আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ইন্টারপোলের সহায়তায় বুধবার সকালে তাকে বাংলাদেশে আনা হয়।
পরে দুপুরে আড়াইহাজার আমলি আদালতে হাজির করা হলে মামলার প্রধান আসামি মোবারক মন্ডল (৪৭) স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুর মোহসীনের আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, আড়াইহাজার থানায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্তের সময় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাহিদ হোসেন রায়হানের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে রুহুল আমিন ওরফে রাব্বি (২৬) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত আব্রাহাম খান ওরফে আলিম খান (২৭) রাজবাড়ীর পাংশা থানার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে আড়াইহাজার উপজেলার শ্রীনিবাসদী এলাকার একটি বালুর মাঠসংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে তার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে।
পিবিআই জানায়, নিহত আব্রাহামের সঙ্গে গ্রেপ্তার রুহুল আমিন রাব্বির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে আব্রাহাম তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এ নিয়ে রাব্বি, তার খালা ও সহযোগীরা হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার একদিন আগে বিদেশ থেকে গোপনে দেশে আসেন মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক মন্ডল। পরে ১৫ ডিসেম্বর পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্রাহামকে আড়াইহাজারে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে তাঁর মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়।
ঘটনার পর মোবারক মন্ডল আবার বিদেশে পালিয়ে যান। পরে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া ও ইন্টারপোলের সহায়তায় কাতারে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, মামলার আরও কয়েকজন আসামি, বিশেষ করে রুহুল আমিন রাব্বির খালা ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















