেন, যা খুব পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এগুলো উন্নত চিন্তাশক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব হিউম্যান ইভোলিউশন’-এ। গবেষণার প্রধান লেখক ইউচাও ঝাও বলেন, সাধারণভাবে মানুষ মনে করে ভালো সময়েই সৃজনশীলতা বাড়ে। কিন্তু এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, কঠিন পরিস্থিতিও মানুষকে নতুন উপায়ে টিকে থাকতে শেখায়।

গবেষকদের মতে, ছোট পাথর দিয়ে বড় পাথরে আঘাত করে এসব সরঞ্জাম বানানো হয়েছিল। এর জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট কৌশল জানা প্রয়োজন ছিল। পাথরগুলো ভিন্ন ভিন্ন আকারে তৈরি করা হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, নির্মাতারা কোন পাথর কীভাবে ভাঙবে, সে সম্পর্কে ধারণা রাখতেন।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই সরঞ্জামগুলোর প্রযুক্তিগত ধরন ইউরোপের নিয়ান্ডারথাল ও আফ্রিকার প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। এতে প্রমাণ মিলছে, উন্নত প্রযুক্তিগত চিন্তা শুধু ইউরোপ বা আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, লিংজিং এলাকায় বসবাস করত ‘হোমো জুলুয়েনসিস’ নামে বিলুপ্ত এক মানবপ্রজাতি। তারা হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে সেখানে জবাই করত। নতুন স্ফটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, জায়গাটি আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ২০ হাজার বছর পুরোনো এবং এটি উষ্ণ সময় নয়, বরং ভয়াবহ শীতল বরফযুগের সময়ের।