ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের দেখভাল করাই আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ‘জুলাই চেতনা’কে পুঁজি করে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত করা হবে না:সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজে প্রতিবন্ধকতা বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘শ্বাসরুদ্ধ’ করছে : জাতিসংঘের মহাসচিব এপ্রিলের ২৯ দিনে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল প্রবাসী আয় সংসদে আমাদের প্রতিনিধিদের কণ্ঠ এবং রাজপথে আন্দোলন চলমান থাকবে: আসিফ মাহমুদ ৫-৮ আগস্ট অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করব, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়: সংসদে গয়েশ্বর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পর হরমুজে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে: মোজতবা সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন জামায়াতের তাহের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন সামরিক পদক্ষেপ ক্ষতির কারণ হবে: পুতিন

সবাই পেছন থেকে প্রিন্সেস, প্রিন্সেস বলে আমাকে ডাকছিল: ভাবনা

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

উৎসবের পরিবেশটা ছিল সত্যিই অসাধারণ। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নির্মাতা, অভিনেতা, সমালোচক–সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলা, কাজ নিয়ে মতবিনিময়–এ সবই আমার জন্য ছিল এক নতুন শেখার ক্ষেত্র। পুরো আয়োজনে একটা শিল্পময় আবহ কাজ করছিল, যা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্ত ছিল যখন আমার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ প্রদর্শিত হচ্ছিল। এ অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব নয়। মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশকে অনেক মিস করছি। দেশের কোনো সিনেমা প্রদর্শিত হলে কাছের মানুষেরা থাকতেন। এ কারণে বাংলাদেশ সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশের সকল কলাকুশলী, দেশের মিডিয়া সবাইকে খুব মিস করছি। হলের ভেতর বসে আমি নিজেকে আর শুধু দর্শক হিসেবে রাখতে পারিনি। পর্দায় নিজের কাজ দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল–এই গল্পটা শুধু আমার নয়, আমাদের সবার। এক ধরনের শিহরণ কাজ করছিল, আবার একটু নার্ভাসনেসও ছিল,দর্শকরা কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটি নিয়ে। সিনেমাটি দেখার পর অনেকেই এগিয়ে এসে কথা বলেছেন। নানা দেশের চলচ্চিত্র সমালোচক, নির্মাতারা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিছেন। সব প্রতিক্রিয়াই ছিল ইতিবাচক।

কেউ গল্পের গভীরতা নিয়ে কথা বলেছেন, কেউ চরিত্রের আবেগ নিয়ে। সবাই পেছন থেকে প্রিন্সেস, প্রিন্সেস বলে আমাকে ডাকছিল। সেই সময় পেছনে বসে একজন একজন ফিল্ম ক্রিটিক আমাকে স্কার্ফ উপহার দিয়েছিলেন। স্টার খচিত প্রিন্ট করা রুমালটি দেখতে দারুণ। এটি অনেক যত্ন করে রেখে দিয়েছি।

আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং আনন্দের জায়গা ছিল, ভাবনা থেকে প্রিন্সেস রোজি হয়ে ওঠা। এই চরিত্রটি শুধু একটি চরিত্র নয়, বরং একটি সংগ্রামের প্রতীক। তাকে নিজের ভেতরে ধারণ করতে হয়েছে, তার আবেগ, তার যন্ত্রণা, তার স্বপ্ন–সবকিছু অনুভব করতে হয়েছে। আমি সব সময় চেষ্টা করি চরিত্রকে নিজের ভেতরে জায়গা দিতে, তাকে জীবন্ত করে তুলতে। রোজির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বিশেষ করে প্রিন্সেস রোজি চরিত্রটি তাদের মনে দাগ কেটেছে শুনে খুব ভালো লেগেছে। আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছ থেকে এমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া আমাকে প্রচণ্ডভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। মনে হয়েছে, আমাদের গল্পগুলোও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে। আর লালগালিচার অভিজ্ঞতাও ছিল অবিস্মরণীয়। আমি ইচ্ছা করেই কোনো বিদেশি ব্র্যান্ডের পোশাক পরিনি। বরং দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চেয়েছি। সেদিন আমি সিঁদুর লাল কাতান ওভারকোট পরেছিলাম, যা ডিজাইন করেছিলেন তন্বী কবির। এই পোশাকটি পরার পেছনে আমার একটাই ভাবনা ছিল–আমি যেন আমার সংস্কৃতিকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটি। অনেকেই আমার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন, যা আমাকে গর্বিত করেছে।

এই সফরটা ছিল প্রায় আট দিনের। সময়টা খুব বেশি না হলেও অভিজ্ঞতায় ভরপুর। তবে সত্যি বলতে, পুরো সময়টাই যেন কাজ আর অভিজ্ঞতার মধ্যেই কেটে গেছে। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে মস্কোর শহরটাকে একটু দেখার ইচ্ছা ছিল। এবার সে সুযোগ একেবারে পাইনি। মস্কো শহরে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা, স্থাপত্য, শহরের সৌন্দর্য– সবিকিছু মিলিয়ে জায়গাটা আমাকে মুগ্ধ করার মতো। যদি সময় সুযোগ পাই মস্কো শহটি আবার ঘুরবো। নানা স্মৃতি রোমন্থন করব।

