ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

১০ হাজার সূর্যের শক্তি ছড়াচ্ছে প্রথম শনাক্ত ব্ল্যাক হোল সিগনাস এক্স-১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

প্রায় ছয় দশক আগে আবিষ্কৃত এক মহাজাগতিক রহস্য আজও বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করছে। প্রথম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া ব্ল্যাক হোল সিগনাস এক্স-১ এখনো মহাকাশে বিশাল শক্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি এমন শক্তিশালী কণার ধারা (জেট) ছুড়ছে, যার শক্তি প্রায় ১০ হাজার সূর্যের সমান।

১৯৬৪ সালে প্রথম এই ব্ল্যাক হোল শনাক্ত হয়। বিজ্ঞানীরা তখনো ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দিহান ছিলেন। সম্প্রতি কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে এক গবেষণা ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে এই জেটগুলোর শক্তি নির্ণয় করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, এই জেটগুলো লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এগুলো এত উজ্জ্বল কারণ কণাগুলো আলোর গতির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তখন তারা প্রচণ্ড শক্তি ছড়ায় এবং অদ্ভুত আচরণ করে—যা বহু আগে আলবার্ট আইনস্টাইন তত্ত্বে বলেছিলেন।

বিশ্বজুড়ে সংযুক্ত টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, নক্ষত্রের বাতাস (তারকা থেকে আসা শক্তিশালী গ্যাস প্রবাহ) এই জেটগুলোকে বাঁকিয়ে দেয়। অনেকটা ফোয়ারার পানিকে বাতাস যেমন দোলায়, তেমনভাবেই। এতে তাদের শক্তি বোঝা যায়।

হিসাব করে দেখা গেছে, এই জেটগুলো আলোর গতির প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার বেগে চলে।

গবেষক ডক্টর স্টিভ প্রাবু জানান, ব্ল্যাক হোলে পদার্থ ঢোকার সময় যে শক্তি তৈরি হয়, তার প্রায় ১০ শতাংশ এই জেটের মাধ্যমে বাইরে বের হয়ে যায়। আগে এটি ধারণা করা হলেও সরাসরি প্রমাণ পাওয়া কঠিন ছিল।

প্রায় ৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই ব্ল্যাক হোল সূর্যের তুলনায় প্রায় ২১ গুণ ভারী। এটি এইচডিই ২২৬৮৬৮ নামের একটি তারার সঙ্গে যুগল কক্ষপথে ঘোরে এবং প্রতি ৫ দশমিক ৬ দিনে একবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

১০ হাজার সূর্যের শক্তি ছড়াচ্ছে প্রথম শনাক্ত ব্ল্যাক হোল সিগনাস এক্স-১

আপডেট সময় ১০:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

প্রায় ছয় দশক আগে আবিষ্কৃত এক মহাজাগতিক রহস্য আজও বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করছে। প্রথম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া ব্ল্যাক হোল সিগনাস এক্স-১ এখনো মহাকাশে বিশাল শক্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি এমন শক্তিশালী কণার ধারা (জেট) ছুড়ছে, যার শক্তি প্রায় ১০ হাজার সূর্যের সমান।

১৯৬৪ সালে প্রথম এই ব্ল্যাক হোল শনাক্ত হয়। বিজ্ঞানীরা তখনো ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দিহান ছিলেন। সম্প্রতি কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে এক গবেষণা ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে এই জেটগুলোর শক্তি নির্ণয় করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, এই জেটগুলো লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এগুলো এত উজ্জ্বল কারণ কণাগুলো আলোর গতির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তখন তারা প্রচণ্ড শক্তি ছড়ায় এবং অদ্ভুত আচরণ করে—যা বহু আগে আলবার্ট আইনস্টাইন তত্ত্বে বলেছিলেন।

বিশ্বজুড়ে সংযুক্ত টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, নক্ষত্রের বাতাস (তারকা থেকে আসা শক্তিশালী গ্যাস প্রবাহ) এই জেটগুলোকে বাঁকিয়ে দেয়। অনেকটা ফোয়ারার পানিকে বাতাস যেমন দোলায়, তেমনভাবেই। এতে তাদের শক্তি বোঝা যায়।

হিসাব করে দেখা গেছে, এই জেটগুলো আলোর গতির প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার বেগে চলে।

গবেষক ডক্টর স্টিভ প্রাবু জানান, ব্ল্যাক হোলে পদার্থ ঢোকার সময় যে শক্তি তৈরি হয়, তার প্রায় ১০ শতাংশ এই জেটের মাধ্যমে বাইরে বের হয়ে যায়। আগে এটি ধারণা করা হলেও সরাসরি প্রমাণ পাওয়া কঠিন ছিল।

প্রায় ৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই ব্ল্যাক হোল সূর্যের তুলনায় প্রায় ২১ গুণ ভারী। এটি এইচডিই ২২৬৮৬৮ নামের একটি তারার সঙ্গে যুগল কক্ষপথে ঘোরে এবং প্রতি ৫ দশমিক ৬ দিনে একবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করে।