ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ইমামের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফরিদপুরে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে হাফেজ মাওলানা আলী হোসেন (৫৯) নামে এক মসজিদের ইমামকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার বড় কামইদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন একটি টিনের ঘরে তিনি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি সালথা উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসার হিফজ খানার ছাত্র ছিল। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশে আলী হোসেনের দোকানে যায়। এ সময় আলী হোসেন কৌশলে শিশুটিকে দোকানের পাশে মসজিদের ভেতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

ওই সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেয়।

এই ঘটনায় সেদিনই (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আলী হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটি তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর মোহাম্মদ।

তদন্ত শেষে তিনি আলী হোসেনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী রতন বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।’

তিনি বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এসব অপরাধ দমনে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ইমামের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৮:২২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফরিদপুরে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে হাফেজ মাওলানা আলী হোসেন (৫৯) নামে এক মসজিদের ইমামকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার বড় কামইদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন একটি টিনের ঘরে তিনি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি সালথা উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসার হিফজ খানার ছাত্র ছিল। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশে আলী হোসেনের দোকানে যায়। এ সময় আলী হোসেন কৌশলে শিশুটিকে দোকানের পাশে মসজিদের ভেতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

ওই সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেয়।

এই ঘটনায় সেদিনই (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আলী হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটি তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর মোহাম্মদ।

তদন্ত শেষে তিনি আলী হোসেনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী রতন বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।’

তিনি বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এসব অপরাধ দমনে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।