ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতুতে মিলল অদ্ভুত পানি

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

আমাদের সৌরজগতের বাইরে জন্ম নেওয়া এক বিরল ধূমকেতু ঘিরে নতুন ও চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘৩আই/অ্যাটলাস’ নামের এই আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতুটির উৎস এমন এক সৌরজগত, যার পরিবেশ ও জন্মপরিস্থিতি আমাদের সৌরজগতের সঙ্গে মৌলিকভাবে ভিন্ন।

গত বছরের জুলাইয়ে ধূমকেতু ৩আই/অ্যাটলাস প্রথম শনাক্ত হয়। তখন এটি আমাদের সৌরজগতের ভেতর দিয়ে দ্রুতগতিতে অতিক্রম করছিল। এটি এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া মাত্র তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু। ডিসেম্বর মাসে এটি আবার সৌরজগত ত্যাগ করতে শুরু করে। নভেম্বরে নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপও ধূমকেতুটিকে পর্যবেক্ষণ করে।

নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়, চিলির অ্যাটাকামা লার্জ মিলিমিটার/সাবমিলিমিটার অ্যারে (ALMA) রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা ধূমকেতুটির ভেতরের গঠন বিশ্লেষণ করেছেন। এই পর্যবেক্ষণে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুর মধ্যে ডিউটেরিয়াম—হাইড্রোজেনের একটি ভারী আইসোটোপ—শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক লুইস এদুয়ার্দো সালাজার মানজানো জানান, ৩আই/অ্যাটলাসের পানিতে ডিউটেরিয়ামের ঘনত্ব পৃথিবীর মহাসাগরের তুলনায় ৪০ গুণের বেশি এবং আমাদের সৌরজগতের ধূমকেতুগুলোর চেয়ে ৩০ গুণ বেশি। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ধূমকেতুটির জন্ম হয়েছিল অত্যন্ত শীতল এক পরিবেশে, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩০ কেলভিনের নিচে—প্রায় মাইনাস ২৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আগের গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, ধূমকেতুটির বয়স প্রায় ১১০০ কোটি বছর হতে পারে, যা সূর্য ও সৌরজগতের বয়সের দ্বিগুণেরও বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন বস্তু আসলে ‘সময়-ক্যাপসুল’, যা আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বহু প্রাচীন যুগের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবেশ সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা দেয়। ভবিষ্যতে আরও আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু শনাক্ত হলে মহাবিশ্বের ইতিহাস বুঝতে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতুতে মিলল অদ্ভুত পানি

আপডেট সময় ০৯:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

আমাদের সৌরজগতের বাইরে জন্ম নেওয়া এক বিরল ধূমকেতু ঘিরে নতুন ও চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘৩আই/অ্যাটলাস’ নামের এই আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতুটির উৎস এমন এক সৌরজগত, যার পরিবেশ ও জন্মপরিস্থিতি আমাদের সৌরজগতের সঙ্গে মৌলিকভাবে ভিন্ন।

গত বছরের জুলাইয়ে ধূমকেতু ৩আই/অ্যাটলাস প্রথম শনাক্ত হয়। তখন এটি আমাদের সৌরজগতের ভেতর দিয়ে দ্রুতগতিতে অতিক্রম করছিল। এটি এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া মাত্র তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু। ডিসেম্বর মাসে এটি আবার সৌরজগত ত্যাগ করতে শুরু করে। নভেম্বরে নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপও ধূমকেতুটিকে পর্যবেক্ষণ করে।

নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়, চিলির অ্যাটাকামা লার্জ মিলিমিটার/সাবমিলিমিটার অ্যারে (ALMA) রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা ধূমকেতুটির ভেতরের গঠন বিশ্লেষণ করেছেন। এই পর্যবেক্ষণে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুর মধ্যে ডিউটেরিয়াম—হাইড্রোজেনের একটি ভারী আইসোটোপ—শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক লুইস এদুয়ার্দো সালাজার মানজানো জানান, ৩আই/অ্যাটলাসের পানিতে ডিউটেরিয়ামের ঘনত্ব পৃথিবীর মহাসাগরের তুলনায় ৪০ গুণের বেশি এবং আমাদের সৌরজগতের ধূমকেতুগুলোর চেয়ে ৩০ গুণ বেশি। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ধূমকেতুটির জন্ম হয়েছিল অত্যন্ত শীতল এক পরিবেশে, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩০ কেলভিনের নিচে—প্রায় মাইনাস ২৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আগের গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, ধূমকেতুটির বয়স প্রায় ১১০০ কোটি বছর হতে পারে, যা সূর্য ও সৌরজগতের বয়সের দ্বিগুণেরও বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন বস্তু আসলে ‘সময়-ক্যাপসুল’, যা আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বহু প্রাচীন যুগের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবেশ সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা দেয়। ভবিষ্যতে আরও আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু শনাক্ত হলে মহাবিশ্বের ইতিহাস বুঝতে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।