অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র যা-ই করুক, ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তো বটেই, এমনকি জোটভুক্ত প্রভাবশালী দেশগুলো ও রাশিয়া আলাদাভাবে এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
ইইউর অভিমত, ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের করা পরমাণু চুক্তি ‘কাজ করছে’। ইউরোপীয় জোট এ চুক্তি ‘ভেঙে দেওয়াটা কোনো একটা দেশের ওপর নির্ভর করে না’ বলে মন্তব্য করে। এ ছাড়া ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য বলেছে, ইরানের পরমাণু চুক্তি ‘আমাদের পরস্পরের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থসংশ্লিষ্ট। ’
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান পরমাণু চুক্তি মেনে চলছে মর্মে দেওয়া মার্কিন প্রশাসনের প্রতিবেদনে তিনি আর সই করবেন না। প্রতি ৯০ দিন পর পর এসংক্রান্ত প্রতিবেদন দেয় মার্কিন প্রশাসন। তাঁর এ ঘোষণার পর ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসবে কি না, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের হাতে ৬০ দিন থাকছে।
ট্রাম্পের এ ঘোষণায় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘আক্ষেপ করে’ বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তে চুক্তির প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে না বলে তাঁদের প্রত্যাশা। চীন এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করলেও ট্রাম্পের বত্তৃদ্ধতার আগে তারা আহ্বান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেন এ চুক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে, এমন অভিযোগে পশ্চিমা বিশ্ব তাদের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অচলাবস্থা থেকে বেরোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে চুক্তি করে ইরান। পরমাণু কার্যক্রমে লাগাম টানার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে ইরান চুক্তি সই করে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষ এমনকি এত দিন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনও বলে আসছিল, ইরান চুক্তি মেনে চলছে। কিন্তু এবার ট্রাম্প তেমন স্বীকারোক্তি দেবেন না বলে জানিয়েছেন, যদিও এর আগে দুইবার তিনি কংগ্রেসের সামনে এ কথা বলেছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