মস্কো উৎসবের এই দিনগুলো আমার জীবনের এক অমূল্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানে আমি শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি। মনে হয়েছে, আমাদের গল্প বলার শক্তি আছে, আমাদের সংস্কৃতির সৌন্দর্য আছে আর সেটি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার দায়িত্বও আমাদেরই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনগণের দেখভাল করাই আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সবাই পেছন থেকে প্রিন্সেস, প্রিন্সেস বলে আমাকে ডাকছিল: ভাবনা

আপডেট সময় ০৭:৫২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

উৎসবের পরিবেশটা ছিল সত্যিই অসাধারণ। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নির্মাতা, অভিনেতা, সমালোচক–সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলা, কাজ নিয়ে মতবিনিময়–এ সবই আমার জন্য ছিল এক নতুন শেখার ক্ষেত্র। পুরো আয়োজনে একটা শিল্পময় আবহ কাজ করছিল, যা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্ত ছিল যখন আমার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ প্রদর্শিত হচ্ছিল। এ অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব নয়। মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশকে অনেক মিস করছি। দেশের কোনো সিনেমা প্রদর্শিত হলে কাছের মানুষেরা থাকতেন। এ কারণে বাংলাদেশ সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশের সকল কলাকুশলী, দেশের মিডিয়া সবাইকে খুব মিস করছি। হলের ভেতর বসে আমি নিজেকে আর শুধু দর্শক হিসেবে রাখতে পারিনি। পর্দায় নিজের কাজ দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল–এই গল্পটা শুধু আমার নয়, আমাদের সবার। এক ধরনের শিহরণ কাজ করছিল, আবার একটু নার্ভাসনেসও ছিল,দর্শকরা কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটি নিয়ে। সিনেমাটি দেখার পর অনেকেই এগিয়ে এসে কথা বলেছেন। নানা দেশের চলচ্চিত্র সমালোচক, নির্মাতারা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিছেন। সব প্রতিক্রিয়াই ছিল ইতিবাচক।

কেউ গল্পের গভীরতা নিয়ে কথা বলেছেন, কেউ চরিত্রের আবেগ নিয়ে। সবাই পেছন থেকে প্রিন্সেস, প্রিন্সেস বলে আমাকে ডাকছিল। সেই সময় পেছনে বসে একজন একজন ফিল্ম ক্রিটিক আমাকে স্কার্ফ উপহার দিয়েছিলেন। স্টার খচিত প্রিন্ট করা রুমালটি দেখতে দারুণ। এটি অনেক যত্ন করে রেখে দিয়েছি।

আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং আনন্দের জায়গা ছিল, ভাবনা থেকে প্রিন্সেস রোজি হয়ে ওঠা। এই চরিত্রটি শুধু একটি চরিত্র নয়, বরং একটি সংগ্রামের প্রতীক। তাকে নিজের ভেতরে ধারণ করতে হয়েছে, তার আবেগ, তার যন্ত্রণা, তার স্বপ্ন–সবকিছু অনুভব করতে হয়েছে। আমি সব সময় চেষ্টা করি চরিত্রকে নিজের ভেতরে জায়গা দিতে, তাকে জীবন্ত করে তুলতে। রোজির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বিশেষ করে প্রিন্সেস রোজি চরিত্রটি তাদের মনে দাগ কেটেছে শুনে খুব ভালো লেগেছে। আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছ থেকে এমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া আমাকে প্রচণ্ডভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। মনে হয়েছে, আমাদের গল্পগুলোও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে। আর লালগালিচার অভিজ্ঞতাও ছিল অবিস্মরণীয়। আমি ইচ্ছা করেই কোনো বিদেশি ব্র্যান্ডের পোশাক পরিনি। বরং দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চেয়েছি। সেদিন আমি সিঁদুর লাল কাতান ওভারকোট পরেছিলাম, যা ডিজাইন করেছিলেন তন্বী কবির। এই পোশাকটি পরার পেছনে আমার একটাই ভাবনা ছিল–আমি যেন আমার সংস্কৃতিকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটি। অনেকেই আমার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন, যা আমাকে গর্বিত করেছে।

এই সফরটা ছিল প্রায় আট দিনের। সময়টা খুব বেশি না হলেও অভিজ্ঞতায় ভরপুর। তবে সত্যি বলতে, পুরো সময়টাই যেন কাজ আর অভিজ্ঞতার মধ্যেই কেটে গেছে। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে মস্কোর শহরটাকে একটু দেখার ইচ্ছা ছিল। এবার সে সুযোগ একেবারে পাইনি। মস্কো শহরে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা, স্থাপত্য, শহরের সৌন্দর্য– সবিকিছু মিলিয়ে জায়গাটা আমাকে মুগ্ধ করার মতো। যদি সময় সুযোগ পাই মস্কো শহটি আবার ঘুরবো। নানা স্মৃতি রোমন্থন করব।

মস্কো উৎসবের এই দিনগুলো আমার জীবনের এক অমূল্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানে আমি শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি। মনে হয়েছে, আমাদের গল্প বলার শক্তি আছে, আমাদের সংস্কৃতির সৌন্দর্য আছে আর সেটি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার দায়িত্বও আমাদেরই।