ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রেলপথ অবরোধ, ট্রেন চলাচল বন্ধ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা ভাটারায় গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ, একই পরিবারের শিশুসহ দগ্ধ ৩ সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প

বরফযুগের কঠিন পরিবেশই মানুষের সৃজনশীলতা বাড়িয়েছিল

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মানুষের সৃজনশীলতা শুধু আরামদায়ক পরিবেশে বিকশিত হয়েছে—দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে নতুন এক গবেষণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফযুগের কঠিন ও ভয়াবহ পরিবেশই প্রাচীন মানুষকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল। সেই চাপ থেকেই জন্ম নিয়েছিল উন্নত সরঞ্জাম তৈরির দক্ষতা।

চীনের হেনান প্রদেশের লিংজিং এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার বছর পুরোনো একটি প্রাণী জবাইয়ের স্থান নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা চালান প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সেখানে তারা এমন কিছু পাথরের সরঞ্জাম খুঁজে পেয়েছেন, যা খুব পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এগুলো উন্নত চিন্তাশক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব হিউম্যান ইভোলিউশন’-এ। গবেষণার প্রধান লেখক ইউচাও ঝাও বলেন, সাধারণভাবে মানুষ মনে করে ভালো সময়েই সৃজনশীলতা বাড়ে। কিন্তু এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, কঠিন পরিস্থিতিও মানুষকে নতুন উপায়ে টিকে থাকতে শেখায়।

গবেষকদের মতে, ছোট পাথর দিয়ে বড় পাথরে আঘাত করে এসব সরঞ্জাম বানানো হয়েছিল। এর জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট কৌশল জানা প্রয়োজন ছিল। পাথরগুলো ভিন্ন ভিন্ন আকারে তৈরি করা হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, নির্মাতারা কোন পাথর কীভাবে ভাঙবে, সে সম্পর্কে ধারণা রাখতেন।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই সরঞ্জামগুলোর প্রযুক্তিগত ধরন ইউরোপের নিয়ান্ডারথাল ও আফ্রিকার প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। এতে প্রমাণ মিলছে, উন্নত প্রযুক্তিগত চিন্তা শুধু ইউরোপ বা আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, লিংজিং এলাকায় বসবাস করত ‘হোমো জুলুয়েনসিস’ নামে বিলুপ্ত এক মানবপ্রজাতি। তারা হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে সেখানে জবাই করত। নতুন স্ফটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, জায়গাটি আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ২০ হাজার বছর পুরোনো এবং এটি উষ্ণ সময় নয়, বরং ভয়াবহ শীতল বরফযুগের সময়ের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

বরফযুগের কঠিন পরিবেশই মানুষের সৃজনশীলতা বাড়িয়েছিল

আপডেট সময় ১০:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মানুষের সৃজনশীলতা শুধু আরামদায়ক পরিবেশে বিকশিত হয়েছে—দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে নতুন এক গবেষণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফযুগের কঠিন ও ভয়াবহ পরিবেশই প্রাচীন মানুষকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল। সেই চাপ থেকেই জন্ম নিয়েছিল উন্নত সরঞ্জাম তৈরির দক্ষতা।

চীনের হেনান প্রদেশের লিংজিং এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার বছর পুরোনো একটি প্রাণী জবাইয়ের স্থান নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা চালান প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সেখানে তারা এমন কিছু পাথরের সরঞ্জাম খুঁজে পেয়েছেন, যা খুব পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এগুলো উন্নত চিন্তাশক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব হিউম্যান ইভোলিউশন’-এ। গবেষণার প্রধান লেখক ইউচাও ঝাও বলেন, সাধারণভাবে মানুষ মনে করে ভালো সময়েই সৃজনশীলতা বাড়ে। কিন্তু এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, কঠিন পরিস্থিতিও মানুষকে নতুন উপায়ে টিকে থাকতে শেখায়।

গবেষকদের মতে, ছোট পাথর দিয়ে বড় পাথরে আঘাত করে এসব সরঞ্জাম বানানো হয়েছিল। এর জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট কৌশল জানা প্রয়োজন ছিল। পাথরগুলো ভিন্ন ভিন্ন আকারে তৈরি করা হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, নির্মাতারা কোন পাথর কীভাবে ভাঙবে, সে সম্পর্কে ধারণা রাখতেন।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই সরঞ্জামগুলোর প্রযুক্তিগত ধরন ইউরোপের নিয়ান্ডারথাল ও আফ্রিকার প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। এতে প্রমাণ মিলছে, উন্নত প্রযুক্তিগত চিন্তা শুধু ইউরোপ বা আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, লিংজিং এলাকায় বসবাস করত ‘হোমো জুলুয়েনসিস’ নামে বিলুপ্ত এক মানবপ্রজাতি। তারা হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে সেখানে জবাই করত। নতুন স্ফটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, জায়গাটি আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ২০ হাজার বছর পুরোনো এবং এটি উষ্ণ সময় নয়, বরং ভয়াবহ শীতল বরফযুগের সময়ের।