ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টর হিসেবে চায় ইরান চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প, স্বাগত জানালেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলকে আধুনিক যোগাযোগের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে’ হাজী সেলিমের ২০ বছরের অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিল ঢাকা জেলা প্রশাসন অন্য বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ না দিয়ে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন করুন:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আদিব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলে সংসদ হবে মাইলফলক : মঈন খান ঢাবি মসজিদে সাদিক কায়েমের বিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২০ বসতঘর পুড়ে ছাই একটি মহল জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে’:মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মৃত ঘোষণা, কবর খোঁড়ার পর নড়েচড়ে উঠলেন যুবক

বিয়ের দাবিতে যুবকের অনশন, শেষমেশ ঠাঁই হলো হাসপাতালের বেডে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টিকটকে ভিডিও দেখে ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই প্রেমের পরিণতি দিতে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায় ছুটে আসেন যুবক ইলিয়াস সরদার। প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন তিনি। একপর্যায়ে ছেলে-মেয়ে ও মেয়ের পরিবার বিয়েতে রাজি হলেও শর্তজুড়ে দেওয়া হয়—ইলিয়াসের বাবা-মা উপস্থিত থাকলেই হবে বিয়ে।

কিন্তু পরিবারের সম্মতি মেলেনি। উল্টো ফোনে বকাঝকা করেন বাবা-মা। এতে অভিমান করে প্রেমিকার বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে গিয়ে বিষপান করেন ইলিয়াস। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায়। ইলিয়াস সরদার বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নিচ্চুনপুর গ্রামের আশরাফ সরদারের ছেলে।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে টিকটক ও ফেসবুকের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় ইলিয়াসের। সেই পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি প্রেমিকার বাড়িতে আসেন।

ইলিয়াস বিয়ের দাবি জানালে মেয়ের পরিবার প্রথমে আপত্তি করলেও পরে রাজি হয়। তবে ছেলের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে দেবে না বলে জানায় তারা। বিষয়টি জানালে ইলিয়াসের পরিবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং তাকে বকাঝকা করে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ইলিয়াস।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে ইলিয়াস সরদার বলেন, ‘মেয়ে রাজি, আমিও রাজি, মেয়ের পরিবারও রাজি। কিন্তু আমার পরিবার থেকে কেউ আসছে না, তাই বিয়ে হচ্ছে না। এখন আমি এখানেই থেকে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা-মা বকাবকি করার কারণেই আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করি।’

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিযূষ কুমার সাহা জানান, গত ১১ মে রাতে ইলিয়াস নামে এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ অপসারণ করেছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত হলেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত যুবকের পরিবারের কেউ হাসপাতালে তার খোঁজ নিতে আসেননি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যান্টার্কটিকা থেকে আসছে দুঃসংবাদ

বিয়ের দাবিতে যুবকের অনশন, শেষমেশ ঠাঁই হলো হাসপাতালের বেডে

আপডেট সময় ০৫:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টিকটকে ভিডিও দেখে ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই প্রেমের পরিণতি দিতে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায় ছুটে আসেন যুবক ইলিয়াস সরদার। প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন তিনি। একপর্যায়ে ছেলে-মেয়ে ও মেয়ের পরিবার বিয়েতে রাজি হলেও শর্তজুড়ে দেওয়া হয়—ইলিয়াসের বাবা-মা উপস্থিত থাকলেই হবে বিয়ে।

কিন্তু পরিবারের সম্মতি মেলেনি। উল্টো ফোনে বকাঝকা করেন বাবা-মা। এতে অভিমান করে প্রেমিকার বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে গিয়ে বিষপান করেন ইলিয়াস। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায়। ইলিয়াস সরদার বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নিচ্চুনপুর গ্রামের আশরাফ সরদারের ছেলে।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে টিকটক ও ফেসবুকের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় ইলিয়াসের। সেই পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি প্রেমিকার বাড়িতে আসেন।

ইলিয়াস বিয়ের দাবি জানালে মেয়ের পরিবার প্রথমে আপত্তি করলেও পরে রাজি হয়। তবে ছেলের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে দেবে না বলে জানায় তারা। বিষয়টি জানালে ইলিয়াসের পরিবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং তাকে বকাঝকা করে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ইলিয়াস।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে ইলিয়াস সরদার বলেন, ‘মেয়ে রাজি, আমিও রাজি, মেয়ের পরিবারও রাজি। কিন্তু আমার পরিবার থেকে কেউ আসছে না, তাই বিয়ে হচ্ছে না। এখন আমি এখানেই থেকে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা-মা বকাবকি করার কারণেই আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করি।’

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিযূষ কুমার সাহা জানান, গত ১১ মে রাতে ইলিয়াস নামে এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ অপসারণ করেছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত হলেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত যুবকের পরিবারের কেউ হাসপাতালে তার খোঁজ নিতে আসেননি।